কলারোয়ায় আমজাদের কান্ড !


1386 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কলারোয়ায় আমজাদের কান্ড !
মে ২৬, ২০১৭ কলারোয়া ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ::
আমি সংবাদ সম্মেলন করে আমাকে ও আমার পরিবারকে স্বামীর ভিটা থেকে আমজাদ ও তার বাহিনীর উচ্ছেদের প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম। আর বাড়ি না ফিরতেই বিশাল ক্ষমতাধর আমজাদ হোসেন ও চেলাচামুন্ডারা আমাকে ও আমার ছেলেকে মারপিট করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। আমি এখন পথে পথে ঘুরছি।
এমন আকুতি জানিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে আরও একটি সংবাদ সম্মেলন করলেন কলারোয়ার ঝিকরা গ্রামের শেখ আবু জাফরের স্ত্রী হোসনেয়ারা খাতুন। তিনি বলেন আমার বাবা একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মীর হায়াতুননবী, ভাদরা, মীরপাড়া, সাতক্ষীরা (গেজেট নম্বর ২৩২)। অথচ সে সম্মানটুকুও রাখতে চাননি জেলা পরিষদের সদস্য বিশাল ক্ষমতাধর ব্যক্তি আমজাদ হোসেন।
হোসনেয়ারা বলেন তার শ্বশুর জীবিত থাকাকালিন তার স্বামী আবু জাফর মারা যান। জমিও তখন ভাগবাটোয়ারা করা হয়নি। স্বামীর মৃত্যুর পর শ্বশুর তার চার ছেলে ও দুই পৌত্রর নামে ১৮ শতক জমি দানপত্র করে দেন। সেই সূত্রে আমার দুই ছেলের নামে ৪ শতক জমি ১৯৯০ সালে রেকর্ড হয়। সেই অবধি আমি আমার ছেলেদের নিয়ে ২০ বছর যাবত ওই জমিতে বসবাস করছি। তিনি বলেন তার শ্বশুরের দ্বিতীয় স্ত্রী মৃত রোকেয়া খাতুনের পূর্বের পক্ষের সন্তান লাবসার শেখ আশুর ছেলে শেখ হাফিজুর রহমান স্থানীয় শেখ বদিউজ্জামান ও শেখ আমজাদ হোসেনের উস্কানিতে ওই সম্পত্তি জোর করে দখল করার পাঁয়তারা চালায়। এই লক্ষ্যে ঝিকরার শেখ জিল্লুর ছেলে আশিকুর রহমান বাপ্পি, রামচন্দ্রপুরের শেখ ইয়াকুব আলির ছেলে আবু সাঈদকে ব্যবহার করে আমাদের নানাভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে। শেখ বদিউজ্জামান ও শেখ আমজাদ হোসেনের উসকানিতে শেখ হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে গত ১৯ এপ্রিল আমার বাড়ি ঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে ২০ হাজার টাকা ও ৫ ভরি সোনার অলংকার লুট করে নিয়ে যায় তারা। হোসনেয়ারা  এর বিরুদ্ধে ১৮ এপ্রিল আদালতের মাধ্যমে ওই জমিতে ১৪৪ ধারা জারি করান।  কিন্তু আমজাদ গং আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আমাদের সিঁড়ির ঘরে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেখানে ধারালো অস্ত্র নিয়ে পাহারায় থাকে। এ সময় শেখ আমজাদ ক্ষমতা জাহির করে বলেন, কিসের আব্রা আদালত। আমিই আদালত। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী এসেও কিছু করতে পারবেন না। থানা পুলিশ সবই আমার হাতে। তিনি জানান আমজাদ হোসেন একজন ফেনসিডিলখোর। টাকা পেলে সে যা তা করতে পারে। ২০১৪ সালে প্রাইভেট কারে ফেনসিডিল বহনের সময় সে ধরা খায়। জেল খেটে ফেনসিডিল চোরাকারবারি করে সে এখন কোটিপতি। তার দাপটে নিরীহ মানুষ এলাকায় টিকতে পারছেনা। হোসেনেয়ারা বলেন এসব বিষয়ে আমি সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ করেছিলাম গত ১৯ মে তারিখে। ওই রাতেই আমার বাড়িতে হানা দেয় আমজাদ হাফিজুর  বদিউজ্জামান গং। তারা আমাদের মারপিট করে কাপড় চোপড় ছিঁড়ে তাড়িয়ে দিয়েছে। এর পর থেকে আমি আমার ছেলেদের নিয়ে পথে পথে ঘুরছি। হোসনেয়ারা বলেন, আমি ন্যায় বিচার চাই। আমি আমার স্বামীর জমিতে উঠতে চাই। এটা আমার ও আমার ছেলেদের আইনগত অধিকার। অথচ আমজাদের মতো নেশাখোর দুর্বৃত্তরাই তাতে বাধা দিয়ে আমাদের বেদখল করেছে। এ ব্যাপারে হোসনেয়ারা প্রশাসনের সহায়তা কামনা করেন।
তিনি বলেন বিষয়টি আমি তালা কলারোয়া আসনের সংসদ সদস্য এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ ও সাতক্ষীরা সদর আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবিকে অবহিত করে প্রতিকার প্রার্থনা করেছি।