কলারোয়ায় ইউএনও’র নির্দেশ উপেক্ষা করে বাল্য বিয়ে। বর ও ঘটক আটক, কাজী পলাতক


430 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কলারোয়ায় ইউএনও’র নির্দেশ উপেক্ষা করে বাল্য বিয়ে। বর ও ঘটক আটক, কাজী পলাতক
আগস্ট ৮, ২০১৫ কলারোয়া ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার :
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশকে উপেক্ষা করে ৫০ হাজার টাকা যৌতুকের চুক্তিতে নগদ ১২ হাজার টাকা নিয়ে বাল্য বিবাহ সম্পন্ন হওয়ায় বর ও ঘটককে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে বেশ ধুমধাম করে এই বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর সন্ধ্যায় তাদেরকে আটক করা হয়। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি জেলার কলারোয়া উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের দয়ারডাঙ্গা গ্রামে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দয়ারডাঙ্গা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ১২ বছরের কন্যা ইভা খাতুনের সাথে পার্শ্ববর্তী সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের বড়ালিয়া গ্রামের মৃত রিয়াজ উদ্দীনের ছেলে আব্দুর রহমান (২৬) এর বিয়ে পাকাপাকি ও দিন ধার্য হয়। বিয়েতে যৌতুক হিসেবে ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে অগ্রিম ১২ হাজার টাকা বিয়ের খরজ হিসেবে প্রদান করা হয়। শুরু হয় বিয়ের প্রস্তুতি। পূর্বনির্ধারিত তারিখ অনুযায়ি শুক্রবার দুপুরে বিয়ের আয়োজন করা হয়। বিয়ের পূর্ব মুহুর্তে স্থানীয় লোকজন কলারোয়া ইউএনও অনুপ কুমারকে বাল্য বিয়ের বিষয়টি জানান। তিনি তাৎক্ষনিকভাবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পরিষদের সচিবকে দিয়ে বিয়ে বন্ধের নির্দেশ পাঠান। এর পর হঠাৎ সরগরম হয়ে উঠে বিয়ের মজলিস।
অভিযোগ রয়েছে, সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড সদস্য রেজাউল করিম দায়িত্ব নিয়ে বাল্য বিবাহ সম্পন্ন করে বিকালে নতুন বউকে বাড়িতে নিয়ে আসেন । পরবর্তিতে স্থানীয়রা বিষয়টি ইউএনও এবং জেলা প্রশাসককে অবহিত করার পর সন্ধ্যায় হঠাৎ বাড়িতে পুলিশ পৌছে নতুন বর আব্দুর রহমান ও ঘটক দয়ারডাঙ্গা গ্রামের জবান আলীকে আটক করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে নিয়ে আসেন। একই সময়ে পালিয়ে যায় বিবাহ সম্পন্নকারি কাজী শার্শার কায়বা ইউনিয়ন থেকে আসা আবু তাহের।
এ ব্যাপারে কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনুপ কুমার রাতে জানান, শনিবার সকাল ১০ টার মধ্যে এব্যাপারে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হবে।
কলারোয়া থানার ওসি মাসুদ করিম শনিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে  জানান, এখনও তাদেরকে সাজা দেয়া হয়নি। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা বলে আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে জেল হাজতে পাঠানো হবে।