কলারোয়ায় ওসি’র বিরুদ্ধে তদন্ত : স্বাক্ষ্য দিতে আসায় এক ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর হামলা !


1366 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কলারোয়ায় ওসি’র বিরুদ্ধে তদন্ত : স্বাক্ষ্য দিতে আসায় এক ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর হামলা !
ডিসেম্বর ২৯, ২০১৬ কলারোয়া ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

বিশেষ প্রতিনিধি ::
সাতক্ষীরার কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ এমদাদুল হক শেখের গ্রেফতার বানিজ্যের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে আসা পুলিশ কর্মকর্তার সামনে স্বাক্ষ্য দিতে আসা আবুল কালাম নামে এক ইউপি চেয়ারম্যানসহ কয়েকজনকে মারপিট করে আহত করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে কলারোয়া পৌরসদের ডাকবাংলার গেটের সামনে। এ ঘটনার ফলে তদন্তকর্মকর্তা তদন্ত বন্ধ করে ডাকবাংলা ছেড়ে চলে যান।

জানা গেছে, ওসি এমদাদুল হক শেখ কলারোয়া থানায় যোগদান করার পর থেকে তার গ্রেফতার বানিজ্যে উপজেলার পৌর সদরসহ ১২টি ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ আতংক ও ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে এলাকা ছেড়ে অন্যত্রে  আশ্রয় নেয়। এমনকি ওসি’র অত্যাচারে উপজেলার সাধারণ মানুষ জমি বিক্রি,গরু বিক্রি,ফসল বিক্রি করতে পারে না,বিদেশ থেকে বাড়ি আসতে পারেনা ও চিকিৎসার জন্য টাকাও জোগাড় করতে পারেনা। এমনকি সম্প্রতি তার নিদের্শে কলারোয়া থানার আনোয়ার হোসেন ও সাঈদ নামে দুই দারোগা গভীর রাতে উপজেলার পাটুলিয়া গ্রামের এক নিরীহ ব্যক্তিকে ক্রস ফায়ারের ভয় দেখিয়ে কন্যার চিকিৎসার জন্য জমা রাখা ২৩ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে আসে এবং সকালে ফেরত দেয়। এ ঘটনায় ওই দুই দারোগা ক্লোজড হয়। এ রকম ক্ষতিগ্রস্থ ৯০ জনের একটি তালিকা দিয়ে গত কয়েকদিন আগে উপজেলার ১০টি ইউপি চেয়ারম্যান ওসি এমদাদুল হকের বিরুদ্ধে মহা পুলিশ পরিদর্শক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।

ওই অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ হেড কোয়াটার থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে টিম তদন্তে আসেন। কলারোয়া ডাকবাংলাতে তদন্ত চলাকালীন সময়ে ওসি সাহেবের পোষা দালাল ও অভিযুক্ত দারোগারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাক্ষ্য দিতে আসা উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবুল কালামসহ কয়েকজনকে এলোপাতাড়ী মারপিট করে আহত করে। এরপর স্বাক্ষ্য দিতে আসা ক্ষতিগ্রস্থ মানুষরা ভয়ে  আতংকে স্বাক্ষ্য না দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশের হেড কোয়াটার থেকে আসা তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত বন্ধ করে ডাকবাংলা ছেলে চলে যান।

এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার বিকাল ৫ টার দিকে পুলিশের হেড কোয়াটার থেকে আসা তদন্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোরশেদ আলমের কাছে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,এখনও তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ না হলে কিছু বলা যাবে না।