কলারোয়ায় কেরালকাতা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৯ প্রার্থী মাঠে


755 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কলারোয়ায় কেরালকাতা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে  ৯ প্রার্থী মাঠে
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৬ কলারোয়া ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কলারোয়া (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা :
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা না হলেও উপজেলার ৮নং কেরালকাতা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সম্ভব্য ৯ প্রার্থী ইতোমধ্যে গণসংযোগ শুরু করেছেন। পাড়া-মহল¬ায় ও রাস্তার মোড় এবং বিভিন্ন বাজারে ডিজিটাল ব্যানার ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো ইউনিয়ন ব্যাপী। সম্বব্য প্রার্থীরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহনের পাশাপাশি ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে নানা তৎপরতা চালানোসহ দলীয় মনোনয়ন লাভের জন্য উপজেলা,জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সংগে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। তাদের তৎপরতার ফলে ভোটারদের মধ্যেও উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

santu-6
আগামী মার্চ মাসে ইউপি নির্বাচন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রথম ধাপে কলারোয়া উপজেলা রয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। সরকার ইতোমধ্যে ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠানের ঘোষনা দিয়েছেন। এরপরই সম্বব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা গণ সংযোগ শুরু করেছেন এবং দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আশায় দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। তারা নির্বাচনী মাঠে পচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে উপজেলার কেরালকাতা ইউনিয়নে সরকার দলীয় আওয়ামী লীগের ৬ জন ও বিএনপি’র ৩ প্রার্থী গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করায় জামায়াত ইসলামী দল দলীয়ভাবে নির্বাচন করতে পারবে না। বিধায় তাদের কোন প্রার্থীও মাঠে দেখা যাচ্ছে না।
সম্ভব্য কেরালকাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক কলারোয়া সরকারী কলেজের ভিপি ও যুবলীগের সভাপতি বারবার কারাবরণকারী  বর্তমার চেয়ারম্যান স.ম মোরশেদ আলী, সাবেক জেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সরদার, ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি মাস্টার হাফিজুর রহমান, ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মসিয়ার রহমান, আ’লীগ নেতা আব্দুর রউফ,ফারুক আহম্মেদ মন্টু, উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ আমানুল¬াহ কলেজের প্রভাষক তোফাজ্জেল হোসেন সেন্টু, উপজেলা বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক সাবেক সেনা সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলামের নাম শোনা যাচ্ছে।

hamid-2
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের অলি-গলি, পাড়া-মহল¬ায় উঠান বৈঠক,রাস্তার মোড়ে এবং চায়ের দোকানে প্রার্থীদের নিয়ে বিচার বিশে¬ষণ চলছে। সম্বব্য প্রার্থীরা ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষন করতে নানা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এ ছাড়া রাস্তা,ব্রীজ,কালভার্ট, বিদ্যুৎ সংযোগ, সুপেয় পানি সরবরাহ, পানি নিষ্কাষন,বাল্য বিয়ে বন্ধ ও মাদকমুক্ত ইউনিয়নসহ নানা ধরণের জনকল্যাণমুখী কাজের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
অপরদিকে ইউনিয়নের সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন,প্রথম বারের মতো সরকার দলীয়ভাবে দলীয় প্রতীক দিয়ে ইউপি নির্বাচন করায় এবার  আ’লীগ ও বিএনপি’র মধ্যে লড়াই হবে।
চেয়ারম্যান প্রার্থী আ’লীগ নেতা বর্তমান চেয়ারম্যান স.ম মোরশেদ আলী জানান, তিনি গত ৫ বছর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কাজ করেছেন। বিধায় আগামী নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে আশাবাদী। তিনি আরো জানান, যদি তিনি দলীয় মনোনয়ন নাও পান তাহলে দলীয় সিদ্ধান্তকে মেনে নিবেন।
আ’লীগের আরেক প্রার্থী মাস্টার হাফিজুর রহমান জানান, ছাত্র জীবন থেকে অদ্যাবধি দলের নিবেদিত একজন কর্মী হিসেবে কাজ করে আসছেন। তাছাড়া ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি দলীয় নেতা কর্মীদের সু-সংগঠিত করে একটি শক্তিশালি দূর্গ হিসেবে গড়ে তুলেছেন। তিনি সততা,নিষ্ঠা,কর্তব্য পরায়নের মধ্যে দিয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন মুলক কাজ অব্যাহত রেখেছেন। যার কারণে সকল জনগনের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে তিনি দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হবেন। তিনিও যদি দলীয় মনোনয়ন নাও পান তাহলে দলীয় সিদ্ধান্তকে মেনে নিবেন বলে জানান।
এদিকে বিএনপি’র তিন প্রার্থী যথাক্রমে জানান, তারা আগামী ইউপি নির্বাচনে অত্র ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে অংশ গ্রহন করার জন্য প্রচার প্রচাররণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে দলীয়ভাবে মনোনয়ন যাকে দিবেন কেন তাকে সমর্থন দিয়ে কাজ করবেন বলে তারা জানান।

ইউপি নির্বাচনে আ’লীগের একাধিক প্রার্থী মাঠে কাজ করার ব্যাপারে উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ফিরোজ আহম্মেদ স্বপনের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান,আগামী ইউপি নির্বাচনে প্রত্যেক ইউণিয়নে তার দলের একাধিক প্রার্থী মাঠে কাজ করছেন। তবে আওয়ামী লীগ দলীয়ভাবে যাকে মনোনয়ন দিবে সেই হবে আ’লীগের মনোনীত প্রার্থী।
তিনি আরো বলেন, যদি কেউ দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ভোটে অংশ গ্রহন করেন তাহলে তার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে বিএনপি’রও একাধিক প্রার্থী মাঠে কাজ করার ব্যাপারে উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি বিএনপি’র মুখপাত্র অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রইচ উদ্দীনের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, বিএনপি’র একাধিক প্রার্থী মাঠে কাজ করতে পারেন। তবে বিএনপি দলীয়ভাবে যাকে মনোনয়ন দিবে সেই হবে বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী। তিনি আরো বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তার দলের প্রার্থীই বিপুল ভোটে জয়ী হবেন।