কলারোয়ায় গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে আগ্রহ বেড়েছে চাষীদের


78 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কলারোয়ায় গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে আগ্রহ বেড়েছে চাষীদের
মে ৩০, ২০২১ কলারোয়া কৃষি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

হাবিবুল্লাহ বাহার ::

গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে সফলতা পাওয়ায় আগ্রহ বেড়েছে বাঁটরা, ধানদিয়া,ক্ষেত্রপাড়া সহ কলারোয়ার বিভিন্ন চাষীদের।কলারোয়া উপজেলার বাঁটরা গ্রামের কৃষকদের মধ্যো টমেটো চাষের আগ্রহ চরমে, অসময়ে টমেটো চাষে দাম ভালো পাওয়ায় তাদের আগ্রহ দিন কে দিন বেড়েই চলেছে।গত বছরের তুলনায় এবার দ্বিগুন হারে বেড়েছে টমেটো চাষী।তবে অন্যান্য চাষের তুলনায় টমেটো চাষে দ্বিগুন লাভ কিন্তু ব্যয়ও কম নয়, তবুও পিচপা হচ্ছেন না কৃষকেরা । বছরের এই সময়টা এলেই শুরু হয়ে যায় টমেটো চাষের প্রক্রিয়া বাঁশ খুঁটি পলিথিন দিয়ে টমেটো গাছের ছাউনি তৈরীর কাজ।এমনি মনোমুগ্ধ কর দৃশ্য চোখে পড়েছে বাঁটরা,ধানদিয়া,খোর্দ্দবাঁটরায়। ছাউনি তৈরীর কাজ প্রায় শেষ চারা রোপনের জন্য তৈরী করা হচ্ছে রোপনের স্থান , কোন কোন জমিতে টমেটোর চারা রোপন করছে আবার কেউবা জমি করছেন জমি প্রস্তুতের কাজ।
বাঁটরা গ্রামের চাষীদের এ সাফল্যে দেখে অন্যরাও উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে।

উপজেলার ধানদিয়া গ্রামের টমেটো চাষী সালাউদ্দীন জানান, তিনি ৩৩ শতক জমিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটো বারি-৮জাত আবাদ করেছেন , তার জমিতে টমেটোর চারা গাছ রোপনের প্রক্রিয়া চলছে।তিনি আরও জানিয়েছেন বর্ষা মৌসুমের(গ্রীষ্মককালীন)টমেটো চাষের ব্যয় অত্যান্ত বেশি হওয়ায় হিমসিম খেতে হচ্ছে।বিঘা প্রতি টমেটো চাষে খরচ পড়ে ১.৫/২লক্ষ টাকা।টমেটো চাষে বড় সমস্য কী জানতে চাইলে আব্দুল আলীম জানান টমেটো গাছের গোড়া পঁচা রোগ ও প্রচণ্ড রোদে তুলশি পড়ে গাছ মারা যেতে পারে।তিনি আরও জানিয়েছে সরকারি ভাবে আর্থিক সাহায্য পেলে চাষের পরিমান বাড়াবে বলে জানিয়েছেন আব্দুল আলীম সহ অনেকে।সেই সাথে তিনি জানিয়েছেন টমেটো চাষের বিষয়ে কৃষি অফিস থেকে তারা কোন পরামর্শ পাননি এবং ইউনিয়ন ব্লক সুপারভাইজর মাঠে আসেন না কৃষকদের পরামর্শ ও পাই না তার কাছ থেকে।

এছাড়া একই এলাকার আকবর আলী তিনি ৩৩শতক জমিতে বারি-৮জাতের টমেটো চাষ করেছে।

ধানদিয়ার এরশাদ আলী ৩৩শতক জমিতে বারি-৮জাতের টমেটোর আবাদ করেছেন।

তবে কৃষক পর্যায়ে কলারোয়ার বিভিন্ন এলাকার টমেটো চাষীদের দাবি সরকারী ভাবে আর্থিক সাহায্য পেলে তারা সঠিক সময়ে আবাদ এবং টমেটো চাষের পরিমান বাড়াবে বলে জানিয়েছে।বিভিন্ন এনজিও সংস্থা থেকে চড়া সুদে ঋন নিয়ে টমেটো চাষ করছেন তারা তাই সরকারী ভর্তুকি বা ঋনের দাবি করছে কৃষকেরা।

উপজেলার কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম জানান, কলারোয়ার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের মধ্যে বর্ষা মৌসুমের (গ্রীষ্মককালীন)টমেটো চাষের আগ্রহ বেড়েছে অনেক গুন। এলাকার মাটি টমেটো চাষের উপযোগী ও লাভজনক হওয়ায় কৃষকদের টমেটো চাষে, উদ্বুদ্ধ করনের কাজ প্রতিনিয়ত করছে কৃষি অফিস।চলতি মৌসুমে কলারোয়ায় ৫০হেক্টর জমিতে বারি-৪ ও বারি-৮ জাতের টমেটোর আবাদ হচ্ছে।এ বছর লক্ষ মাত্রা ছাড়িয়েছে টমেটো চাষের।তিনি আরও বলেন বর্ষা মৌসুমের জন্য উদ্ভাবিত বারি-৪ ও বারি-৮ জাতের টমেটো চাষ করতে পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
সাদা পলিথিনের ছাউনি দিয়ে বর্ষা মৌসুমে টমেটো চাষ খুবই সহজ। উপজেলা কৃষি অফিস টমেটো চাষিদের প্রয়োজনীয় সকল ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এবং সরকারি ভাবে প্রান্তিক টমেটো চাষীদের বিভিন্ন ভাবে সহযোগীতা করছে কৃষি অফিস।