কলারোয়ায় ফোর মার্ডার : হত্যাকারীদের খুঁজে বের করার দাবি


269 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কলারোয়ায় ফোর মার্ডার : হত্যাকারীদের খুঁজে বের করার দাবি
অক্টোবর ১৭, ২০২০ কলারোয়া ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার :
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় একই পরিবারের চার জনকে জবাই করে হত্যার কারন এখনো উৎঘটন করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে নিহত শাহিনুর রহমানের ছোট ভাই রায়হানুল ইসলামকে শুক্রবার এই হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তার দশ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে আদালতে। ১৮ অক্টোবর রোববার রিমান্ডের আবেদনের শুনানি হবে। এদিকে, নিহত শাহিনুরের বৃদ্ধা মা ও বোন শনিবার অনুষ্ঠিত এক মানবন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বলেছেন ‘নৃশংস এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় রায়হানুল জড়িত থাকতে পারেনা। তাকে হয়রানি করা হচ্ছে। এই হত্যাকান্ডের সাথে প্রকৃতপক্ষে যারা জড়িত তাদেরকে আমরা খুঁজে বের করা দাবি জানাচ্ছি’।

একই পরিবারের চার সদস্যের নৃশংস হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে স্থানীরা।

শনিবার ( ১৭ অক্টোবর ) সকালে নিহত শাহিনুরের বাড়ির সামনে যশোর-সাতক্ষীরা সড়কে নিহতের পরিবার ও খলসি এলাকাবাসীর উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

ঘণ্টা ব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচিতে নিহত শাহিনুরের মা শাহিদা খাতুন, বোন আছিয়া খাতুন, ইউপি সদস্য আব্দুস সাত্তার, ইউপি সদস্য শোহারাব, মহিলা ইউপি সদস্য মমতাজ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম সহ শিক্ষক শিক্ষার্থী এলাকাবাসী বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, গত ১৫ অক্টোবর কলারোয়ার হেলাতলা ইউনিয়নের গ্রামের মৃত শাহজাহানের ছেলে শাহিনুর তার স্ত্রী ও তার দুই শিশু সন্তানকে মধ্যরাতে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করে৷ এ ঘটনায় নিহতের শাহিনুরের শাশুড়ি ময়না খাতুন বাদী হয়ে কলারোয়া থানায় অজ্ঞাত আসামি করে একটি মামলা দায়ের করলে মামলাটি রেকর্ড করার পর তদন্তের জন্য সিআইডির কাছে হস্তান্তর করে থানা পুলিশ৷ পরে শুক্রবার নিহতের ছোট ভাই রায়হানুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি । তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। রবিবার শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত৷

এ ঘটনায় হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার মূল আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে তার মা-বোনসহ এলাকাবাসী ।

মানববন্ধনে নিহত শাহিনুরের বোন আছিয়া খাতুন হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি জানিয়ে বলেন, আমার ছোট ভাই রায়হানুল ইসলামকে এই হত্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে৷ তাকে আটক করে হয়রানি করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আমার ভাই রাায়হানুল জড়িত থাকতে পারেনা। কারা আমার বড় ভাই শাহিনুর ও তার স্ত্রী সন্তানদেরকে হত্যা করেছে তা পুলিশকেই খুঁজে বের করতে হবে।

ইউপি সদস্য আব্দুস সাত্তার বলেন একই পরিবারের ৪ জনকে নৃশংস হত্যার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি প্রশাসন। নিহত শাহিনুর এর ভাই রায়হানুলের তার পরিবারের সাথে সুসম্পর্ক ছিল। কোন ধরনের ঝকড়াঝাটি ছিল না।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন নিহত শাহিনুরের মা শাহিদা খাতুন (৭০) । তিনি বলেন, আমি আমার আদরের বড় সন্তান শাহিনুরসহ আমার বৌ মা, আদরের দুই শিশুকে হারিয়েছি। আমি হত্যাকারীদের বিচার চাই। এই ঘটনার সাথে আমার ছোট ছেলে রায়হানুল জড়িত থাকতে পারেনা। ভাই-ভাই এর মধ্যে কোন গোলোযোগ ছিল না। তাদের মধ্যে মধুর সম্পর্ক ছিল। কারা এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত তাদের খুঁজে বের করতে হবে। তিনি এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় গ্রেফতার তার ছেলে রায়হানুল ইসলামের মুক্তির দাবি জানান।

গত বৃহস্পতিবার রাতে ফোর মার্ডার মামলা রুজু হওয়ার পর থেকে মামলাটির তদন্ত ভার দেয়া হয়েছে সিআইডি বিভাগকে। মামলায় এজহার নামীয় কোন আসামী নেই। তবে শুক্রবার নিহত শাহিনুরের ভাই রায়হানুল ইসলামকে এই হত্যা মামলায় গ্রেফতার করেছে সিআইডি। আদালতে তার ১০ দিনের রিমান্ডও চেয়েছে মামলার তদন্তকারী সিআইডি কর্মকর্তা। তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রায়হানুলের হাতে ধারালো অস্ত্রের কাটা চিহ্ন পাওয়া গেছে। মনে হচ্ছে ওই রাতেই সেটি কাটা। ওইদিন কি ভাবে তার হাত কেটে গেলো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রায়হানুলের উপর সন্দেহের এটি অন্যতম কারণ। এছাড়া প্রতিবেশি আকবরের সাথে জমিজমা নিয়ে বিরোধের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া হত্যাকান্ডের পিছুনে অন্যকোন যোগসূত্র রয়েছে কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

#