কলারোয়ায় ট্যাক্সের প্রায় ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালানোর সময় ৪ এনজিও কর্মী আটক


1173 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কলারোয়ায় ট্যাক্সের প্রায় ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালানোর সময় ৪ এনজিও কর্মী আটক
মে ৯, ২০১৮ কলারোয়া ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কে এম আনিছুর রহমান,কলারোয়া ::
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ১নং জয়নগর ইউনিয়নে ভুয়া রশিদে আদায়কৃত ট্যাক্সের প্রায় ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালানোর সময় স্থানীয় জনতা ৪ এনজিও কর্মীকে আটক করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় আরো ৫ জন এনজিও কর্মী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। বর্তমানে ওই চার এনজিও কর্মী ইউনিয়ন পরিষদের কঠোর নজরদারীতে রয়েছে বলে সরেজমিনে দেখা যায়।
নজরদারীতে থাকা এনজিওকর্মীরা হলো- কুষ্টিয়ার পূর্বমিল পাড়া এলাকার মৃত সামছুদ্দীনের ছেলে নইমুজ্জামান (৩২), সোহাগ হুসাইন (২৮),ইমামুল হোসেন (২৬) ও হায়দার আলি (২৭)।
ইউনিয়ন পরিষদ সূত্র জানায়,স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সামছুদ্দীন আল মাসুদ বাবু তার ইউনিয়নে ট্যাক্সের টাকা আদায় করার জন্য ‘পল্লী এ্যাসেসমেন্ট প্রস্তুত ও আদায় প্রকল্প” নামে কুষ্টিয়ার এক বেসরকারী সংস্থাকে চুক্তি ভিত্তিক দায়িত্ব দেয়। চুক্তি হয়-ওই ইউনিয়নে যারা ট্যাক্সের আওতাভুক্ত হবে তাদের নামের তালিকা করে একটি এ্যাসেসমেন্ট তৈরী করা, এ্যাসেসমেন্ট অনুযায়ী শতকরা ৭ ভাগ ট্যাক্সের মুল্য নির্ধারণ করা, আদায়কৃত টাকার শতকরা ২০ ভাগ এনজিও কর্মীরা পাবে এবং বাকি টাকা ইউনিয়ন পরিষদে জমা হবে। চুক্তি মোতাবেক এনজিও কর্মীরা এ্যাসেসমেন্ট তৈরী করে ৩ হাজার ৫৩৬ হোল্ডিং নম্বর দেয়। প্রত্যেকটি হোল্ডিং নম্বরধারীদের ১০০ টাকা থেকে ৫৫০ টাকা পর্যন্ত ট্যাক্স ধার্য্য করা হয়। যা আদায় হলে মোট টাকার পরিমান দাড়াবে প্রায় ১০ লাখ টাকা। একপর্যায়ে গত ২৪ এপ্রিল থেকে এনজিওকর্মী টিম লিডার নইমুজ্জামানের নেতৃত্বে ইউনিয়ন পরিষদের রশিদ বইয়ের সিলিপ দিয়ে তারা নয়জন ইউনিয়নের ৯ ওয়ার্ডে ট্যাক্সের টাকা আদায় করতে শুরু করে। কিন্তু দেখা যায়,টাকা আদায়ের পর যে সিলিপ দেওয়া হয় তার ৯০ ভাগ সিলিপ ভুয়া। যা ইউনিয়ন পরিষদ সরবরাহকৃত রশিদ বইয়ের সাথে গরমিল আছে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হয়। বিষয়টি স্থানীয় লোকজন স্ব-স্ব ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে গোপনে ইউপি সচিবকে অবহিত করেন। ইউপি সচিব আসাদুল ফারুক গোপনে যাচাই-বাচাই করে দেখতে পায় অধিকাংশ হোল্ডিংধারীদের ভুয়া রশীদ দেওয়া হয়েছে। যা পরিষদ থেকে সরবরাহকৃত সিলিপের সাথে মিল নেই। এরপর স্থানীয় জনতা ওই নয়জন এনজিও কর্মীকে আটক করতে গেলে আগেই বুঝতে পেরে ৫ এনজিও কর্মী পালিয়ে যায়। আর বাকি চারজনকে আটক করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে সোর্পদ করে। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান ঢাকায় থাকায় তারই নির্র্দেশে ইউপি সচিব ও ইউপি সদস্যরা তাদেরকে আটকে না রেখে কঠোর নজরদারীতে রাখে।
এ ব্যাপারে ইউপি সচিব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এলাকায় না থাকায় ওই চার এনজিওকর্মীকে কঠোর নজরদারীতে রাখা হয়েছে। চেয়ারম্যান সাহেব এলাকায় আসলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ইউপি চেয়ারম্যান সামছুদ্দীন আল মাসুদ জানান, বিয়য়টি আমি শুনেছি। ইতোমধ্যে ইউপি সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এনজিও কর্মীদের টিম লিডারকে নিয়ে ইউনিয়ন বাসির নিকট সরবরাহকৃত ভাউচার ও পরিষদ থেকে সরবরাহকৃত ভাউচার মিল করে যেগুলো ভূয়া সেগুলো আলাদা করতে। ওই ভুয়া ভাউচারের টাকা এনজিও কর্মীদের নিকট থেকে আদায় করে নেওয়া হবে।

এনজিও কর্মীদের টিম লিডার মইনুজ্জামান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,ভাউচারগুলো মিল করা হচ্ছে। ভুয়া ভাউচারগুলো টাকা আমি দিয়ে দেব। কারণ আমার সাথে ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাক্সের টাকা আদায়ের ব্যাপারে চুক্তি হয়। আমার লোকজনই এভাবে ভুয়া রশিদ দিয়ে টাকা কালেকশন করে পালিয়ে গেছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীন জানান,এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। আপনার নিকটই শুনলাম। বাইরের লোকজন দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাক্সের টাকা আদায় করা যাবে কি-না ? এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আজকাল বিভিন্ন সংস্থার লোকজন দিয়ে এভাবে ট্যাক্সের টাকা আদায় করা হচ্ছে।