কলারোয়ায় তপ্ত বৈশাখে তীব্র তাপপ্রবাহ


375 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কলারোয়ায় তপ্ত বৈশাখে তীব্র তাপপ্রবাহ
এপ্রিল ২৬, ২০১৬ কলারোয়া ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কে এম আনিছুর রহমান,কলারোয়া প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলাসহ দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তীব্র তাপপ্রবাহ। ঝড়-বৃষ্টিহীন তপ্ত অসহনীয় দর্বিসহ বৈশাখ মানুষসহ জীবজন্তুর জীবন ওষ্ঠাগত করে তুলেছে। নিত্যন্তই প্রয়োজন ব্যতিত ঘরের বাইরে কেউ বের হচ্ছে না। মঙ্গলবার দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস,যা দেশের সর্বোচ্চ। আবহাওয়াবিদরা বলেছেন, তাড়াতাড়ি বৃষ্টির কোন সম্ভাবনা নেই। তার অর্থ গরমের কষ্ট আরো প্রলম্বিত হবে। অবশ্য সপ্তাহ খানেকের মধ্যে বৃষ্টিপাত না হলে কৃষকদের ইরি-বোরা ফসল পুরোপুরি ঘরে উঠে যাবে। যা চাষীর পাশাপাশি দেশের অর্থনীতির জন্য সু-খবর হতে পারে।
মঙ্গলবার অসহনীয় তপ্ত একটি দিন। খা খা রোদে বাইরে তাকানো দুস্কর ছিল। বাতাসে যেন আগুনের হল্কা। লু হাওয়ায় চামড়া পুড়ে যাওয়ার জোগাড়। রাজপথ হয়ে উঠেছিল আগুনসম। দুই সপ্তাহের বেশী সময় ধরে চলা তাপ প্রবাহে কলারোয়াসহ দক্ষিন-পশ্চিম অঞ্চল ছাড়াও দেশের বেশীরভাগ এলাকার জনজীবন বিপর্যন্ত হয়ে পড়েছে। বাতাসে আর্দ্রতা বেশী থাকায় অসহনীয় গরম অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়াবিদরা বলেছেন,চলমান তাপপ্রবাহ থাকবে আরো কিছু দিন। বৃষ্টির জন্য আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে বৈশাখের মাঝামাঝি সময়ে এমন আবহাওয়া অস্বাভাবিক নয়।
সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলা একটি জনবহুল প্রাণচাঞ্জল্য কর্মব্যস্ত একটি শহর। কিন্তু বৈশাখের তাপপ্রবাহে শুধু মানুষের প্রাণচাঞ্জল্যকে ম্লান করেনি ব্যবসা বানিজ্যেও বিরুপ প্রভাব ফেলেছ। ভ্যাপসা গরম সীমাহীন তাপদাহ মানুষ বাজারমুখি বা শহরমুখি হচ্ছে না। ফলে ব্যবসায়ীরা কেবলমাত্র দোকান খুলে বসে আছে। নেই কোন বেচাকেনা। এমনকি ব্যবসায়ীদের এ মাসে ঘর ভাড়ার টাকাও হয়তো  বেচাকেনা হবে না। প্রচন্ড তাপপ্রবাহে ভ্যান,নছিমন,করিমন,বাস ট্রাকেও ভাড়া হচ্ছে না। যদি ভাড়া হয় তবে যাত্রী সংখ্যা কম। ফলে তারাও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কসহ বাজারের মধ্যে বিভিন্ন মার্কেটেও কোন জনসমাগম নেই। সারা শহরটা যেন জনমানবহীন একটি শহর।
কলারোয়া বাজরের নছিমন চালক আজগর আলী জানান, তিনি খোরদো রাস্তায় নছিমন চালান, সারা দিন ব্যাপী এক খ্যাপ লোকজন নিয়ে যান। গরমের কারণে প্রতিনিয়ত যাত্রী সংখ্যা কমে যাচ্ছে।
স্কুল ছাত্রী আনজুয়ারা খাতুন জানান, প্রচন্ড গরমে স্কুলে থাকতে না পেরে স্কুল ছুটি না দিলেও বাড়ি চলে যাচ্ছেন।
কলারোয়া বাজারের মুদি দোকানদার লুৎফর রহমান জানান, দোকানের বেচাকেনার অবস্থা খুব খারাব,দোকান খুলে বসে আছেন কিন্তু প্রচন্ড তাপপ্রবাহের কারণে বাজারে কোন ক্রেতা নেই।
ফুটপাতে ওষুধ বিক্রেতা বৃদ্ধ আবুল হোসেন জানান, ভোর সকালে খুব কষ্ট করে রাস্তার পাশে ফুটপাতে বস্তা বিছিয়ে গাছড়া ওষুধ নিয়ে বসি কিন্তু তাপদাহের কারণে বেলা ১১ টার পরে আর বসতে পারিনা। তাছাড়া গরমের কারণে বাজারে লোকজনও আসেনা। বিধায় গত ১৫ দিন যাবৎ তার সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান। সব মিলিয়ে কলারোয়ায় তপ্ত বৈশাখে তীব্র তাপপ্রবাহ,মানুষসহ জীব জন্তুর জীবন ওষ্ঠগত করে তুলেছে।