কলারোয়ায় নতুন পে-স্কেলে বেতন পেতে সাড়ে ৭ লাখ টাকা ঘুষ বানিজ্য !


401 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কলারোয়ায় নতুন পে-স্কেলে বেতন পেতে সাড়ে ৭ লাখ টাকা ঘুষ বানিজ্য !
এপ্রিল ১৩, ২০১৬ কলারোয়া ফটো গ্যালারি শিক্ষা
Print Friendly, PDF & Email

কলারোয়া থেকে কে এম আনিছুর রহমান :
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিকট থেকে নতুন পে-স্কেলে বেতন দিতে ৭ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকার ঘুষ আদায় করা হয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের বিরুদ্ধে এ উৎকোচ আদায় করার অভিযোগ উঠেছে। আর এ ঘুষ দিয়েও শিক্ষকরা মাসের পর মাস নতুন পে-স্কেলে বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।
তথ্যানুসন্ধ্যানে জানা গেছে, উপজেলা শিক্ষা অফিস ও উপজেলা হিসাব রক্ষন অফিসে টাকা না দেওয়ায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনার পরেও এরিয়া বিলসহ উপজেলার ১২৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১২৭ জন প্রধান শিক্ষক ও নতুন জাতীয়করণ হওয়া সহকারী শিক্ষকরা এখনও নতুন পে-স্কেলে বেতন উঠাতে পারেননি। এদিকে তাড়াতাড়ি বিল তৈরী করার জন্য শিক্ষা অফিস বাবদ উপজেলার ১২৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬৩৭ জন শিক্ষকের নিকট থেকে ৪০০ টাকা করে ২ লক্ষ ৫৪ হাজার ৮০০ টাকা উৎকোচ আদায় করা হয়েছে। এ ছাড়া নব্য সরকারী ৬০টি স্কুলের ২২৮ জন শিক্ষকের মধ্যে ১০৪ জন সহকারী শিক্ষকদের নিকট থেকে যাদের তিনটি টাইম স্কেল তাদের নিকট থেকে ৩ হাজার টাকা, যাদের ২টি টাইম স্কেল তাদের নিকট থেকে ২ হাজার ৫শত টাকা এবং যাদের ১ টি টাইম স্কেল তাদের নিকট থেকে দেড় হাজার টাকা করে ২ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকা এবং নব্য সরকারী ৪৭ জন প্রধান শিক্ষককের নিকট থেকে টাইম স্কেলের একটি কাগজে সিল স্বাক্ষর করা বাবদ স্বয়ং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ৫ হাজার টাকা করে ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা গ্রহন করাসহ মোট ৭ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা উৎকোচ হিসেবে আদায় করা হয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আকবার হোসেনের নেতৃত্বে কতিপয় শিক্ষক নেতারা ওই টাকা তুলেছেন বলে অভিযোগ। সাধারণ শিক্ষকদের প্রশ্ন ঘুষ দেওয়ার পরেও কি কারনে তারা এখনও নতুন পে-স্কেলের বেতন উত্তোলন করতে পারল না।
উপজেলা শিক্ষক সমিতির একটি সুত্র জানায়, বেতন বিল তৈরী অর্থাৎ ফিকসেশন করার জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আকবার হোসেনের নেতৃত্বে শিক্ষক সমিতির সভাপতি রবিউল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল্লাহ ১২৭ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬৩৭ জন শিক্ষকের নিকট থেকে ৪০০ টাকা করে ২ লক্ষ ৫৪ হাজার ৮০০ টাকা আদায় করেছে। এসব টাকার সিংগভাগই উপজেলা শিক্ষা অফিসারের পকেটে।
এছাড়া উপজেলার নতুন জাতীয়করণ হওয়া ৬০টি স্কুল থেকে ১০৪ জন শিক্ষকের নিকট থেকে এরিয়া বিল, টাইম স্কেল ও বেতন সমন্বয় বাবদ ২ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকা উৎকোচ হিসেবে আদায় করা হয়েছে। আর এ টাকাও উপজেলা শিক্ষা অফিসার আকবর হোসেনের নেতৃত্বে আদায় করেন উপজেলার খাসপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালযের  শিক্ষক মাহবুব হোসেন,চক জয়নগর স্কুলের  শিক্ষক কুদ্দুস ও তালুন্দিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ওবায়দুর রহমান।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আকবর হোসেন জানান, বেশ কিছু শিক্ষকের কাগজে ভুল  এবং তার অফিসে জনবল কম থাকায় বিল দিতে বিলম্ব হচ্ছে। ইতোমধ্যে আগের সরকারী স্কুলের সহকারী শিক্ষকদের বিল ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নব্য সরকারী শিক্ষকদের বিল আগামী সপ্তাহে ছেড়ে দেওয়া হবে। তবে টাকা বা ঘুষ উঠানোর ব্যাপারে তিনি কিছই জানেন না বলে জানান।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক প্রধান শিক্ষক নুরুল্লাহ নতুন পে-স্কেলের ফিকসেশন বাবদ অর্থাৎ বিল তৈরী করার জন্য শিক্ষক প্রতি ৪০০ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন। তবে তারা শিক্ষকদের নিকট থেকে ওই টাকা আদায় করেননি। স্ব-স্ব শিক্ষকরা নিজ দায়িত্বে শিক্ষা অফিসে জমা দিয়েছেন বলে তারা জানান।
নতুন জাতীয়করণ হওয়া ৬০টি স্কুল থেকে ১০৪ জন শিক্ষকের নিকট থেকে ঘুষ বাবদ  ২ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকা আদায়কারী ওই ৩ শিক্ষক এরিয়া বিল,টাইম স্কেল ও বেতন সমন্বয় বাবদ টাকা আদায় করার কথা স্বিকার করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নব্য সরকারী একাধিক প্রধান শিক্ষক জানান,উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তাদের ৪৭ জন প্রধান শিক্ষকের টাইম স্কেলের আবেদনে সুপারিশ করা বাবদ আবেদন প্রতি ৫ হাজার টাকা করে মোট ২ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা উৎকোচ হিসেবে গ্রহন করেছেন।

উপজেলা হিসাব রক্ষক কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান,তিনি সহ তার অফিসের কোন কর্মকর্তা এ ব্যাপারে কোন টাকা ঘুষ বাবদ চাওয়া হয়নি। কারণ এটা তারসহ তার অফিসের কর্মকর্তাদের  অফিশিয়াল দায়িত্ব ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী একাধিক সাধারণ শিক্ষকরা জানায়,উত্তোলনকৃত টাকার কিছু অংশ হিসাব রক্ষক অফিসে, কিছু অংশ আদায় কারী শিক্ষকরা আর বাকি টাকা সবই প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের পকেটে। ফলে তারা নতুন পে-স্কেলে এরিয়াসহ বেতন পেতে হয়রানীর শিক্ষার হচ্ছে। তারা অভিযোগ আকারে আরো জানান,টাকা না দিলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার  আকবার হোসেন ও হিসাব রক্ষক অফিসার নজরুল ইসলাম কোন কাজ করেন না। তারা আরো জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিসারসহ শিক্ষক নেতারা প্রায় সময় বিভিন্ন অজুহাতে তাদের নিকট থেকে উৎকোচ আদায় করেন। এটা তাদের ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী রাকিবুল ইসলাম রকিব উপজেলার ৬৩৭ জন শিক্ষকের নিকট থেকে ৪০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে বলে স্বীকার করে জানান, শিক্ষক নেতাদের বাড়ি দুরে হওয়ায় শিক্ষা অফিসার স্যারের নির্দেশে সব শিক্ষকরা তার কাছে এই টাকা জমা দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে প্রধান মন্ত্রী,শিক্ষা মন্ত্রী,শিক্ষা সচিব,জেলা প্রশাসক,কলারোয়া উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা। একই সাথে তারা নতুন স্কেলে বেতন তোলার নামে উৎকোচ আদায়কারী কতিপয় শিক্ষক ও শিক্ষক নেতা,উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা  অফিসার আকবার হোসেন ও উপজেলা হিসাব রক্ষক অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।