কলারোয়ায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ । পানিবন্দি মানুষের ত্রাণের দাবি


463 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কলারোয়ায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ । পানিবন্দি মানুষের ত্রাণের দাবি
আগস্ট ২, ২০১৫ কলারোয়া ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কে,এম আনিছুর রহমান,কলারোয়া থেকে :
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় বন্যার পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। চারিদিকে কেবল পানি আর পানি। পানিবন্দী মানুষ অনাহারে, অর্ধহারে, না খেয়ে সীমাহীন দুঃখ দূর্দশার মধ্যে দিনাতিপাত করছে। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে আর উজান থেকে নেমে আসা ঢল, কপোতাক্ষের উপছে পড়া পানি এবং তীরের ভেঁড়িবাধ ভেঙ্গে যাওয়া, পানি অপসরণের ব্যবস্থা না থাকায় উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।  হাজার হাজার একর ফসলি জমি জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি পানি বন্দী হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। প্রতিদিন পানি বাড়তেই আছে। মৎস্য ও কৃষিতে কোটি কোটি টাকার ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে। ভেঙ্গে পড়েছে ব্যবসা বানিজ্যসহ শিক্ষা ব্যবস্থা। অনেক এলাকায় রাস্তার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। এলাকায় সু-পেয় পানি সংকট ও পানি বাহিত রোগ  ও সাপের উপদ্রব দেখা দিচ্ছে। পানিবন্দী দরিদ্র মানুষের কাজ কর্ম না থাকায় তারা অসহায় হয়ে পড়েছে।
কপোতাক্ষের তীরবর্তী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও অনেক স্কুল বুক সমান পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে ওই সব স্কুলের শিক্ষার্থীদের পাঠদান দেওয়া হচ্ছে উচু কোন জায়গায়। বিশেষ করে সরসকাটি ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও গাজনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সর্ম্পন্ন ডুবে যাওয়ায় ছাত্র-ছাত্রীদেরকে গাজনা গ্রামের একটি মসজিদে পাঠদান দেওয়া হচ্ছে বলে জানা যায়।  এ ছাড়া  সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়ে গেছে বীজতলাসহ হাজার হাজার বিঘা জমির আমন ধান। কপোতাক্ষ নদ  ও বেত্রবতী নদী সংলগ্ন উপজেলার দেয়াড়া, জযনগর, যুগিখালী, কুশোডাঙ্গা, জালালাবাদ, কেরালকাতা, কয়লা ও লাঙ্গলঝাড়া ইউনিয়নের প্রত্যেকটি গ্রামের মাঠের  পর মাঠ ফসলি জমির উপর  পানি থৈ -থে করছে। রোববার সরেজমিনে গিয়ে এসব চিত্র দেখা গেছে ।
এ ছাড়া সীমান্তবর্তী সোনাই নদী সংলগ্ন সোনাবাড়িয়া, কেড়াগাছি ও চন্দনপুর ইউনিয়নের রামভদ্রপুর, ন’কাটি বিল, বয়ারডাঙ্গা, বিক্রমপুর সহ পার্শ্ববর্তী এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠে পানি থই থই করছে। দেখলে যেন মনে হয় বিশাল জলধারা। কয়েকটি স্থান দিয়ে পানির প্রবাহে রীতিমত বন্যার আশংকায় শঙ্কিত সেখানকার সাধারণ মানুষ।
একই চিত্র ইছামতি ঘেষা যশোরের কায়বা-গোগা ইউনিয়ন সংলগ্ন কলারোয়ার কয়েকটি গ্রাম। ওই এলাকার ভবানিপুর, বিলপাড়া, রুদ্রপুর, দাউখালিসহ অন্যান্য গ্রামের পানির চাপ কলারোয়ার কাদপুর, গোয়ালপাড়া, চন্দনপুর, গয়ড়াকে হুমকিতে ফেলেছে।

পানি বন্দী মানুষের কাছে এখনও তেমন কোন ত্রান পৌছায়নি।  গত দুই দিন আগে দেয়াড়া ইউনিয়নে ৬০০ পরিবারের মধ্যে মাথাপিছু ৫ কেজি আর জয়নগর ইউনিয়নে  ১০০ পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে ত্রাণের চাল বিতরণ করা হয়েছে। যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল ।  বিশুদ্ধ পানি বা স্যানিটেশনের সুব্যবস্থা না থাকায় ডায়রিয়া, সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে দেয়াড়া ইউনিয়নে কিছু খাওয়ার সেলাইন ও ৬টি ল্যাট্রিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলার  আর কোথাও কোন ত্রান পৌছায়নি। এদিকে সরকারী ভাবে কিছু ত্রান পৌছালেও বেসরকারী সংস্থা বা এনজিও থেকে এখনও পর্যন্ত সহায়তা পায়নি বলে  আশ্রয় কেদ্রের লোকজন  জানান।
উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শেখ ফিরোজ আহম্মদ জানান, পানির চাপে কপোতাক্ষের ভেড়িবাঁধ ভেঙ্গে তার ইউনিয়নের ধানদিয়া, ক্ষেত্রপাড়া, দক্ষিন ক্ষেত্রপাড়া, বেলেমাঠ,জয়নগর ও মোল্যাপাড়াসহ ১০টি গ্রামের বসতবাড়িতে পানি উঠে গেছে। ওই ইউনিয়নে কয়েক হাজার বিঘা জমির ফসলসহ বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি ক্ষতিসাধন হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রতিদিন দুই থেকে তিন ইঞ্চি করে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তার আজ পর্যন্ত ১ মেট্রিক টন চাউল বরাদ্দ হয়েছে বলে তিনি জানান।
দেয়াড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রভাষক আব্দুল মান্নান জানান, তার ইউনিয়নের কাশিয়াডাঙ্গা, মাঠপাড়া, আবাদপাড়া, সানাপাড়া, খাঁনপাড়া কারিগরপাড়া, বাওড়কান্দা, মিরেরডাঙ্গা, পাকুড়িয়ার অনেক বসতবাড়ির আঙ্গিনাসহ ঘরের ভিতর পানি ঢুকে পড়েছে।  এ ছাড়া  ইউনিয়নের প্রায় এক হাজার পরিবারের প্রায় চার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। ৫০টির  মতো কাঁচা ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে। ১০০ টির মতো মাছ চাষের পুকুরসহ ঘের ভেসে গেছে। তিনি আরো জানান, এখনে তার এলাকায় পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও সাপের উপদ্রব থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কার্বলিক এসিড প্রয়োজন।
জালালাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাস্টার শওকত আলী জানান, শংকরপুর, সিংহলাল, জালালাবাদ, বাটরা, ঘরচালা কাশিয়াডাঙ্গাসহ আশপাশের গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
যুগীখালী ইউনিয়নের ওফাপুর খালের স্লুইজ গেটের কপাট ভেঙ্গে গত এক সপ্তাহ ধরে কপোতাক্ষের উপচে পড়া পানি কামারালী, তরুলিয়া, তালুন্দিয়া, যুগীখালী, আগুনপুর ও রাজনগর বিলে প্রবেশ করছে। পানিতে ওই এলাকার প্রায় দুই হাজার বিঘা জমিতে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা।
সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সাংসদ এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানান, তার নির্বাচনী এলাকায় তালা-কলারোয়ায় ব্যাপক ক্ষতি ক্ষতি হয়েছে। দুই উপজেলায় হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অসহার মানুষের কাছে ছুটে গিয়ে খোজ খবর নিচ্ছেন তিনি ।  ইতোমধ্যে তিনি নিজেই কলারোয়ায় দেয়াড়া ইউনিয়নে ৬০০ পরিবারকে ৫ কেজি হারে ও জয়নগর ইউনিয়নে ১০০ পরিবারের মাছে ১০ কেজি করে ত্রানের চাল বিতরণ করেছেন বলে তিনি জানান।
কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনুপ কুমার তালুকদার ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানান, পানিবন্দী মানুষের জন্য দেয়াড়া ইউনিয়নে ৬  মেট্রিক টন, যুগীখালী ১ ও জয়নগর ইউনিয়নে ২ মেট্রিক টন ত্রানের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আরো বরাদ্ধ দেওয়ার জন্য সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।