কলারোয়ায় মসজিদে অযাচিত হস্তক্ষেপ, প্রতিবাদে মানববন্ধন


468 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কলারোয়ায় মসজিদে অযাচিত হস্তক্ষেপ, প্রতিবাদে মানববন্ধন
মে ২৯, ২০২০ কলারোয়া ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কে এম আনিছুর রহমান,কলারোয়া(সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি ॥
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের জাফরপুর গ্রামের মসজিদের দুই জমিদাতার ৫ ছেলের অযাচিত হস্তক্ষেপ ও খবরদারিতে মুসল্লি ও এলাকাবাসীরা বিক্ষোভ ও মানব বন্ধন করেছে। একইসাথে মসজিদের অর্থ তছরুপের প্রতিবাদ করায় এলাকাবাসীর সাথে খারাপ ব্যবহার থেকে শুরু করে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানীর পায়তারা করারও অভিযোগ উঠেছে।

গত বুধবার বিকালে মসজিদের মুসল্লি ও এলাকার নারী-পুরুষ এ বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে। শুক্রবার কলারোয়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করে এ ঘঠনা জানানো হয়।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কলারোয়া উপজেলার ৯নং হেলাতলা ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত গোলাম হোসেন এবং মৃত কিতাব আলী মসজিদের জন্য সাড়ে পাঁচ শতক জায়গা দান করেছিলেন। কিতাব আলী তিন শতক ওই সময়ে লিখে দেন। আর গোলাম হোসেন মৌখিকভাবে দান করেন আড়াই শতক। যদিও পরবর্তীতে প্রতিশ্রুতি মোতাবেক তার ছেলেরা আড়াই শতক মসজিদের নামে লিখে দিয়েছিলেন। দুই জমিদাতার বর্তমানে পাঁচ ছেলে। তারা হলেন- আব্দুর রশিদ, আব্দুর রহিম, আব্দুল করিম, শহীদুল ও রফিক।

স্থানীয় গ্রামবাসী ও মুসল্লিরা মসজিদটা তিল তিল করে বর্তমানে বিল্ডিংয়ে রূপান্তরিত করেন। মসজিদটি পরিচালনার জন্য কমিটি করা হয়। দুর্ভাগ্যজনক হলো দুইজন জমিদাতার ছেলেরা মসজিদ কমিটির তোয়াক্কা না করে বরাবরই নিজেদের সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দেন। যাবতীয় সিদ্ধান্ত তারা নিজেরাই নিয়ে থাকেন। তাদের এই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ম্যানেজিং কমিটি, গ্রামবাসী ও মুসল্লীরা না মানায় বহুদিন ধরে একটা বিরোধ তৈরি হয়।

জমিদাতার ছেলে হিসাবে মুসুল্লিরাও তাদের প্রাধান্য দিয়ে আসছিলেন। তাদের চাওয়ায় অনুপাতিক ম্যানেজিং কমিটি পুনঃগঠনের সিদ্ধান্ত হয় এবং তাদের মতামত অনুযায়ী ইমাম সাহেবকে কমিটি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তী জুম্মা বাদ সকলের উপস্থিতিতে ইমাম সাহেব কমিটি ঘোষণা করেন। কিন্তু সেই কমিটি জমিদাতার ছেলেরা মেনে নিতে চাননি। বিরোধিতা সত্ত্বেও সকল মুসল্লিদের ইচ্ছানুযায়ী সেই কমিটি বহাল থাকে। কিন্তু মসজিদের উপরে জমিদাতার ছেলেদের হস্তক্ষেপ কমেনি। বিশেষ করে দান বক্স থেকে দানকৃত অর্থ ও মসজিদের অনুদান নিজের কাছে জামানত রেখে সঠিক হিসাব না দেয়া ছিলো অন্যতম।

অভিযোগে আরো বলা হয়- মসজিদে সরকারের অনুদান হিসেবে সোলার দেয়া হয়। কিন্তু সেই সোলার মসজিদে না লাগিয়ে নিজেদের বাড়িতে ব্যবহার করেন জমিদাতার ছেলেরা।

এ ব্যাপারে মসজিদের মুসল্লীরা প্রতিবাদ জানালে তাদের মামলা-হামলার হুমকি দিয়ে দমন করে রাখেন। এমনকি ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্থ মসজিদের আংশিক অংশ সংস্কারসহ মসজিদের নানান বিষয়ে জমিদাতার ছেলেদের সাথে বর্তমান গ্রামের অনেকের মতপার্থক্য ও সম্পর্কের ঘাটতি বিদ্যমান।

লিখিত অভিযোগে আরো বলা হয়- গত ২৫ মে ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে এলাকার বাচ্চা ছেলেরা আতশবাজি ফোটায়। সে সময় জমিদাতার পৌত্র শরিফুল ইসলাম লাঠি নিয়ে ওই সকল বাচ্চা ছেলেদের তাড়াতাড়ি করেন। এই ঘটনার জেরে বাচ্চাদের অভিভাবকদের সাথে শরিফুল ইসলামের কথা কাটাকাটি হয়। তখন গ্রামের মুরুব্বিগণ তাদের ভিতর সমঝোতা করে দেন। তবে তারা সেটা না মেনে নিয়ে গ্রামের সাধারণ মানুষের মামলার হুমকিও দিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে, ওই ঘটনায় গ্রামবাসী আতঙ্কের মধ্য দিয়ে জীবন যাপন করছেন। বিক্ষোভ ও মানববন্ধনের মাধ্যমে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিকার চেয়ে সাংবাদিকদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন গ্রামবাসী।

#

কলারোয়ার কোমরপুরে ৪০০ পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে হোমিও ওষুধ বিতরণ

কে এম আনিছুর রহমান,কলারোয়া(সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি ॥
সাতক্ষীরার কলারোয়া হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্যোগে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে লক্ষণ ভিত্তিক রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের লক্ষ্যে বিনামূল্যে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে।
শুক্রবার সকালে উপজেলার কেরালকাতা ইউনিয়নের কোমরপুর (কুঠিরপুল) মসজিদ প্রাঙ্গনের সামনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অধ্যক্ষ ডাক্তার এম.এ বারিকের নেতৃত্বে ৪০০ পরিবারের মাঝে ওষুধ বিতরণ করা হয়।
কলারোয়া হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডাক্তার এম.এ বারিক বলেন, আমরা শুক্রবার (২৯ মে) কেরালকাতা ইউনিয়নের কোমরপুর গ্রামে ৪০০ পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ বিতরণ করেছি। করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে লক্ষণ ভিত্তিক রোগীদের চিকিৎসা সেবার জন্য আমাদের এই ক্যাম্পেইন অব্যাহত থাকবে।
ওষুধ বিতরণপূর্বে জিয়াউর রহমান জিয়ার পরিচালনায় আগত জনসাধারণের উদ্দেশ্যে সচেতনামূলক বক্তব্য রাখেন- কোমরপুর এতিমখানা ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার সভাপতি মাষ্টার আব্দুল হামিদ, স্থানীয় ইউপি সদস্যা সাবিনা ইয়াসমিন, প্রভাষক হাবিবুর রহমান, ব্যাংক কর্মকর্তা আঃ রউফ, শিক্ষক রবিউল ইসলাম, সাংবাদিক আবু রায়হান মিকাঈল প্রমূখ।
উল্লেখ্য, কলারোয়া হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের উদ্যোগে এরআগে গত ১৯ মে চন্দনপুর ইউনিয়নের বয়ারডাঙ্গা ও দাঁড়কি গ্রামে দুটি ক্যাম্প পরিচালিত হয়। সেখান থেকে ৯৬৭টি পরিবারকে বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা হয়।