কলারোয়ায় মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে উঠিয়ে নিয়ে পৈশাচিক নির্যাতন : ৫ দিনপর মামলা


2072 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কলারোয়ায় মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে উঠিয়ে নিয়ে পৈশাচিক নির্যাতন : ৫ দিনপর  মামলা
মার্চ ১২, ২০১৭ কলারোয়া ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কে এম আনিছুর রহমান,কলারোয়া ::
কলারোয়ায় ৬ মার্চ ভাইস-চেয়ারম্যান উপ-নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শফিকুল ইসলাম (৩৫) নামে এক যুবলীগকর্মীকে গভীর রাতে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে বাড়ি থেকে উঠিয়ে নির্জন মাঠের মধ্যে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা।

এ সময় সন্ত্রাসীরা ওই যুবলীগকর্মীকে মুখমন্ডলসহ সারা শরীরে হাতুড়ী পিটা করেছে,তারের কাঠা ফুটিয়েছে গায়ে ও বাম পায়ের গুড়ালী ভাঙ্গা দিয়েছে,হাটুর মালা ঘুরিয়ে দেওয়াসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ক্ষত-বিক্ষত করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৭ মার্চ রাত ১২ টার দিকে উপজেলার গোচমারা গ্রামে।

এ ঘটনার পরের দিন শফিকুলের মা উপজেলার ওই গ্রামের মৃত ফজর আলীর স্ত্রী রহিমা খাতুন বাদি হয়ে কলারোয়া থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখসহ ৩/৪ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। যা ঘটনার ৫দিন পর রোববার অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গন্য হয়। (যার নং-১৫,তারিখ-১২/০৩/১৭ইং)।

মামলার বাদি রহিমা খাতুন এজাহারে উল্লেখ করেন,ভাইস চেয়ারম্যান উপ-নির্বাচনে আমার ছেলে শফিকুল ইসলাম উপজেলা যুবলীগের সভাপতি স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী সাহাজাদার উড়োজাহাজ প্রতীকের কর্মী হিসেবে কাজ করে। এ ঘটনায় নৌকা প্রতীকের সমর্থকদের সাথে আমার ছেলের মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই দিন রাত ১২ টার দিকে সন্ত্রাসী সোহাগ আমার বাড়িতে অনাধিকারভাবে প্রবেশ করে আমার ছেলের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে বাইরে নিয়ে যায়। এরপর বাইরে থাকা ফরহাদ হোসেন, সিরাজুল ইসলাম, হাফিজুর

রহমান, কদম আলীম, ইসলাম, মাসুম বিল্লাহ ও ইকবালসহ আরো ৩/৪ জনের সহযোগিতায় আমার ছেলেকে গোচমারা পূর্বের মাঠের মধ্যে নির্জন স্থানে মধ্যযুগীয় কায়দায় মুখমন্ডলসহ সারা শরীরে হাতুড়ী পিটা করেছে,তারের কাঠা ফুটিয়েছে গায়ে ও বাম

পায়ের গুড়ালী ভেঙ্গে দিয়েছে,হাটুর মালা ঘুরিয়ে দেওয়াসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ক্ষত-বিক্ষত করে আমার ছেলে মারা গেছে ভেবে ফেলে চলে যায়। পরে বাড়ির পাশের প্রতিবেশীদের নিয়ে সারা রাত বিভিন্ন জায়গায় খোজাখুজির পর একপর্যায়ে ওই স্থান

থেকে আমার ছেলেকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে কলারোয়া হাসপাতালে ভর্তি করি এবং পরের দিন থানায় ওই সন্ত্রাসীদের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। যা দীর্ঘ ৫ দিনপর রোববার অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গন্য হয়।

তিনি এজাহারে আরো উল্লেখ করেন, উপজেলার পাঁচনল গ্রামের রবিউল হাসানের পরিকল্পনায় আমার ছেলে শফিকুলকে এভাবে মারপিট ও নির্যাচন করা হয়েছে অভিযোগ করে।

এ ব্যাপারে কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ এমদাদুল হক শেখ এ ঘটনায় মামলা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,আসামীদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ ইতোমধ্যে মাঠে কাজ করছে।
##