কলারোয়ায় শীতের কাপড় কিনতে ভ্রাম্যমাণ দোকানে ভিড়


156 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কলারোয়ায় শীতের কাপড় কিনতে ভ্রাম্যমাণ দোকানে ভিড়
নভেম্বর ২৯, ২০২০ কলারোয়া ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক রিপোর্ট ::

সন্ধ্যা হলেই সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলায় নামে ঠান্ডা। এসব নিয়ে কলারোয়ায় শীতের শুরুতেই জমে উঠেছে ফুটপাতের ভ্রাম্যমাণ শীতবস্ত্রের দোকানগুলো। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এসব ভ্রাম্যমাণ কাপড়ের দোকানে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। দেখা গেছে, কলারোয়ার মেইন রোডের রাস্তার পাশে, গ্রামের বিভিন্ন হাট-বাজারের ফুটপাতের ওপর ও ভ্যান গাড়িতে করে বাহারি রঙের এসব শীতবস্ত্র বিক্রি করে ব্যবসায়ীরা। আর এসব কাপড় কিনতে আসেন নিম্নবিত্তের পাশাপাশি উচ্চবিত্তরাও। কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, কয়েক দিন ধরেই কলারোয়ার প্রায় সব দোকানে কম-বেশি শীতের কাপড় কেনাকাটা শুরু হয়ে গেছে। ক্রেতাদের চাহিদার কথা ভেবে ছোট-বড়দের জ্যাকেট, মাফলার, সোয়েটার, হাত মোজা, কোট, টুপি সবই মিলছে এসব দোকানে। হেমন্তের মাঝে শীতের আগমনী ধ্বনি বেজে উঠেছে, নিচে নামছে তাপমাত্রার পারদ-হেমন্ত দিবারাত্রির হিম হিমভাব যেন শীতেরই পদধ্বনী। রাত বাড়ার পর অল্পস্বল্প হলেও ভোরের দিকে বেশ শীত অনুভূত হচ্ছে। কুয়াশায় মোড়ানো রাতভর, শিশির ভেজা সকাল ও হালকা হিমেল বাতাস আভাস দিচ্ছে শীতের আগমনীর। শুক্রবার বিকালে সরেজমিনে কলারোয়ার কলাটুপির বাজারে গিয়ে দেখা যায় বাজার এক পাশের ফুটপাতে ক্রেতা বিক্রতা শীতকে ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছে। প্রতিবছর শীত মৌসুম আসলেই তাদের বিক্রেয়ের অবস্থা বেশ ভালোই হয়। গত কয়েকদিন ধরে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় শীত থেকে রক্ষা পেতে সাধ্যের মধ্যে পছন্দের পোশাক কিনতে শুরু করে ফুটপাতের দোকানগুলোতে ভিড় জমাচ্ছে ক্রেতারা।

ফুটপাতের বিক্রিতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ফুটপাতে উলের সোয়েটারের দাম পাচ্ছে ক্রেতারা ১৬০ থেকে ৩০০ টাকায়। জ্যাকেট ২০০ থেকে ৪০০ টাকায়। ফুলহাতা গেঞ্জি ও বাচ্চাদের জামা সেট ৫০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত। শীতের পোশাক কিনতে আসা কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দা মামুনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, অনেক খোঁজা খুঁজির পর আমার ছেলে মেয়েসহ পরিবারের লোকজনের জন্য সোয়েটারসহ কয়েকটি শীতের কাপড় কিনেছি। এবং নিজের জন্য একটি উলের সোয়েটার কিনেছি। শীত বেশি পড়ার কারণে দোকানীরাও দাম বেশি চাচ্ছে। অনেক দর-দামের পর ট্রাউজার ৩টি কিনেছি ৩০০ টাকায় ও আমার শ্বাশুরীর জন্য ১ টি সোয়েটার কিনেছি ১৩০ টাকায়। অন্য সময় এগুলো ৬০-৭০ টাকায় পেতাম। আমরা স্বল্প আয়ের মানুষ। কম দামে ভালো কিছু কাপড় পাওয়া যায় ফুটপাতে। তাই আমাদের শেষ ভরসা ফুটপাত। দেয়াড়া ইউনিয়নের থেকে আসা কৃষক বুরান হোসেন জানান, আমার ৫ বছর বয়সের শিশু ছেলে রয়েছে। শীতের আভাসের জন্য চলে এসেছি ছেলের জন্য গরম পোশাক কিনতে। ঝুমকা বেগম বলেন, শীত তো এসেই পড়েছে। সকাল ও রাতে ভালোয় শীত পড়ছে। শিশুদের তো গরম কাপড় লাগবেই। তাই গরম পোশাক কিনতে আসলাম। কথা হয় বিক্রিতাদের সাথে। ফুটপাতের দোকানী ওসমান হোসেন বলেন, তিন দিন ধরে বেচা-কেনা ভালো হচ্ছে। সবাই বাচ্চাদের কাপড় বেশি কিনছেন। অন্যান্য পোশাক আছে কিন্তু তার থেকে বাচ্চাদের কাপড় মহিলারা বেশি কিনছে।
শীতের নিম্নবিত্ত ও ছিন্নমূল মানুষের কষ্ট সীমাহীন হলেও হাসি পুটেছে দোকানিদের। কলারোয়ায় একাধিক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, গত বছরের মতো এ বছরও শীত তেমন ছিল না। তবে কয়েক দিন থেকে শীত বাড়ায় শীতের কাপড় বিক্রি বেড়েছে। সেই সঙ্গে দামও কিছুটা বেড়েছে বলে স্বীকার করেছেন তাঁরা।