কলারোয়ায় শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলা মামলায় বিএনপি নেতা শেলীর আত্মসমার্পণ


397 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কলারোয়ায় শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলা মামলায় বিএনপি নেতা শেলীর আত্মসমার্পণ
আগস্ট ২৩, ২০১৫ কলারোয়া ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলা মামলায় কলারোয়া পৌর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খালেকুর রহমান শেলী আত্মসমার্পণ করেছে। রোববার সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমার্পন করে জামিন চাইলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সরকারি কৌশলী (পিপি) ওসমান গণির তীব্র বিরোধীতায় বিচারক জোয়ার্দ্দার মো. আমিনুল ইসলাম আসামীর জামিন নামঞ্জুর করে জেল-হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিকে, রোববার এই মামলার ধার্য্য দিনে কলারোয়া পৌরসভার বরখাস্ত হওয়া মেয়র আক্তারুল ইসলাম, কয়লা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রকিবসহ ৭ জনের জামিন শুনানি হয়নি। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এই মামলায় সময় চেলে আদালত তা মঞ্জুর করে। মামলার অপর আসামী আব্দুস সাত্তার জামিন চাইলেও আদালত তার জামিনও নামঞ্জুর করেন।

সাতক্ষীরা জর্জ কোর্টের সরকারি কৌশলী (পিপি) ওসমান গণি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলায় ঘটনায় জি আর ২৫৯/১৪ মামলায় রোববার শুনানির ধার্য্য দিন ছিলো। বিকেল ৫ টায় মামলার অন্যতম আসামী কলারোয়া পৌর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খালেকুর রহমান শেলি আত্মসমার্পন করেন। এ সময় তার পক্ষের আইনজীবীরা খালেকুর রহমানের জামিন আবেদন করেন। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষের তীব্র বিরোধীতায় আদালতের বিচারক জোয়ার্দ্দার মো. আমিনুল ইসলাম আসামীর জামিন নামঞ্জুর করে জেল-হাজতে পাঠানো নির্দেশ দেন।

এদিকে, সকাল সাড়ে ১০টায় চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ক্রিমিনাল মিস কেস ২০৮৫/১৫-এ কলারোয়া উপজেলার কয়লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রকিব, মনিরুল ইসলাম ও ট্রলি শহিদুল, ক্রিমিনাল মিস কেস ২০৮৬/১৫-এ কলারোয়া পৌরসভার বরখাস্ত মেয়র ও যুবদল নেতা আক্তারুল ইসলাম, মফিজুল ইসলাম ও আলতাফ হোসেন এবং ক্রিমিনাল মিস কেস ২০৯৯/১৫ মামলায় আলাউদ্দীন জামিনের আবেদন করেন। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সময় প্রার্থনা করায় আদালতে জামিন শুনানি হয়নি।

অন্যদিকে, এই মামলার চার্জসীটভূক্ত আসামী আব্দুস সাত্তারের জামিন শুনানি হলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর তীব্র বিরোধীতায় আদালত জামিন নামঞ্জুর করেন।

মামলার বিবরণে জানাযায়, ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কলারোয়া উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের হিজলদী গ্রামের এক মুক্তিযোদ্ধার ধর্ষিতা স্ত্রীকে দেখতে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে আসেন। সেখান থেকে যশোরে ফিরে যাওয়ার পথে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কলারোয়া উপজেলা বিএনপি অফিসের সামনে জেলা বিএনপি’র তৎকালীন সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব ও বিএনপি নেতা রঞ্জুর নির্দেশে বিএনপি-যুবদল-ছাত্রদল নেত-া কর্মীরা দলীয় অফিসের সামনে একটি যাত্রীবাহি বাস (সাতক্ষীরা-জ-০৪-০০২৯) রাস্তার উপরে আড় করে দিয়ে তাঁর গাড়ি বহরে হামলা চালায়।

প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহরে হামলার ঘটনায় অস্ত্র ও বিষ্ফারক আইনে ৫০ জন বিএনপির নেতা কর্মীকে অভিযুক্ত করে আদালতে চাজর্শীট দাখিল করে কলারোয়া থানা পুলিশ।