কলারোয়ায় শেষ মূহুর্তে প্রচার-প্রচারনায় ব্যস্ত মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা


172 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কলারোয়ায় শেষ মূহুর্তে প্রচার-প্রচারনায় ব্যস্ত মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা
জানুয়ারি ২৮, ২০২১ কলারোয়া ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

আগামী ৩০ জানুয়ারী কলারোয়া পৌরসভা নির্বাচন

কে হবে পৌর পিতা ?

কে এম আনিছুর রহমান ::

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় আগামী ৩০ জানুযারী পৌরসভা নির্বাচন। পোষ্টারে পোষ্টারে ছেয়ে গেছে কলারোয়া পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের অলিগলি। শেষ মূহুর্তে এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রচার-প্রচারনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসায় প্রার্থীরা নাওয়া খাওয়া ভুলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ছুটছেন ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ও পৌর সদরের বিভিন্ন দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লিফলেট বিতরণে। নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজের পক্ষে সমর্থন আদায়ের জন্য আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচেছন। এরই মধ্যেপথসভা কর্মীসভা উঠান বৈঠক, মাইক লিফিলেট, ব্যানার পোষ্টার, হাতির পিটে চড়ে হান্ডবিল বিতরণ চলছে বিরামহীন ভাবে। আর সেই সাথে চলছে মিছিল শ্লোগান।

কলারোয়া পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে ৫ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান বুলবুল, আ’লীগের বিদ্রোহী মোবাইল প্রতীকের শ্বতন্ত্র প্রার্থী সাজেদুর রহমান খাঁন চৌধুরী মজনু, জাতীতাবাদীদল বিএনপি’র মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী শেখ শরিফুজ্জামান তুহিন, বিএনপি’র বিদ্রোহী সাবেক দুই দুইবার মেয়র নারিকেল গাছ প্রতীকের শ্বতন্ত্র প্রার্থী গাজি আক্তারুল ইসলাম ও তার সহধর্মীনি জগ প্রতীকের শ্বতন্ত্র প্রার্থী নার্গিস সুলতানা। এ ছাড়া ৯টি ওয়ার্ডে ৩৯ জন সাধারণ কাউন্সিলর ও ১২ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বদ্বিতা করছেন। এখনও পর্যন্ত ভোটের মাঠে অপ্রীতিকর কোন ঘটনা ঘটেনি।

এ নির্বাচনকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা কেন্দ্র বিন্দু হচ্ছে এবার নির্বাচনে কে হবে জনগনের ভোটে পৌর পিতা ? এ নির্বাচনে এবার প্রতিদ্বদ্বিতা করছেন ৫ জন। তবে মাঠে আছেন ৪ জন প্রার্থী। এবার কাউকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। তাদের সাথে পৃথকভাবে আলাপকালে জানা যায়। তারা প্রত্যকেই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদি।

আওয়ামীলীগের প্রার্থী উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান বুলবুল জানান, আওয়ামীলীগসহ অংগ সংগঠনের অধিকাংশ নেতাকর্মীরা তার পক্ষে একাট্ট্রা হয়ে কাজ করছেন। দলের নেতাকর্মীরা প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নৌকা প্রতীকের ভোট প্রার্থনা করছেন। তাছাড়া জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন অব্যাহত রাখার স্বার্থে সাধারণ ভোটারা তাকেই ভোট দেবেন। আর তিনি জয়ী হবেন বলে আশাবাদী।

বিএনপি’র প্রার্থী পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শেখ শরিফুজ্জামান তুহিন জানান, প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকে তিনি তার কর্মী সমর্থকদের নিয়ে ভোটের মাঠে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। পৌর এলাকায় তিনি রাস্তাঘাট,ড্রেনেজ, পানিসহ বিভিন্ন উন্নয়নের প্রতিশ্রতি দিয়ে লিভলেট বিতরণ করে যাচ্ছেন। তার অবস্থা খুবই ভালো। তবে গত ২৭ জানুয়ারী একটি মিথ্যা মামলায় সাবেক এমপি হাবিবুল ইষলামসহ ৩৪ জন আসামী একযোগে কারাগারে যাওয়ায় তার নির্বাচনে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তারপরেও আগামী ৩০ জানুয়ারী যদি অবাধ,সুষ্ট ও নিরপেক্ষ ভোট হয় তাহলে তিনি জয়লাভ করবেন বলে আশাবাদী।

আলীগের বিদ্রোহী শ্বতন্ত্র প্রার্থী সাজেদুর রহমান খান চৌধূরী মজনু বলেন, কলারোয়া পৌরসভা নির্বাচনে পরপর দুইবার বিএনপি’র প্রার্থী জয়ী হওয়ায় দৃশ্যমান কোন কাজ পৌরসভায় হয়নি। পৌরসভার বাসিন্দারা তাদের নাগরিক অধিকার পায়নি। তাই তিনি পৌরবাসির নাগরিক অধিকার ফিরে দেওয়ার প্রতিশ্রতি দিয়ে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ভোট প্রার্থনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদি।
সাবেক মেয়র গাজি আক্তারুল ইসলামের সহধর্মীনি নার্গিস সুলতানা জানান, তার স্বামী কলারোয়া পৌর সভার দুই দুইবার মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু কোন বারই তিনি ৫ বছর চেয়ারে বসে কাজ করতে পারেন নাই। বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে রাখা হয়। গত ২৭ জানুয়ারী তার স্বামীকে একটি মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তারপরেও তিনি তার কর্মী সমর্থকদের নিয়ে রাত-দিন ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তার স্বামীর অসমাপ্ত কাজ গুলো শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট প্রার্থনা করে যাচ্ছেন। তিনি আশাবাদী তার স্বামীর ওই জনপ্রিয়তায় তিনি এবার মেয়র নির্বাচিত হয়ে পৌরবাসির পাশে দাঁড়াবেন ইনশাল্লাহ।
এদিকে এ নির্বাচন অবাধ,সুষ্ট ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ৯টি ওয়ার্ডে ইতোমধ্যে মহড়া দিয়েছেন এবং প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে শাস্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাত ৮ টায় প্রচার-প্রচারনা শেষ। আগামী ৩০ জানুয়ারী সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ ভোটে ২২ হাজার ৯৯৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে জানা গেছে।

#