কলারোয়ায় সরকারী আম আত্মসাতের অভিযোগ করায় ইউপি সদস্যকে মারল চেয়ারম্যান


340 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কলারোয়ায় সরকারী আম আত্মসাতের অভিযোগ করায় ইউপি সদস্যকে মারল চেয়ারম্যান
মে ১০, ২০১৮ কলারোয়া ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কে এম আনিছুর রহমান,স্টাফ রিপোর্টার ::
সাতক্ষীরার কলারোয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান কর্তৃক রাস্তার পাশে লাগানো সরকারী গাছ থেকে আম আতœসাৎ করার প্রতিবাদ করায় নজরুল ইসলাম নামে ইউপি সদস্যকে মারপিট করে আহত করেছে ইউপি চেয়ারম্যান। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে। এলাকাবাসী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার জানায়, উপজেলার গয়ড়া থেকে সুলতানপুর ও হিজলদী সড়কের দু’পার্শ্বে রয়েছে ৩১১টি সরকারী আম গাছ। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম মনি, স্থানীয় আম ব্যবসায়ী আ: করিম এর নিকট ওই গাছের আমগুলো ৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেয়। কিন্তু চেয়ারম্যান জানায়, আম বিক্রি হয়েছে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। সরকারী নিয়মানুযায়ী রাস্তার পার্শের লাগানো গাছের মুনাভোগ করবে, পরিচর্যাকারী ৫০ ভাগ, জমির মালিক ৩০ ভাগ, ইউনিয়ন পরিষদ ভোগ করবে ২০ ভাগ। এ ছাড়া রাস্তা সংলগ্ন গাছ বা ফসল বিক্রি করতে হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রতিনিধি এবং সদস্যদের সভার সিদ্ধান্তানুযায়ী রেজুলেশন এবং টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রয় করতে হয়। কিন্ত এক্ষেত্রে চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম মনি সরকারী বিধি উপেক্ষা করে আম বিক্রি করায় ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম বিষয়টি মৌখিক ভাবে গত ৩ দিন দফায় দফায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীনকে জানায়। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষয়টি আমলে নেয়টি। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম সাবেক ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আ: আহাদসহ এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে আম পাড়ার বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম মনি ক্ষিপ্ত হয়ে গ্রাম পুলিশ দিয়ে প্রতিবাদী এলাকাবাসীর উপর লাঠি পিটার নির্দেশ দেয়। নির্দেশ পেয়ে গ্রাম পুলিশ ভূষণ চন্দ্র দাস ও অহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে গ্রাম পুলিশের দলসহ চেয়ারম্যানের পালিত সন্ত্রাসী চক্রের সদস্য চান্দুড়িয়া গ্রামের নাককাটা ইসারুল, কাদপুর গ্রামের সেলিম হোসেন ও চন্দনপুর গ্রামের আব্দুল্লাহ সহ একদল সন্ত্রাসী ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম ও ছাত্রলীগ নেতা আ: আহাদকে দড়ি দিয়ে বেঁধে ইউনিয়ন পরিষদে আটকে রেখে মধ্যযুগের কাদায় নির্যাতন করে মারাতœক ভাবে আহত করে। বর্তমানে আহত ইউপি সদস্য কলারোয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম মনি জানান, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও তাদেরকে নির্যাতন করা হয়নি। তবে আ: আহাদকে আটক রাখা হয় ঘটনাটি তিনি স্বীকার করেন। পরে জনতার চাপে আটক ছাত্রলীগ নেতাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।
এঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঘটনাস্থলে যান এবং জমির মালিক ও আম ব্যবসায়ী আ: করিমের সাথে কথা বলেন। তবে সরকার নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কোন কাগজপত্র চেয়ারম্যান দেখাতে পারেনি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্থ প্রতিবাদ কারীদের পক্ষথেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা যায়।
##