কলারোয়ায় সোনালী ব্যাংকের দুই নৈশ প্রহরীকে জবাই করে হত্যা


396 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কলারোয়ায় সোনালী ব্যাংকের দুই নৈশ প্রহরীকে জবাই করে হত্যা
জুলাই ১৫, ২০১৫ কলারোয়া জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ইব্রাহীম খলিল / কে এম আনিছুর রহমান :
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় সোনালী ব্যাংক (কলারোয়া উপজেলা শাখা ) শাখায় কর্মরত দুই নৈশ প্রহরীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতরা হলেন, কলারোয়া উপজেলার ঝাপাঘাটা গ্রামের আব্দুল কায়ুমের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৩৫) ও সাতক্ষরী সদর উপজেলার হরিশপুর গ্রামের আনারুল ইসলামের ছেলে আসাদুল ইসলাম (৩০)। তারা দুই জনই আনসার বাহিনীর সদস্য বলে পুলিশ জানিয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটলেও ব্যাংক সরকারি ছুটি থাকায় বুধবার বেলা ১১ টার দিকে বিষয়টি জানাজানি হয়। তবে ঘটনার পিছুনে ডাকাতি না অন্য কোন রহ¯্র রয়েছে তা পুলিশ এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি।
কলারোয়া উপজোলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু বলেন,  বুধবার সকালে সবেকদরের ছুটি থাকায় ব্যাংক বন্ধ ছিল। ফলে সকাল থেকে ব্যাংকে কউ প্রবেশ করেনি। নৈশ প্রহরীদের কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে স্থানীয় লোকজন বেলা ১১ টার দিকে প্রথমে বিষয়টি বুঝতে পেরে পুলিশকে খবর দেয়। কলারোয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে দেখতে পান ব্যাংকের ভিতর দুই নৈশ প্রহরীর লাশ পড়ে রয়েছে। তাদেরকে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করা হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, সাতক্ষীরা-যশোর মহাসড়কের  (মেইন সড়কে)  ধারে, কলারোয়া থানা থেকে মাত্র ৪০০ গজের মধ্যে জোড়া খুনের  ঘটনা কোন ভাবেই তারা মেনে নিতে পাচ্ছে না। তারা রিতিমত আতংকগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। এ ঘটনার পর এলাকার মানুষ নিরাপদবোধ করছে না। তারা অবিলম্বে আসল রহস্য উদঘটনের দাবি জানিয়েছে।
কলারোয়া থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) শেখ শফিকুর রহমান ঘটনাস্থল থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ দেখতে পাই। পরে উদ্ধর্তন কর্মকর্তাদের জানানো হয়। খবর জানার পর সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবীর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) আবু সালেহ মাসুদ করিম জানান ‘  গভীর রাতে সন্ত্রাসীরা ব্যাংকের ভিতর ঢুকে পড়ে। তারা  পাহারায় থাকা দুই প্রহরীকে হত্যা করেছে। ব্যাংকের গেট ভাঙ্গা অথবা তালা ভাঙ্গার কোনো চিহ্ন মেলেনি’। ব্যাংকের কোনো টাকাও  খোয়া যায়নি। ব্যাংকের ভেতরে কাগজপত্র ছড়ানো ছিটানো অবস্থায় পাওয়া গেছে।
সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর মোদ্দাচ্ছের হোসেন জানান, নিহত দুই জনের লাশ ব্যাংকের ভিতরেই পড়ে ছিল তাদেরকে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। তবে হত্যার রহস্য এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ধারনা করা হচ্ছে ডাকাতির চেষ্টাকালে ঘটনাটি ঘটতে পারে। নিহত দুই জনই আনসার বাহিনীর সদস্য বলে তিনি জানিয়েছেন।
সাতক্ষীরার সোনালী ব্যাংকের ডিজিএম খান শহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, নিহত দুই জনই আনসার বাহিনীর সদস্য। ব্যংকে নিয়োগপ্রাপ্ত ৪ জন আনসারের মধ্যে ওই রাতে নিহত দুই জনই ব্যাংকের ভিতরে ডিউটিরত ছিল। তাদের কাছে কোন অস্ত্র ছিল না। মেইনফটকের তালা ভেঙে দুর্বৃত্তরা ব্যাংকের ভিতর প্রবেশ করে। তবে ব্যাংকের কোন টাকা খোয়া যায়নি। কোন কাগজপত্রও খোয়া যায়নি। ব্যাংকের সব কিছুই ঠিক রয়েছে। তবে ধারনা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা ডাকাতি করতেই ব্যাংকে প্রবেশ করেছিল। হয়তো নৈশ প্রহরীরা তাদেরকে চিনতে পারায় তাদেরকে কুপিয়ে হত্যা করে ফেলে রেখেগেছে তারা। নিহতদের  কাছে কোন অসন্ত্র ছিলনা বলে তিনি জানান।
সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাতের কোন এক সময় তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। ব্যাংকের কোন টাকা বা জিনিসপত্র খোয়া যায়নি। ঘটনার রহস্য উদঘটনের জন্য পুলিশ মাঠে নেমেছে। তবে কি কারনে তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে তা এখনও নিশ্চিত করে বলা যাবে না। তবে চেষ্টা করাছ দ্রুততম সমর্য়ের মধ্যে আমরা রহস্য উদঘটন করতে পারব।
পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি এস এম মনিররুজ্জামান বলেন, পুলিশ ক্লু পেয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই আসল ঘটনা আমরা জানতে পারব। য়ক জনকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে। জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়াগেছে।