কলারোয়ায় স্কুলছাত্রকে গভীর রাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে দুবৃর্ত্তরা


362 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কলারোয়ায় স্কুলছাত্রকে গভীর রাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে দুবৃর্ত্তরা
জুলাই ৮, ২০১৫ কলারোয়া ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কে এম আনিছুর রহমান, কলারোয়া :
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় দশম শ্রেণীতে পড়–য়া আবু সাঈদ নামে এক ছাত্রকে গভীর রাতে চোখ মুখ বেধে বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে মারপিটসহ কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা চালিয়ে মৃত্যু বলে ফেলে রেখে গিয়েছে দুবৃর্ত্তরা। ঘটনাটি ঘটেছে  মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড় টার দিকে উপজেলার সোনাবাড়িয়া গ্রামে। আবু সাঈদ (১৬) ওই গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে সোনাবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র। বর্তমানে আবু সাঈদ কলারোয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
কলারোয়া হাসপাতলে ভর্তি আবু সাঈদ জানান, মঙ্গলবার রাত দেড় টার দিকে তার শোয়ার ঘরের পেছন দিকে বিদ্যুতের আরতিন রোডে কে বা কারা ধাক্কা দিতে থাকে। এ সময় তার ঘুম ভেঙ্গে গেলে সে বাড়ির কাউকে না জানিয়ে ঘর থেকে বাহির হয়ে বিভিন্ন দিকে টসলাইট মেরে কাউকে না দেখে ঘরে এসে শুয়ে পড়ে। আবারও কিছুক্ষণ পর কে বা কারা একই স্থানে ধাক্কা মারতে থাকে। সে আবারও বাইরে এসে টসলাইট মারতে থাকলে পেছন দিক থেকে তাকে কয়েকজন মুখোশ পরা লোকজন  ধরে চোখ মুখ বেধে  বাড়ি থেকে কিছু দুর নিয়ে এলোপাতাড়ী মারপিটসহ কুপিয়ে জখম করে। এমনকি এ সময় তারা তাকে জোরপূবর্ক চেতনা নাশক ওষুধ খাওয়ে দেওয়ার পর থেকে সে আর কিছুই বলতে পারে না এবং কাউকে চিনতেও পারেনা।
স্কুল ছাত্র আবু সাঈদের পিতা রফিকুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার তারাবীর নামাজ শেষে বাড়ি ফিরে ছেলে আবু সাঈদ সহ বাড়ি সবাই খাওয়া-দাওয়া শেষে ঘুমায়ে পড়ে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩ টার দিকে সেহরী খেতে উঠে ছেলেকে ডাকলে কোন সাড়া দেয়না। পরে ঘরের সামনে গিয়ে দেখে ঘরের দরজা খোলা কিন্তু ছেলে ঘরে নাই। এ সময় ছেলে কোথায় গেল বলে আত্মচিৎকার  করতে করতে ঘরের পেছন দিকে গিয়ে দেখতে পায় তার টসলাইটটা পড়ে আছে। এরপর তিনি ছুটে যেয়ে মসজিদের মাইকে তার ছেলেকে কে বা কারা উঠিয়ে নিয়ে গেছে প্রচার করে। প্রচার শুনে পাড়ার লোকজন তাকে খুজতে খুজতে উত্তর সোনাবাড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে হাত-পা,চোখ-মুখ বাধা এবং একটি বেঞ্চ দিয়ে চাপা দেওয়া সজ্ঞাহীন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কলারোয়া হাসপাতালে ভর্তি করে।
আবু সাঈদের চাচা তরিকুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার বিকাল ৫ টার দিকে সোনাবাড়িয়া গ্রামের বারিকের মোড় এলাকায় ওই এলাকার আরিফতুল্লাহর ছেলে সিরাজুলের সাথে তার মারামারি হয়। সেই ঘটনার জের ধরে সিরাজুলসহ তার লোকজন এ ঘটনা ঘটাতে পারে বলে তার সন্দেহ হয়।
এ ব্যাপারে কলারোয়া থানায় কোন অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম জানান।