কলারোয়ায় স্থগিত হওয়া কেরালকাতা ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর বাড়িতে হামলার অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন : স.ম মোরশেদ


1188 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কলারোয়ায় স্থগিত হওয়া কেরালকাতা ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর বাড়িতে হামলার অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন : স.ম মোরশেদ
আগস্ট ৩, ২০১৬ কলারোয়া ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

আশরাফুল আলম :
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার স্থগিত হওয়া “কেরালকাতা ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী স. ম মোরশেদের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর বাড়িতে হামলার অভিযোগ” শিরোনামে যে সংবাদটি গত ১লা আগষ্ট বিভিন্ন স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে তা সম্পুর্ন মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবী জানান আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী ও বর্তমান চেয়াম্যান স.ম মোরশেদ আলী ওরফে ভিপি মোরশেদ।
তিনি এ সময় তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ৩০ জুলাই পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচী অনুযায়ী কেরালকাতা ইউনিয়নের বহুড়া গ্রামে আমি একটি শান্তিপূর্ন পথসভার আয়োজন করি। উক্ত পথসভায় উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লাল্টুসহ উপজেলা ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও শ্রমিকলীগের বিভিন্ন নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনী পথসভা শেষে যে-যার মত বাড়ি যাওয়ার সময় আওয়ামীলীগের বহিস্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারুখ হোসেন অভির বাড়ির ছাদ থেকে বৃষ্টির মতো ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে বলিয়ানপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা অজিয়ার রহমানসহ আমার আট জন কর্মী মারাত্মক জখম হন। উক্ত ঘটনা শোনার সাথে সাথে আমিসহ আমার কর্মী বাহিনী রক্তাক্ত জখম অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করি। তাৎক্ষনিকভাবে পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। এ ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাভিত করতে ফারুখ হোসেন অভি তার বাড়িতে  হামলা চালানো হয়েছে বলে গত ৩১ জুলাই একটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ সম্মেলন করেছেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে।
তিনি বলেন, ২০১৬ সালের ২২ শে মার্চ প্রথম ধাপে ইউপি নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক আমাকে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসাবে মনোনীত করা হয়। এই নির্বাচনে বিএনপির জহুরুল ইসলাম, আওয়ামীলীগের বহিস্কৃত প্রার্থী আব্দুল হামিদ সরদার এবং ফারুখ হোসেন অভি চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দিতা করেন। আমি নির্বাচনী আচরন বিধি মেনে ১৫ মার্চ পর্যন্ত শান্তিপূর্নভাবে নির্বাচনের কার্যক্রম চালাতে থাকি। কিন্তু পরিতাপের বিষয় ১৫ তারিখের পর থেকে উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী এক নেতার নির্দেশে ভোটের পরিবেশ নষ্ট হতে থাকে এবং নৌকা প্রতীক প্রার্থীর কর্মীদেরকে বিভিন্নভাবে ভয় ভীতি প্রদর্শন করতে থাকে। ভোটের দিন অর্থাৎ ২২ মার্চ ৭ নং ওয়ার্ডে ভোট কেন্দ্রে দুই মেম্বার প্রার্থীর সামর্থকেরা তাদের স্ব স্ব প্রার্থীর ভোট কার চুপির এক পর্যয়ে ফারুখ হোসেন অভি তার সন্ত্রাসী মনুষ্যত্বকে চরিতার্থ করার মানষে চিহ্নিত আদম দালাল ফারুখ হোসেন, ছিনতাইকারী শামীম হোসেন, মানব পাচারকারী মন্জুর হোসেন, মাদকাসক্ত পিন্টুসহ তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে ব্যালট বাক্স ছিনতাই করে তা পুড়িয়ে ফেলে। এক পর্যায়ে ভোট গ্রহন স্থগিত হয়ে যায়। যা ভিডিও ফুটেজে ও ছবিতে বাস্তব প্রমান আছে।
তিনি আরো বলেন, ফারুখ হোসেন অভি একজন জামাত ইসলামী পরিবারের সন্তান। তার বাবা একসময় চোরাকারবারী ব্যবসায়ে জড়িত ছিলেন। বর্তমান তিনি ইউনিয়ন জামায়াত ইসলামের একজন নেতা এবং তার মা ইউনিয়ন মহিলা জামায়াতের একজন রোকন।
স.ম মোরশেদ বলেন, আমি কোন সন্ত্রাসী নই। আমি জনগনের প্রতিনিধি। আমার বাবা ছিলেন একজন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং  রিলিফ কমিটির সাবেক প্রয়াত চেয়ারম্যান।
তিনি এসময় সঠিক ও সত্য ঘটনা গনমাধ্যমে প্রকাশ করতে এবং ফারুক হোসেন অভিসহ তার সন্ত্রাসী বাহিনীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে এ সময় তার সাথে আরো উপস্থিত ছিলেন, মুক্তিযোদ্ধা অজিয়ার রহমান, কেরালকাতা ইউনিয়ন স্বোচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মোস্তাফিজুররহমানসহ স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।##