কলারোয়ায় স্বামী পরিত্যক্তা এক মহিলাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা


410 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কলারোয়ায় স্বামী পরিত্যক্তা এক মহিলাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৬ কলারোয়া ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কে এম আনিসুর রহমান , কলারোয়া :
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় সুফিয়া খাতুন (৫৫) নামে স্বামী পরিত্যক্তা দুই সন্তানের জননী এক মহিলাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত মহিলা কলারোয়া পৌর সদরের তুলশীডাঙ্গা পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত ফজরালী সরদারের মেয়ে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে পৌর সদরের তুলশীডাঙ্গা খাদ্য গুদাম মোড় এলাকার হামিদুর রহমানের বাগানের পাশে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার রাত ১০ টার দিকে কলারোয়া পৌর সদরের তুলশীডাঙ্গা গোডাউন মোড়ের একটি দোকানে মোবাইলে চার্জ দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে ওই স্থানে পৌছালে কে বা কারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলায় কোপ মেরে দ্রুত পালিয়ে যায়। এতে তার গলার হুড়কানীর সিংহভাগ কেটে যাওয়া অবস্থায় তিনি আহত অবস্থায় নিজে পায়ে হেটে আবারও ওই গোডাউন মোড়ে ফারুকের দোকানের সামনে এসে পড়ে যায়। পরে ওই মোড়ে থাকা লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কলারোয়া হাসপাতালে ভর্তি করেন। কলারোয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার অবস্থা অবনতি দেখা দিলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কর্তব্যরত ডাক্তার সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পরার্মশ দেন। সে মোতাবেক তার ভাইয়েরা তাকে নিয়ে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে পথিমধ্যে মাধবকাটি নামক স্থানে পৌঁছালে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে তার ভাই আব্দুল লতিফ জানান,জমিজমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তাদের সাথে একই গ্রামের মৃত আহম্মদ আলী সরদারের ছেলে আবুল হোসেন সরদারসহ তার ছেলেদের ১৪/১৫ বছর যাবৎ বিরোধ চলে আসছিল। এরইমধ্যে ওই জমিতে লাগানো বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে কয়েক দফায় মারামারি ঘটনায় তার বোন সুফিয়া খাতুনের অন্যতম ভুমিকা থাকে। এছাড়া সম্প্রতি ৩/৪ দিন আগে মৌচাক থেকে মধু ভাঙ্গাকে কেন্দ্র করে একটি মারামারি হয়। এসব বিভিন্ন কারণে তার বোনকে তারা হত্যা করেছে বলে তিনি তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।

এ দিকে প্রতিপক্ষ আবুল হোসেন সরদারের ছেলে সিরাজুল ইসলাম জানান, ৬ শতক জমি নিয়ে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন যাবৎ আদালতে মামলা চলছে। আদালতে মামলা থাকার কারণে ওই বাঁশ ঝাড় থেকে তারা কখনও বাশ কাটেন না। এমনকি তাদের সাথে দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ মারামারিসহ গোলযোগও হয়নি। সম্প্রতি মুধ ভাঙ্গাকে কেন্দ্র করে যে গোলযোগ হয়। সেটি তাদের সাথে নয় পাশ্ববর্তী প্রতিবেশীর সাথে। তবে তাদের বোনের হত্যার ব্যাপারে যদি তাদেরকে জড়ানো হয় তবে সেটা হবে ষড়যন্ত্র মুলক।

এ ব্যাপারে কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম হত্যার বিষয়টি করে জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে এখনও পর্যন্ত নিশ্চিত করা যায়নি। কিন্তু প্রকৃত রহস্য উদঘটন করার জন্য পুলিশের চেষ্ঠা অব্যাহত রয়েছে। এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত  তার থানায় বিষয়টি নিয়ে কোন লিখিত অভিযোগ বা এজাহার দাখিল হয়নি বলে তিনি জানান।