কলারোয়ায় হত্যাকান্ডের ঘটনায় বেঁচে যাওয়া শিশু মারিয়ার দায়িত্ব নিলেন ডিসি


385 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কলারোয়ায় হত্যাকান্ডের ঘটনায় বেঁচে যাওয়া শিশু মারিয়ার দায়িত্ব নিলেন ডিসি
অক্টোবর ১৫, ২০২০ কলারোয়া ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কে এম আনিছুর রহমান ::

হাজারো মানুষের ভিড়ে মা-বাবার মায়া মমতা আর নির্ভরতার পরশ খুঁজে ফিরছে সদ্য এতিম হওয়া কলারোয়ার নিষ্পাপ শিশু ৬মাসের মারিয়া। সবাই জানলেও সে জানেনা বা বোঝেনা তার এই জীবনে আর কখনো পাবেনা মা-বাবার আদরমাখা স্নেহের পরশ। ঠিক এমন পরিস্থিতিতে মা-বাবা ও ভাই-বোন হারা ৬ মাস বয়সী অবুঝ শিশু মারিয়া সুলতানার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন সাতক্ষীরা মানবিক জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল। তিনি শিশু মারিয়া সুলতানাকে হেলাতলা ইউপির ৪, ৫ ও ৬ নং সংরক্ষিত ওয়ার্ড সদস্য নাসিমা খাতুনের জিম্মায় রেখেছেন । এখন থেকে তার চিকিৎসা এবং জীবন গড়ার যাবতীয় দায়িত্ব জেলা প্রশাসক গ্রহণ করেছেন বলে বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে যেয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন।

জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বলেন, কলারোয়ায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার পরিবারের জীবিত একমাত্র চার মাসের কন্যাশিশুর দায়িত্ব নিয়ে আপাতত দেখাশোনার জন্য স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্য নাসিমা খাতুনের কাছে রাখা হয়েছে। তাকে সাময়িকভাবে দেখভাল করতে অনুরোধ করা হয়েছে। পরবর্তীতে অভিভাবকরা দাবি করলে আইনানুগভাবে সমাধান করা হবে। এদিকে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমী জেরীন কান্তা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) আক্তার হোসেন শিশু মারিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শিশু খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী নয়ে হাজির হন ইউপি সদস্য নাসিমা খাতুনের বাড়িতে। সেখানে কিছু সময় অবস্থান করে ইউএনও মৌসুমী জেরীন কান্তা মাতৃস্নেহের পরম আবেশে বুকে তুলে নেন সবহারা এতিম শিশু মারিয়াকে। যেনো সবার সামনে সত্যি হিসেবে উঠে আসলো যার কেউ নেই তার আল্লাহ আছে।

ইউপি সদস্য নাছিমা খাতুন বলেন,জেলা প্রশাসক মহোদয়ের অনুরোধে এতিম শিশুটিকে দেখাশুনা করছেন। আগামীতেও দেখবেন বলে সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। তিনি আরো বলেন, শিশুটি বর্তমানে ভালো আছে। কান্নাকাটি করছে না।

এদিকে, তালা-কলারোয়ার সংসদ সদস্য জননেতা অ্যাড.মুস্তফা লুৎফুল্লাহ কলারোয়ার এমন বর্বর হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে ঢাকা থেকে ছুটে আসেন নিহতদের বাড়িতে। তিনি এ সময় সদ্য এতিম হওয়া শিশুটির খোঁজ খবর নেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।