‘কলারোয়ায় হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার নিয়ে পুলিশের গড়িমশি’


404 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
‘কলারোয়ায় হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার নিয়ে পুলিশের গড়িমশি’
এপ্রিল ২, ২০১৭ কলারোয়া ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

শেখ মাহাবুব ও আশরাফুল আলম ঃ
হত্যা মামলার আসামির গ্রেফতার নিয়ে কলারোয়া থানা পুলিশের গড়িমশি ও আসামি কর্তৃক বাদীকে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকির প্রতিবাদে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।  রোববার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন কলারোয়া উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের মোঃ আঃ বারিকের ছেলে মোঃ আব্বাস উদ্দীন।
তিনি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, বিগত ২০১৬ সালের শেষের দিকে আমার কন্যা আমেনা খাতুনের সাথে চান্দুড়িয়া গ্রামের দীন মোহাম্মদ গাজীর ছেলে ওমর আলী র সাথে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তার সংসারে বিভিন্ন অশান্তির কথা আমার কানে আসলেও আমি সেদিকে কর্ণপাত করি নাই। বিয়ের প্রায় ২ মাস পর চলতি বছরের ৬ জানুয়ারী রাত ৯টার দিকে আমার কন্যার শ্বাশুড়ি আনোয়ারা বিবি আমার বাড়িতে এসে জানায় আমার কন্যাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ ঘটনা শোনার পর আমরা বিভিন্ন স্থানে তাকে খোঁজাখুঁজি করি। এ সময় চান্দুড়িয়া গ্রামের ইসারইল ও আলী আমার বোন হাসিনা, মামাতো ভাই মামুনকে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করে এবং তারা বলে আমার কন্যা নাকি অন্য কারো সাথে চলে গেছে। আমি কোন উপায় না পেয়ে ৭ জানুয়ারী কলারোয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি। যার ডায়েরী নং-২৪৫। অথচ আমার কন্যা আমেনা নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে খোঁজার ব্যাপারে আমার জামাতা ও তার পরিবার তেমন কোন আগ্রহ দেখাননি। নিখোঁজের ৪ দিন পর আমি সংবাদ পাই ইছামতি নদীতে আমার কন্যা আমেনার লাশ পড়ে আছে। এরপর ইছামতি নদী থেকে পুলিশ গলায় ওড়না পেচানো অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে। লাশ উদ্ধারের আগের দিন আমার জামাতার পরিবার গাঁ ঢাকা দিয়ে পালিয়ে যায়। এলাকাবাসীর মাধ্যমে জানতে পারি আমার কন্যার স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন তাকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে আমি বাদী হয়ে কলারোয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করতে যায়। কিন্তু তৎকালীন ওসি ইমদাদুল হক শেখ আমার অভিযোগ মোতাবেক মামলা না নিয়ে তার ইচ্ছামত প্রথমে ৩ জনকে আসামি করে মামলা রেকর্ড করেন। পরবর্তীতে আরো ২ জনের নামসহ মোট ৫ জনের নামে উল্লেখ করে মামলাটি রেকর্ড করেন। এ মামলার আসামিরা হলেন, চান্দুড়িয়া গ্রামের দ্বীন মোহাম্মদ গাজী, তার ছেলে ওমর আলী, স্ত্রী আনোয়ারা বিবি, একই এলাকার আনসার আলীর ছেলে আলী ও তার ছেলে ইসরাইল।
তিনি বলেন, মামলা রেকর্ডের ৭ দিনের মধ্যে পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারের প্রতিশ্রুতি দিলেও এই হত্যা কান্ডের প্রায় ৪ মাস মাসের মধ্যে মাত্র ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত বাকী আসামীদের গ্রেফতার করতে পারেননি পুলিশ।
এদিকে এ মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আসামিদের পক্ষ নিয়ে গরু ব্যবসায়ী স্থানীয় মেম্বর লাভলু ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি প্রদান করছেন। লাভলু প্রকাশ্যে বলছেন, ২ লাখ টাকা নিয়ে মামলা তুলে নাও, তা না হলে রক্তের বন্যা বইয়ে দেবো। তিনি আরো বলেন, আসামি পক্ষের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ নিয়ে ওই মেম্বর এ ধরনের ন্যাক্কার জনক কাজের সুপারিশ করছেন। এ বিষয়ে কলারোয়া থানা পুলিশকে জানালেও পুলিশ লাভলুর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। ইতিমধ্যে লাভলু আমার বাবা আব্দুল বারিকের পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এছাড়া শার্শা থানার দাউদখালি গ্রামের মান্নান, গোয়ালপাড়া গ্রামের নুর ইসলামও টাকার বিনিময়ে বিষয়টির মিমাংসা করে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন । কিন্তু নিজের সন্তান হত্যার বিনিময়ে কিভাবে টাকা নেব, এ প্রশ্ন সকল পিতা-মাতার কাছে। স্থানীয় মেম্বর লাভলুসহ বিভিন্ন মানুষের হুমকির মুখে পড়ে বর্তমানে আমিসহ আমার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। আমি আমার কন্যা হত্যার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি ও হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার ও কলারোয়া থানার নবাগত ওসিসহ সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।