কলারোয়ায় ২৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের মানবেতর জীবন


565 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কলারোয়ায় ২৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের মানবেতর জীবন
এপ্রিল ১৮, ২০১৬ কলারোয়া ফটো গ্যালারি শিক্ষা
Print Friendly, PDF & Email

কে এম আনিছুর রহমান, কলারোয়া :
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় স্কুল,কলেজ ও মাদ্রাসাসহ ২৪ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ ৯ বছর অতিবাহিত হলেও আজও এমপিওভুক্ত হয়নি। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের ৪ শতাধিক শিক্ষক কর্মচারী মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে,অতীতে অন্য উপজেলার তুলনায় এ উপজেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কম ছিল। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক এম এ ফারুকসহ অনেক শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি শিক্ষিত বেকারদের সহায়তায় গড়ে তোলেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে কোন কোন ক্ষেত্রে সামান্য কিছু সরকারী নীতিমালা লঙ্ঘিত হলেও এলাকাবাসির সুবিধাটা বেশী হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেশী হওয়ার কারণে যেমন বেড়েছে শিক্ষার হার,অন্যদিকে হয়েছে অনেকের কর্মসংস্থান। উপজেলার এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বিগত বিএনপি সরকারের শেষের দিকে এবং আ’লীগ সরকারের প্রথম দিকে। সেই থেকে দীর্ঘ ৯/১০ বছর যাবৎ এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো শিক্ষিত জাতি গঠনে ব্যাপক ভুমিকা পালন করে আসছে। তবে এর মধ্যে কেয়ারটেকার সরকার প্রায় তিন বছর এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপই গ্রহন করেনি। কেয়ারটেকার সরকারের পরে আ’লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার প্রথম দিকে সারা দেশে এক দেড় হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করেন। তার মধ্যে কলারোয়ায় একটি মাত্র মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত হয়। এরপর আবারও ক্ষমতায় আসেন আ’লীগ সরকার কিন্তু এ সরকারের বয়সও দুই বছর পার হলেও এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেই। ফলে এ উপজেলায় ২৪টি প্রতিষ্ঠানের ৪ শতাধিক শিক্ষক কর্মচারীর জীবনে নেমে আসে চরম দুর্র্দিন। যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়নি সেগুলোর মধ্যে ৪টি কলেজ, ১৩টি হাইস্কুল ও ৭টি মাদ্রাসা। কলেজগুলো হলো-কলারোয়া পৌর সদরের হাবিবুল ইসলাম কলেজ,বামনখালী ইঞ্জিঃ শেখ মুজিবুর রহমান কলেজ,হেলাতলা টেকনিক্যাল কলেজ ও কোটা কে এম এ কৃষি প্রযুক্তি কলেজ। স্কুল ১৩টি হলো-কলারোয়া পৌর সদরের শিশু ল্যাবরেটরি  মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলারোয়া নবারণ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়,কে.এম.এ মিউনিসিপ্যাল নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শহীদ স্মৃতি বালিকা বিদ্যালয়, ব্রজবকস ফাতেমা বেগম বালিকা বিদ্যালয়,শাকদা নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, চন্দনপুর নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়,কেঁড়াগাছি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বীরমুক্তিযোদ্ধা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এছাড়া পৌর সদরের বেত্রবতী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়,বাটরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়,মমতাজ আহম্মেদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সাতপোতা রহিমা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। তবে উক্ত ৪টি প্রতিষ্ঠান নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় এমপিওভুক্ত হয়। কিন্তু মাধ্যমিক পর্যায় এখনও এমপিওভুক্ত হয়নি ওই ৪টি প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে বেত্রবতী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে দীর্ঘ ১৩ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিলেও মাধ্যমিক পর্যায় এমপিও না হওয়ায় শিক্ষক কর্মচারীরা মানবেতর জীবন-যাবন করছেন বলে প্রধান শিক্ষক রাশেদুল হাসান কামরুল জানান।  ৭টি মাদ্রসা হলো- ধানঘোরা দাখিল মাদ্রাসা, পুটুনী দাখিল মাদ্রাসা, ডি.এম নাছিরউদ্দীন দাখিল মাদ্রাসা,মামনখালী বালিকা দাখিল মাদ্রাসা, ক্ষেত্রপাড়া মহিলা মাদ্রাসা, কলারোয়া মহিলা দাখির মাদ্রাসা, ও শাকদা দাখিল মাদ্রাসা। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়তে এলাকার দানশীল ব্যক্তিরা জমিদান করেন,আর শিক্ষিত বেকার যুবকরা টাকা দিয়ে ঘর নির্মান চেয়ার টেবিল ব্লাকবোর্ড বেঞ্চসহ অবকাঠামো নির্মান করে পাঠদান শুরু করেন। একদিকে বিপুল পরিমান অর্থ বিনিয়োগ,অপরদিকে দীর্ঘদিন যাবৎ বেতন না পাওয়ার কারণে পরিবার পরিজন নিয়ে দর্বিসহ জীবন যাপন করছেন নন-এমপিওভুক্ত এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীরা। এসকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীদের প্রানের দাবি কলারোয়া উপজেলার সবক’টি নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হোক।
শিক্ষকের মানবেতর জীবন-যাপনের কথা স্বিকার করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল হামিদ বলেন,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও’র বিষয়টি সম্পূর্ণ সরকারের বিষয়। এ বিষযে তার কোন হাত নেই। তবে শিক্ষকদের ব্যাপারে এ সরকারের ব্যাপক অবদান আছে। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও’র বিষয়টি নিয়ে অতিব তাড়াতাড়ি সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।