কলারোয়ায় ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রকে মারপিট করে মুখ ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ


378 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কলারোয়ায় ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রকে মারপিট করে মুখ ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ
নভেম্বর ৮, ২০১৬ কলারোয়া ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কে.এম আনিছুর রহমান :
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ৩০০ বার কান ধরে উঠবস করতে না পারায় হাসিবুল নামে চতুর্থ শ্রেণীর এক ছাত্রকে মারপিট করে চোখের নীচে মুখের উপর রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগ করা হয়েছে জেসমিন নামে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার খলসি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। আহত ওই ছাত্র উপজেলার দক্ষিণ দিগং গ্রামের মালায়েশিয়া প্রবাসী জিয়ারুল ইসলামের ছেলে।

এ ঘটনায় আহত ছাত্র হাসিবুল হোসেনের (০৯) মা সালমা খাতুন বাদী হয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারও প্রাথমিক শিক্ষা অফিস বরাবর পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

লিখিত অভিযোগের বিবরণে জানা যায়, গত সোমবার স্কুল চলাকালীন সময়ে বাংলা বিষয়ের পড়া হাসিবুল ইসলাম পারে নাই। পড়া না পারার কারণে হাসিবুলকে ওই ক্লাস শিক্ষক জেসমিন ৩০০ বার কান ধরে উঠবস করতে বরেন। ম্যাডামের কথামত সে ১৮০ বার উটবস করে অসুস্থ হয়ে পড়ে যায়।

ওই অবস্থায় শিক্ষক জেসমিন ক্ষিপ্ত হয়ে হাসিবুলকে লাঠি দিয়ে মারপিট করে চোখের নীচে মুখের উপর রক্তাক্ত জখমসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ফোলা জখম করলে সে সজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে যায়।

পরে হাসিবুলের মা জানতে পেরে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসা দেন।
আহত শিশু ছাত্র হাসিবুল জানান, মুখে মারপিট করে রক্ত পড়ার পরেও তাকে আরো মারপিট করা হয়।

এছাড়া তার মত  সুমন ও ইব্রাহিম নামে আরো দুই বন্ধুকে এভাবে কান ধরে উঠবস করানো হয়।
অভিযুক্ত শিক্ষক জেসমিন জানান, স্কুলের পাশে একটি গাছে মৌচাকে ঢিল ছুড়লে মৌমাছি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের কামরায়।

এ ধরণের দুষ্টমী করার কারণে তারসহ কয়েকজনের কান ধরে উঠবস করতে বলা হয়। তবে তাকে মারপিট করা হয়নি। চোখের উপর হাতে থাকা লাটির ঘুরাতে গিয়ে লেগে সামান্য ছিলে যায়।

প্রধান শিক্ষক তহমিনা খাতুন জানান, ঘটনার সময় তিনি অফিসিয়িাল কাজে বাইরে ছিলেন। তিনি থাকলে হয়তো এ ধরণের কোন ঘটনা ঘটত না। এমনকি তিনি এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে লাটি দিয়ে মারপিট করা হয়নি বলে তিনি জানান।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আকবার হোসেন জানান, তিনি এ বিষয়ে কিছু জানতেন না,তবে মঙ্গলবার ওই শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে একটি রিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগটি তদন্ত করে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
##