কলারোয়ায় ৪৫ বছরেও গণকবর ও মধ্যভূমি সংরক্ষন করা হয়নি


372 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কলারোয়ায় ৪৫ বছরেও গণকবর ও মধ্যভূমি সংরক্ষন করা হয়নি
ডিসেম্বর ২০, ২০১৬ কলারোয়া ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কে এম আনিছুর রহমান,কলারোয়া :
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ৪৫ বছর পার হলেও কলারোয়ার অনেক গণকবর ও মধ্য ভূমি গুলি আজো অযতœ- অবহেলায় পড়ে আছে। সংরক্ষনের কোন ব্যবস্থা করা হয়নি। প্রতিবছর ডিসেম্বর আসলেই শহীদের আপন জনেরা তাদের কথা স্বরণ করে নিরবে ফেলেন চোখের জল। ৯ মাসের স্বাধীনতা যুদ্ধে কলারোয়া বাসীর রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। এই যুদ্ধে ২ শতাধিক বীর যোদ্ধা অংশ গ্রহন করে প্রাণপন লড়াই ও মুক্তিকামী মানুষের সহযোগীতায় একাত্তরের ৬ ডিসেম্বর পাকহানাদার বাহিনীর তান্ডব লীলা থেকে মুক্ত হয় কলারোয়া। ৯ মাসে ৬/৭ টি সম্মুখ যুদ্ধে ও পাকবাহিনীর কাছে অনেক মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী মানুষ শহীদ হন।  সূত্র জানায়, কলারোয়া উপজেলার ৯টি গণকবরের অস্থিত আছে। সে গুলো হলো- কলারোয়া পৌর সদরের শ্রীপতিপুরের পালপাড়ায় ৯ জন,কলারোয়া ফুটবল মাঠের দক্ষিনে ৫ জন, উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা বাজারে ৭ জন, ভাদিয়ারিতে ৪ জন, গয়ড়া বাজারে ২ জন, সোনাবাড়িয়া মোড়ে ৩ জন, সোনাবাড়িয়া মঠ মন্দির এলাকায় ৩ জন, বামনখালীর ঘোষপাড়ায় ৩ জন, এবং কলারোয়ার পাশ্ববর্তী শার্শা থানার জামতলা নামক স্থানে ৭ জন। ৭১’এর ৩০ এপ্রিল কলারোয়ার শ্রীপ্রতিপুরের পাল পাড়ায় প্রথমে ব্রাশ ফায়ার চালিয়ে গণহত্যা করে বৈদ্যনাথ পাল, রঞ্জন পাল ও বিমল পাল সহ ৯ জনকে। পরে  পাক সেনারা তাদেরকে একই গর্তে ফেলে মাটি চাপা দিয়ে চলে যায়। বধ্যভুমিটি আজও সংরক্ষন করা হয়নি। কলারোয়ার বালিয়াডাঙ্গা বাজারের গণকবরে হাফিজ, জাকারিয়া ইমাদুল সহ ৭ জন, ভাদিয়ালী গ্রামের সীমান্ত নদীর তীরে ইউসুফ সহ ৪ জন, বামনখালী ঘোষ পাড়ার গন কবরে রাজন্দ্র ঘোষ, খগেন্দ্র ঘোষ সহ ৩ জন, সোনাবাড়িয়া মঠ মন্দির সংলগ্ন  গণকবরে হাজরা, গাঙ্গুলীসহ ৩ জন চির নিদ্রায় শাহিত রয়েছেন। লতা পাতা ও আগাছায় ঢাকা পড়ে থাকা এ গন কবরের খবরও রাখেনা স্থানীয় অনেক লোকজন। তবে গয়ড়া বাজারে শহীদ মিনারের পিছনে চির নিদ্রায় শাহিত রয়েছেন শহীদ নুর মুহাম্মদ ও এলাহী বক্স। এই ২ মুক্তিযোদ্ধার কবরটি স্থানীয় উদ্যোগে মুটামুটি সংরক্ষন করা হয়েছে। জানা গেছে, কলারোয়ার মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিতে খুলনা থেকে আসা ৫ ছাত্রকে হামিদপুর থেকে আটক করে থানার পিছনে দাড় করে পাক বাহিনী ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে সেখানেই মাটির গর্তে তাদের পুতে ফেলা হয়। এই গণকবরটিও অবহেলিত অপরিছন্ন অবস্থায়  পড়ে রয়েছে ।  এ ছাড়া কলারোয়া উপজেলা জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে অনেকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের কবর। কলারোয়ার খোরদো পাকুড়িয়া গ্রামের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব  হোসেনের কবর রয়েছে। খোরদো এলাকায় লোকজনের কাছে খোঁজ নিলেও অনেকেই কবরটির সন্ধান দিতে পারেনি। এমনকি স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসেও অনেক গণকবরে জোটে না ফুলের মাল্য সম্বলিত শ্রদ্ধাঞ্জলি। মুক্তিযুদ্ধ কালীন কমান্ডার ও আব্দুল গফ্ফারের মতে কলারোয়ার গণকবর ও বধ্য ভুমি সংরক্ষন করার বিষয়টি আজ সমায়ের ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে।