কলারোয়া পৌরসভায় তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থী দিথী প্রচারণায় শীর্ষে


493 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কলারোয়া পৌরসভায় তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থী দিথী প্রচারণায় শীর্ষে
ডিসেম্বর ১৭, ২০১৫ কলারোয়া ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কে এম আনিসুর রহমান/ আব্দুর রহমান মিন্টু :
সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌরসভা নির্বাচনে এই প্রথম বারের মতো সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া ) প্রার্থী দিথী বেগম। তিনি নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। প্রচার-প্রচারণায়ও অন্য প্রার্থীর চেয়ে পিছিয়ে নেই। প্রচারণায় বেশ এগিয়ে রয়েছেন। তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থী হওয়ায় তাকে নিয়ে সাতক্ষীরায়সহ দেশ ব্যাপী বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কলারোয়া পৌরসভার সংরক্ষিত ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রতিক পেয়েছেন চুড়ি।
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদ মিয়ার মেয়ে দিথী বেগম। কলারোয়া পৌরসভার সংরক্ষিত ৭,৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের প্রার্থী হিসেবে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
তিনি বলেন, ‘মনে রাখবেন কেউ কারো অধিকার দেয় না। অধিকার আদায় করে নিতে হয়। হিজড়াদের নিয়ে অবহেলার জবাব দিতেই আমি কলারোয়া পৌরসভার সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছি। নির্বাচনে জিতলে আমি তৃতীয় লিঙ্গের অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হবো। সব সময় থাকব গরিব আর অবহেলিত মানুষের পক্ষে’।
দিথী জানালেন, ‘কিছু মানুষ তাকে নিয়ে সমালোচনা  করলেও ভালবাসাও কম পাচ্ছেন না তিনি । এলাকার গরিব অবহেলিত মানুষই আমাকে বলেছেন নির্বাচনে অংশ নিতে। আর তাদের এই শক্তি নিয়ে আমি লড়াই করতে চাই। সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করতে চাই। ’
দিথীর সঙ্গী সীমা, অপু, নদী, নূপুর ও পায়েল জানান, তারা দিথীর পক্ষে কাজ করছেন। তাঁরা সবার কছে যাচ্ছেন। দিথী প্রার্থী হওয়ায় তারা সকলে বেশ আনন্দিত। বিভিন্ন এলাকার হিজড়ারা তার পক্ষে কাজ করার জন্য এলাকায় এসেছেন।  ভোট পর্যন্ত তারা নির্বাচনী মাঠে থাকবেন।
প্রচারে গিয়ে কেনো রকম বাঁধা বা অবহেলার মুখোমুখি হচ্ছেন কি না জানতে চাইলে দিতি ও তার সঙ্গিরা বলেন, বাঁধাতো দূরের কথা সাধারণ জনগন তাদের সহায়তা করছেন। তাঁরা উৎসাহ দিচ্ছেন।
এলাকার সাধারণ ভোটাররাও তাকে নিয়ে ভাবছেন। সাধারণ মানুষ তার জন্য কাজ করছেন। তাকে দিচ্ছেন বিভিন্ন ভাবে উৎসাহ ও সহযোগিতা।
সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশা, দিথী বেগমের জয়লাভের মধ্যদিয়ে সমাজের অধিকার বঞ্চিত মানুষেরা তাদের অধিকার ফিরে পাবে। সমাজ থেকে দূরহবে বর্ণ-বৈষম্য।