কলারোয়া পৌরসভায় মেয়র পদে লড়াই হবে ত্রি-মুখি


345 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কলারোয়া পৌরসভায় মেয়র পদে লড়াই হবে ত্রি-মুখি
ডিসেম্বর ২৪, ২০১৫ কলারোয়া ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কলারোয়া(সাতক্ষীরা) থেকে কে এম আনিছুর রহমান ॥
সারা দেশের ন্যায় আগামী ৩০ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা কলারোয়া পৌরসভা নির্বাচন। পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পৌর সদরে বিরাজ করছে উৎসব আমেজ আর আনন্দ। মোট কথা কলারোয়া পৌর নির্বাচন জমে উঠেছে। আর পৌর নিবার্চন ঘিরে কলারোয়া পৌর এলাকায় ৪ মেয়র প্রার্থী, ২৫ সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী ও ৫ সংরক্ষিত মহিলা আসনের প্রার্থীদের প্রচার প্রচার-প্রচারণা জমে উঠেছে। চলছে নির্বাচনী পথসভা ও মতবিনিময়। পৌর সদর ছেয়ে গেছে টাঙ্গানো পোষ্টার আর ব্যানারে। দুপুর দুইটার পর থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত প্রার্থীদের মাইকে প্রচার প্রচারনায় মুখোরিত কলারোয়া পৌরসদর। সার্বক্ষনিক প্রার্থীরা সময় পার করছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। ভোটারদের নিকট প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন এবং নিজ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করছেন। এমনকি বসে নেই প্রার্থীদের সহধর্মীনীসহ আত্মীয়-স্বজন ও কর্মী সমর্থকরা। কলারোয়া পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে ১৮ হাজার ৫’শ ২৫ জন ভোটারদের মধ্যে কে হবেন সেই সৌভাগ্যবান পৌর নগর পিতা বা মেয়র সেটাই এখন আলোচিত হচ্ছে পৌর সদরের বিভিন্ন চায়ের দোকান,মোড় ও ছোট ছোট বাজারসহ সর্বত্র।
জয় পরাজয় থাকবেই, তবুও কেউ বসে থাকে না, সামনে এগিয়ে যাওয়ার   স্বপ্ন সবারই থাকে। তাই পৌর বাসীর মন জয় করতে রাত-দিন ঘুরে বেড়াচ্ছেন চার মেয়র প্রার্থী। মেয়রপ্রার্থীরা হলেন- আ’ওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী কলারোয়া উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক রাজ পথের লড়াকু সৈনিক আমিনুল ইসলাম লাল্টু, বিএনপি’র মনোনীত মেয়র প্রার্থী কলারোয়া পৌর সভার নির্বাচিত প্রথম মেয়র উপজেলা বিএনপি’র ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক আক্তারল ইসলাম, স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী কলারোয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আরাফাত হোসেন ও জাতীয় পার্টির মনোনীত মেয়র প্রার্থী মুনছুর আলী। এ ছাড়া ২৫ জন সাধারণ কাউন্সিলর ও ৫ জন মহিলা সংরক্ষিত পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

Arafat
সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌরসভা ১৫.০৭ বর্গ কিলোমিটার আয়তন এবং ১০টি পাড়া মহল্লা বা এলাকা নিয়ে ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু পৌরসভাটির বিরুদ্ধে মামলা থাকায় র্দীঘ ২০ বছর পর ২০১১ সালে জানুয়ারী মাসে প্রথম নির্বাচন হয়। বর্তমানে পৌরসভাটি ২য় শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে। পৌরসভারটিতে ৯টি ওয়ার্ডে বর্তমানে ৩৩ হাজার ৬’শ ৩৬ জন জনসংখ্যা রয়েছে। যার মধ্যে নারী ভোটার সংখ্যা ৯ হাজার ৪’শ ২১ জন এবং পুরুষ ভোটার সংখ্যা ৯ হাজার ১’শ ৪ জন।
সরেজমিনে পৌর সভার বিভিন্ন এলাকায় গেলে এলাকাবাসী ও সাধারণ ভোটারা জানান, কলারোয়া পৌরসভায় ২০ দলীয় জোটের ভোটার সংখ্যা বেশী। গত নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থী আক্তারুল ইসলাম বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছিলেন। এ বছরও তিনি বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। তবে তিনি এবার দলীয় সর্মথন পেলেও বিএনপি’র নেতাকর্মীরা সরাসারি কাজ করছে না। তিনিসহ তার পরিবারের লোকজন মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বলে জানা যায়।
তবে আ’লীগ মনোনীত প্রার্থী আমিনুল ইসলাম লাল্টু এবার কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। গত নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থীর নিকট আ’লীগের প্রার্থী আমজাদ হোসেন হেরে গেলেও এবার মরণ-কামড় দিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন আ’লীগ প্রার্থী আমিনুল ইসলাম লাল্টু। তাছাড়া তার গ্রহনযোগ্যতা কোন অংশে কম নয়। তিনি দুই বার ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। গত বারের তুলনায় পৌর এলাকার ভোটারদের মধ্যে এবার আ’লীগের প্রার্থীর ভালই সাড়া দেখা যাচ্ছে। উপজেলা আ’লীগের সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ স্বপনসহ শীর্ষ স্থানীয় নেতা থেকে শুরু করে সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা মাঠে ভাল ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন দলীয় প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে। সব মিলিয়ে আ’লীগ এবার বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তাই এবার নির্বাচনে আ’লীগের প্রার্থীকে বাদ দিয়ে কোন কিছু ভাবার অবকাশ নেই।
এদিকে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আরাফাত হোসেনও প্রচার-প্রচারণায় পিছিয়ে নেই। তিনি গত নির্বাচনে মেয়র পদে পরাজয়ের পর থেকে র্দীঘ ৫ বছর পৌর বাসির জন্য কাজ করে আসছেন। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আ’লীগ ও বিএনপি,জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কমবেশী ভোট পাবেন। তিনিও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হিসেবে এবার নির্বাচনে কোমর বেঁধে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। এবার পচার-পচারণায় গত বারের তুলনায় অনেক এগিয়ে।

এ ছাড়া জাতীয় পার্টি কলারোয়া পৌরসভায় কখনও ভাল অবস্থানে ছিল না। তার পরেও তিনি থেমে নেই প্রচার প্রচারনায়।

আ’লীগ মনোনীত প্রার্থী আমিনুল ইসলাম লাল্টু জানান, কলারোয়া পৌর সভার অনেক এলাকায় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি,সুপীয় পানীয় জলের কোন ব্যবস্থা নেই, পৌর সভার অধিকাংশ এলাকা জলাবদ্ধ থাকে, পৌর এলাকায় কোন দুর্ঘটনা ঘটলে এ্যাম্বুলেন্স বা গাড়ি ঢোকার মত কোন রাস্তা নেই। কলারোয়া পৌরসভাকে তিনি মডেল পৌরসভা উপহার দিতে চান । তাই পৌরবাসি আগামী ৩০ ডিসেম্বর তাকে ভোট দিয়ে জয়ের মালা পরাবেন বলে তিনি আশাবাদী।
বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী আক্তারুল ইসলাম জানান, আগামী ৩০ তারিখ কলারোয়া পৌর সভা নির্বাচন অবাধ,সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ হলে তিনি আবারও মেয়র হবেন বলে আশাবাদী এবং পৌর সভার অসমাপ্ত কাজগুলি সমাপ্ত করতে চান বলে তিনি জানান। তিনি অভিযোগ আরো বলেন, ইতোমধ্যে তার সাথে থেকে যে সব নেতাকর্মীরা মাঠে কাজ করছেন বিনা দোষে তাদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। এ ভাবে গ্রেফতার করে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতংক সৃষ্ঠি করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী আরাফাত হোসেন জানান, গত পৌর নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকে তিনি আজও পর্যন্ত পৌর বাসির সুঃখে-দুঃখে পাশে আছেন এবং থাকবেন। কলারোয়া পৌরসভার অধিবাসীরা খুবই অবহেলিত। তাই এ অবহেলিত পৌরবাসি ও তিনি আগামী ৩০ ডিসেম্বর অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চান। আর ভোটাররা স্বাধীনভাবে ভোটের মাঠে গিয়ে  নিরপেক্ষভাবে ভোট দিতে পারলে তিনি জয়ী হবেন বলে আশাবাদী। এ ছাড়া তিনি অভিযোগ করে বলেন,ইতোমধ্যে তার কর্মীদের বিভিন্নভাবে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের লোকজন হুমকি-ধামকী দিচ্ছে এমনকি গ্রেফতারও করা হচ্ছে।
ফলে জাতীয় পাটির প্রার্থী মাঠে থাকা আর না থাকা সমান কথা। তাই সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে আগামী ৩০ ডিসেম্বর কলারোয়া পৌর নির্বাচনে আওয়ামীলীগ-বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে ত্রি-মুখি হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। তবে কে নগর পিতা হয়ে জয়ের মুকুট পরবেন তার জন্য পৌরবাসিকে অপেক্ষা করতে হবে আগামী ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত।