কলারোয়া পৌরসভা নির্বাচনে তৃতীয় লিঙ্গের নারী কাউন্সিলর প্রার্থী দিথী এখন আলোচিত প্রার্থী


134 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কলারোয়া পৌরসভা নির্বাচনে তৃতীয় লিঙ্গের নারী কাউন্সিলর প্রার্থী দিথী এখন আলোচিত প্রার্থী
জানুয়ারি ২২, ২০২১ কলারোয়া ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কে এম আনিছুর রহমান ::

আসন্ন ৩০ জানুয়ারী সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌরসভা নির্বাচনে তৃতীয় লিঙ্গের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী দিথী খাতুনের নাম সবার মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে। এই প্রার্থীকে ঘিরে কলারোয়া পৌরসভা নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে এক ভিন্ন মাত্রার উৎসাহ-উদ্দীপনা ও কৌতূহল দেখা দিয়েছে। গত বারের ন্যায় এবারের নির্বাচনেও তিনি কলারোয়া পৌরসভার ৭, ৮, ৯ নং ওয়ার্ডসহ সকলের দৃষ্টি কেড়েছে। এই নারী কাউন্সিলর প্রার্থী দিথী এখন সবখানেই পরিচিত মুখ ও আলোচিত প্রার্থীও।

সবাই এখন জেনে গেছেন এই প্রার্থীর নাম। মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী তৃতীয় লিঙ্গের দিথী খাতুনকে নিয়ে ইতোমধ্যে সৃষ্টি হয়েছে মানুষের নানামুখী কৌতূহল। তাঁর নির্বাচনী প্রতীক ‘আংটি’। তৃতীয় লিঙ্গ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী এই প্রার্থী এবারের নির্বাচনে কেমন করবেন-তা নিয়ে গেল বারের মতো এবারও মানুষের রয়েছে ভীষণ আগ্রহ।

গত ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে দিথী খাতুন সর্বপ্রথম চুড়ি প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হন। সেই নির্বাচনে তিনি ১১ ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। এবারও অদম্য দিথী খাতুন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন আংটি প্রতীক নিয়ে। এই সংরক্ষিত আসনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য প্রার্থীরা হলেন- আনারস প্রতীকে মোছা: শাহানাজ খাতুন, চশমা প্রতীকে রূপা খাতুন, জবাফুল প্রতীকে হাসিনা আক্তার ও টেলিফোন প্রতীকে জাহানারা খাতুন। দিথী খাতুনের আশা, তিনি এবার নির্বাচনে বৈতরণী পেরিয়ে যাবেন।

দিথী খাতুনের বিশ্বাস, জন প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে সমাজের মূল ধারায় চলে আসা। মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে থেকে সেবা করা। তারা নাগরিকত্বসহ ভোটাধিকার লাভ করেছেন। এমনকি দিথী খাতুনের মতো অনেকে নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করছেন। সমাজের মূল ধারার সাথে সম্পৃক্ত হয়ে তারাও সমাজ উন্নয়নে অবদান রাখতে প্রতিশ্রুতিশীল। তারাও সমাজের অন্যদের মতো ভূমিকা রাখতে চান।

সমাজ বদলেছে। মানুষ প্রগতির পথে দ্রুত এগুচ্ছে। সকল ক্ষেত্রে উন্নয়ন হচ্ছে। এই চলমান উন্নয়নে শরীক হতে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষও আগুয়ান হতে চান। তারা নিজেদের মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান। তারা একলা নন। এদেশ, সমাজ, দেশের মানুষ তাদের পাশে থাকবে-এমন বিশ্বাস বিশেষ গোষ্ঠীর এই মানুষের। পৌরসভার সংরক্ষিত নারী ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী দিথী খাতুনের সাথে কথা বলে এই অনুভূতি পাওয়া গেছে।

দিথী খাতুন আরো জানান, সমাজে পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়াতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। নারী উন্নয়ন, নারীর অধিকার সমুন্নত ও নারী শিক্ষা বিস্তারে তিনি কাজ করতে চান। কোনো শিশু যেনো তাঁর এলাকায় প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়-সেজন্য তিনি দীর্ঘদিন কাজ করে আসছেন। শিশুদের শিক্ষা উপকরণ, পোশাক, ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণসহ শিক্ষা বিস্তারে তিনি কাজ করে চলেছেন নিরন্তর।

তাছাড়া দু:স্থ মানুষের চিকিৎসার জন্য ওষুধ কিনে দেওয়া, দরিদ্র ছেলে-মেয়েদের পরীক্ষার ফিস দেওয়া, কন্যার বিয়েতে পিতাকে সহায়তা করা, বিয়ের সার্বিক আয়োজনে সহায়তা করা, যেকোনো বিপদে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো-এমন সেবামূলক কাজেই প্রতিটি দিন কাটে দিথী খাতুনের। নিজের সামর্থের পুরোটাই তিনি নিবেদন করেন মানুষের জন্য। আর এজন্যই এলাকার মানুষের কাছে তিনি গ্রহণযোগ্যতা পেতে চলেছেন।

শিক্ষাগত যোগ্যতার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। তিনি বলেন, তাঁর পৈত্রিক নিবাস ছিলো যশোর সিটি কলেজ এলাকায়। বাবার নাম আব্দুল হামিদ মিয়া। তাঁরা ৩ ভাই ও ১ বোন। ভাই ৩ জনের কোনো সমস্যা নেই। কেবলমাত্র তাঁর পরিবারে তিনিই বিশেষ সম্প্রদায়ের। অন্যরা সুস্থ-স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন।

তিনি একটু বড় হওয়ার পরে পরিবার ছেড়ে চলে আসেন ও মিশে যান তাঁর গোত্রীয় অন্যদের সাথে। এভাবে চলতে থাকে পথ পরিক্রমা। অবশেষে তিনি স্থায়ী হন কলারোয়ার এই মির্জাপুরে। এখানে জমি কিনে বাড়ি বানিয়ে শুরু করেন বসবাস। নিজ গোত্রীয় মানুষের সাথে মিলে চলতে থাকেন।

দিথী বলেন, আমার এ পথচলা একলা শুরু করেছিলাম। এখন চলতে চলতে এগিয়ে গেছি কিছুদূর। আরও দূরে যেতে চাই। মানুষকে সাথে নিয়ে মানুষ হিসেবে সমাজে বেঁচে থাকতে চাই। চাই সমাজের উন্নয়নে সকলের সাথে এগিয়ে যেতে। আমার এই পথচলার একটি পাথেয় হতে চলেছে এ নির্বাচন। এই নির্বাচনে ভোটারদের সমর্থন তাঁকে এগিয়ে নিতে পারে অনেকদূর। এনে দিতে পারে সম্ভাবনাময় দিন, আলোকিত সমাজ-যেখানে থাকবে সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িকতা।