কলারোয়া সংবাদ ॥ কপোতাক্ষ ও বেত্রবতী নদী ঘেঁষা ৩০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি


1522 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কলারোয়া সংবাদ ॥ কপোতাক্ষ ও বেত্রবতী নদী ঘেঁষা ৩০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি
আগস্ট ২৩, ২০১৬ কলারোয়া ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কে এম আনিছুর রহমান, কলারোয়া :
টানা দুই দফায় ভারি বর্ষনে উজান থেকে নেমে আসা ঢল,কপোতাক্ষ নদ ও বেত্রবতী নদীর উপছে পড়া পানি এবং তীরের ভেঁড়িবাধ ভেঙ্গে কলারোয়া উপজেলার কপোতাক্ষ ও বেত্রবতী নদী ঘেঁষা উপজেলা সদরসহ ৭টি ইউনিয়নের ৩০ গ্রামের বির্স্তীন এলাকা প্লাবিত হয়ে প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানিতে ডুবে সর্ম্পূন নষ্ট হয়ে গেছে বীজ তলাসহ কয়েক হাজার বিঘা জমির আমন ধান। প্রতিদিন পানি বাড়তে থাকায় ওই জনপদের মানুষ ঘরবড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছে এলাকার বিভিন্ন স্কুল-মাদ্রাসাসহ উচু রাস্তার উপর অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে। গত কয়েকদিন ধরে ত্রানের অভাবে অভূক্ত আছে ওই এলাকার কয়েক’শ মানুষ। এখনও পর্যন্ত তারা সরকারী অথবা কোন বেসরকারী সংস্থা থেকে পায়নি কোন ত্রান বা সাহায্য। বিশুদ্ধ পানি বা স্যানিটেশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় ওই এলাকার বৃদ্ধ ও শিশুরা সর্দি কাশি, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানি বাহিত রোগে ভুগছেন। মঙ্গলবার কলারোয়ার প্লাবিত এলাকা ঘুরে এসব চিত্র দেখা যায়।

সরেজমিনে গেলে উপজেলার ১১নং দেয়াড়া ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য তোজামউদ্দীন ,স্থানীয় সমাজ সেবক ওয়জেদ আলী খাঁ, আব্দুর রব, আতিয়ার রহমান বিশ্বাসসহ অনেকে বলেন, টানা দুই দফায় ভারী বর্ষনে কপোতাক্ষ তীরের বালিমাঠ ভেঁড়ি বাধ ভেঙ্গে পানির শো শো শব্দে নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। তাছাড়া  উজান থেকে নেমে আসা ঢল নাব্যতা হারা কপোতাক্ষ ধারন করতে না পেরে নদের উপছে পড়া পানি কপোতাক্ষের তীর ঘেঁষা দেয়াড়া সানা পাড়া, মাঠপাড়া,বালিমাঠ,মার্ছিনগর মাঠ, আবাদ পাড়া, খাঁন পাড়া,কারিগর পাড়া, বাওড়কান্দা, মীরডাঙ্গা ও পাকুড়িয়া গ্রামে প্রবেশ করে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এমনকি প্রতিটি বাড়ির আঙ্গিনাসহ ঘরের ভিতর পানি ঢুকে পড়ে।
একই ইউনিয়নের পাকুড়িয়া সরকারী প্রাথমিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেয়া পচা বিশ্বাস, রাধাপদ বিশ্বাস জানান, তাদের ঘরবড়িতে পানি উঠে যাওয়ায় পরিবাররের সদস্যদের নিয়ে গত ২/৩ দিন ধরে তারা এখানে আশ্রয় নিয়েছে। রান্না খাওয়ার জন্য ঘরে চাল ডাল নেই। দুই বেলা শুকনো রুটি খেয়েই থাকতে হচ্ছে। গত দুই দিন পেরিয়ে গেলেও কেউ কোন সহায়তার জন্য আসেনি। বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নেয়া গ্রামের গোলাম মোস্তফা, আব্দুস সাত্তার, ইনছার আলী, বাবলূ, আতিয়ার রহমান ওয়াজেদ আলীসহ অনেকেই জানান, এলাকার প্রতিটি বাড়ি পানিতে স্থান বিশেষ ৩ থেকে ৭ ফুট পর্যন্ত নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। ঘের ও পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। মাঠের ফসলও পানিতে ডুবে গেছে। গরু ছাগলসহ সহায় সম্বল নিয়ে তারা ঘর বড়ি ছেড়ে দিয়েছেন। এলাকায় কোন কাজও নেই। কি করে সংসার চলবে সে চিন্তায় তারা এখন দিশেহারা।

kalaroa pho-23
দেয়াড়া ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান মফে বলেন, তার ইউনিয়নের ৪ টি ওয়ার্ডে  প্রায় ১৪ হাজার লোকের বসবাস তার মধ্যে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার মানুষের বাড়ি ঘরে পানি প্রবেশ করেছে। পানিতে তার এলাকার অনেক কাঁচা ঘর-বাড়ি ধসে পড়েছে। ৩০ বিঘা জমির আউশ-আমন ধানের বীজতলা আগাম রোপন করা দুই’শ’বিঘা জমির ধান এবং শতাধিক মাছ চাষের পুকুরসহ ঘের ভেসে গেছে। তিনি আরো বলেন,  তার এলাকায় বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয়া এসব অভূক্ত মানুষদের  খোজ খবর নিয়েছেন তবে কোন ত্রান সহায়তা প্রদান করতে পারেননি। তবে তিনি জলাবদ্ধ এলাকার এসব পানিবন্দি মানুষগুলোকে বাঁচাতে অতিদ্রুত সরকারি সহায়তা প্রদানের আহবান জানিয়েছে উর্দ্ধতন কতৃপক্ষকে।

উপজেলার ১নং জয়নগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামছুদ্দীন আল মাসুদ বাবু বলেন,পানির চাপে কপোতাক্ষের বেঁড়িবাধ ভেঙ্গে তার এলাকার ধানদিয়া, ক্ষেত্রপাড়া, দক্ষিন ক্ষেত্রপাড়া,বেলেমাঠ ও মোল্যা পাড়ার বাড়ি ঘরে পানি উঠে গেছে। পানিতে ইউনিয়নের প্রায় ৬০০ বিঘা জমির ফসলসহ ১০-১৫টি বাড়িঘর ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া তার এলাকার ঐতিহ্যবাহি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরসকাটি ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গাজনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রতিদিন দুই থেকে তিন ইঞ্চি করে পানি বাড়ছে। পলি জমে নদী ভরাট ও তাতে প্রচুর পরিমানে কচুরি পানা থাকায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বিঘিœত হচ্ছে। ফলে নদীর উপছে পড়া পানি নি¤œাঞ্চলসহ লোকালয়ে প্রবেশ করে সৃষ্টি হয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতার।

News Photo231
উপজেলার যুগীখালী ইউনিয়নের  ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল হাসান জানান, তাদের এলাকার ওফাপুর খালের স্লুইজ গেটের কপাট ভেঙ্গে কয়েকদিন ধরে কপোতাক্ষের উপচে পড়া পানি কামারালী, তরুলিয়া, তালুন্দিয়া, যুগীখালী, আগুনপুর ও রাজনগর বিলে প্রবেশ করছে। পানির তোড়ে এলাকার প্রায় দুই হজার বিঘা জমিতে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এ মৌসুমে এসব বিলের কোন জমিতে আমন ধান রোপন করা যাবে না বলে তিনি জানান।
উপজেলার ২নং জালালাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাস্টার শওকত আলী জানান, গত দুই দফায় টানা বর্ষনে তার ইউনিয়নের শংকরপুর, সিংহলাল, জালালাবাদ, বাটরা, ঘরচালা কাশিয়াডাঙ্গাসহ আশে পাশে গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

kalaroa-pic-23
এদিকে বেত্রবতী নদীর উপছে পড়া পানি কলারোয়া উপজেলা চত্ত্বরে প্রবেশ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিস, উপজেলা চেয়ারম্যানের অফিস,ভাইস চেয়ারম্যানের অফিস, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সামনে  ও বেত্রবতী হাইস্কুলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
এ ছাড়া ৯ নং হেলাতলা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড রঘুনাথপুর পশ্চিম ও উত্তর পাড়ার অধিকাংশ ঘরবাড়িতে পানি উঠে গেছে। এমনকি কাঁচাঘর বাড়ি ধসে পড়ায় অনেকেই বাড়ি ছেড়ে অন্যত্রে আশ্রয় নিয়েছে।

১০ নং কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের রায়টা, লক্ষিখোলা, কুশোডাঙ্গা, পানিকাউলিয়াসহ অধিকাংশ মাঠে পানি থইথই করছে। এ সব এলাকার প্রায় অর্ধশতাধিক মাছের ঘের ভেসে গেছে।

তালা-কলারোয়ার সংসদ সদস্য এ্যাড.মুস্তফা লুৎফুল্লাহ ও কলারোয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ স্বপন যথাক্রমে জানান, তারা এখনও ওই সব প্লাবিত অঞ্চল ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যেতে পারেননি। তবে বিভিন্ন ভাবে খোঁজখবর নিয়েছে। অতিদ্রুত ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার চিত্রটি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলে তারা জানান।
###

কলারোয়া সীমান্তে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার সময় আটক ৫

কলারোয়া প্রতিনিধি :
কলারোয়া সীমান্তে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার সময় ৫ ব্যক্তিকে আটক করে থানা পুলিশে সোপার্দ করেছে বিজিবি। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার মাদরা সীমান্তের মেইন পিলার ১৩/৩ এস ৮ আরবীর নিকট থেকে তাদেরকে আটক করা হয়।  আটককৃতরা হলো-খুলনা জেলার কয়রা থানার বগা গ্রামের শ্রী সুবোল কুমার মন্ডলের ছেলে শ্রী রবিন্দ্র নাথ মন্ডল (৩০), আনোয়ার হক গাজির ছেলে আমিরুল ইসলাম (১৮), হাকিম গাজির ছেলে ইমরান হোসেন (২১),আরশাদ সরদারের ছেলে মিজানুর রহমান (২০),ও শ্রী অমল মন্ডলের ছেলে দূর্জয় মন্ডল (১৮)। মাদরা বিজিবি ক্যাম্পের হাবিলদার সুকুমার জানান, মঙ্গলবার সকালে তার নেতৃত্বে ওই এলাকায় টহলকালে আটককৃতরা ভারতে যাওয়ার জন্য ওই স্থানে ঘোরাফেরা করছিল। এ সময় তাদেরকে আটক করলে তারা কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তাদেরকে থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এ ব্যাপারে কলারোয়া থানায় একটি মামলা হয়েছে।

আটককৃতরা জানান, তারা রাজমিস্ত্রি কাজ করার জন্যে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাচ্ছির বলে স্বীকার করেন।