কলারোয়া সংবাদ ॥ খাদ্যদ্রব্যের দাম আকাশ ছোঁয়া


262 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কলারোয়া সংবাদ ॥ খাদ্যদ্রব্যের দাম আকাশ ছোঁয়া
মে ১৮, ২০১৮ কলারোয়া ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কে এম আনিছুর রহমান,স্টাফ রিপোর্টার ::
সাতক্ষীরার কলারোয়া রমজানের শুরুতেই পৌরসদরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে কাঁচামালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রির মূল্য আকাশ ছোঁয়া লেগেছে। আর এ লাগামহীন বাজার ব্যবস্থাপনায় অতিষ্ঠ সাধারণ ক্রেতা-ভোক্তারা। এমনকি ক্ষোভ ও বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা সদরসহ ১২টি ইউনিয়নের প্রতিটি বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য দ্রব্য এক দিনের ব্যবধানে কিংবা গত সপ্তাহের তুলনায় প্রথম রোজায় অধিক মূল্যে বেচাবিক্রি হচ্ছে।

আফসার,আব্দুল করিম, আব্দুল মাজেদ, স্বপন, আব্দুল আলিমসহ একাধিক ক্রেতা জানান- খিরা বা শসা ২/১দিন আগেও কেজি প্রতি দাম ছিলো ২০ থেকে ২৫ টাকা, এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা। এমনকি গাজরের অবস্থাও প্রায় খিরার দামের মতো। খেজুর বা খোরমার দাম ছিলো ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, সেটার দাম হয়েছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। তারা আরো জানান- বেগুনের দাম ছিলো ২০ টাকা, তা এখন ৩৫ টাকা। আলু ছিলো ১৫ টাকা, তা এখন ২০ টাকা। কাঁচাঝাল ৪০ থেকে পৌছে গেছে ৬০ টাকায়, ভারতীয় পিঁয়াজ ২০ টাকার স্থলে ৩০ ছুইছুই, আর দেশী পিঁয়াজ ৩৫ টাকা থেকে গেছে ৪৫ টাকা। ২০ টাকার টমেটো হয়েছে ৪০-৪৫ টাকা। রমজানের অন্যতম খাদ্য সামগ্রি ৭০ টাকার গুড় এখন ১০০ বা তারও বেশি। পাকা কলা ৩৫/৪০ থেকে ৫০/৭০টাকা। কাঁচাকলা ২০ থেকে সরাসরি পৌছেছে ৩৫ টাকায়, পানের দাম বেড়েছে ডাবল। কাগুজি লেবু পিচ প্রতি পিচ ১ টাকা দাম ছিলো তা বাজার ভেদে দাম হয়েছে পিচ প্রতি ৫ থেকে ৮ টাকায়। ৫৫ টাকার চিনির দাম হয়েছে ৬০-৬২টাকা। তবে সোলার দাম রয়েছে অনেকটা স্থীতিশীল, বাজার ভেদে দেশি সোলা ৬৫ টাকায় থেমে আছে।
ফলে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা, বিপদে পড়ছেন দিনআনা দিন খাওয়া মানুষেরা।
আর খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান- রমজান উপলক্ষে প্রতিটি কাঁচামাল ও অন্যান্য পন্যের সংকট দেখা দেওয়ায় বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।
ফলে সাধারণ ক্রেতারা অবিলম্বে বাজার মনিটরিং করে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য দ্রব্যের দাম স্থিতিশীল রাখার জন্য উর্দ্ধতন কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্টদের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।
##
গানের সুরে বাঁশি বাজিয়ে জীবন চলে অন্ধ বসিরের
কে এম আনিছুর রহমান ::
সাতক্ষীরার কলারোয়া সরকারী কলেজ বাসস্টান্ডে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি চায়ের দোকানে চা খাচ্ছি। হঠাৎ কানে শব্দ আসলো কে যেন গানের সুরে বাঁশি বাজাচ্ছে। বাইরে এসে দেখলাম ইসলামী ব্যাংকের সামনে অনেক গুলো লোক তার গান শুনছে। আমিও এক পা দু’পা করে এগিয়ে গেলাম সেখানে। একের পর এক গানের সুরে বাঁশি বাজিয়ে যাচ্ছেন তিনি। একপর্যায়ে কয়েকটি গান শেষ করার পর তিনি বললেন, আমাকে যে যা পারেন একটু সাহায্য করেন। আমি চোখে দেখেনি। আমি নাম করা কোন শিল্পী নয়। এভাবে গানের সুরে বাঁশি বাজিয়ে প্রতিদিন তিন থেকে চার শত টাকা রোজগার হয় আমার। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কুশখালী গ্রামের মৃত আফসার আলীর ছেলে মেঠো পল্লীর অন্ধ বাঁশি শিল্পী বসির আহম্মেদ এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা গরীব মানুষ। সমাজের কাছে আমাদের অবস্থান খুবই নগণ্য। দুই চোখে দেখতে পাই না। তবে বাঁশির মাধ্যমে আমি কিভাবে গান গাইতে পারি, তা আমি নিজেও জানি না। এটা হয়তো বিধাতার কোনো খেলা। এছাড়া বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অনুষ্ঠান আমাকে গানের সুরে বাঁশি বাজাতে নিয়ে যায়। সেখান থেকে কিছু রোগজারও হয়। যা দিয়ে চলে আমার সংসার। আমার মা বাবা কেউ নেই। আছে কেবল আমার সাথি ও ইতি নামে দুই মেয়ে এবং স্ত্রী হাসিনা খাতুন।

তিনি আরো বলেন, সকলে বাড়ি থেকে বাঁশি বাজাতে বাজাতে বাহির হই, আর রাত ১১ টার দিকে বাড়িতে ফিরে আসি। তবে প্রত্যেকদিন বাইরে যাওয়া পড়ে না। কারণ জানতে চাইলে, প্রতিদিন বাঁিশ বাজালে দাঁতের গোড়া ব্যাথা হয়। তারপরেও চার জনেরও সংসার চালাতে তার প্রায়ই দিন বাইরে যেতে হয়। তবে তিনি জেলার বাইরে বেশী একটা যান না।

বশির নাম করা কোনো শিল্পী নয়। তবুও সাতক্ষীরার স্থানীয়দের কাছে সুপরিচিত ভ্রাম্যমান শিল্পী বসির আহম্মেদ (৪০)। বসির আহম্মেদের দুই চোখ অন্ধ। দেখতে পান না। তবে বাঁশি বাজিয়ে তিনি জীবিকা নির্বাহ করেন। বশিরের বাঁশির কণ্ঠে রয়েছে মধুর সুর। যে সুরের কারণে বাঁশি বাজানো শুরু করলে জনতার ভীড় জমতে থাকে প্রতিটি জায়গায়। আর ওইসব জনতার সাহায্যে চলে আসছে তার চার সদস্যের পরিবার।
##