কলারোয়া সংবাদ ॥ বায়ান্ন’র ভাষা সৈনিক শেখ আমানুল্লাহ’র স্মৃতিচারণ


541 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কলারোয়া সংবাদ ॥ বায়ান্ন’র ভাষা সৈনিক শেখ আমানুল্লাহ’র স্মৃতিচারণ
ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৯ কলারোয়া ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কে এম আনিছুর রহমান ::

ভাষার আন্দোলনের মাস ফেব্রুয়ারি। বছর ঘুরে আসে আমাদের মাতৃভাষা প্রতিষ্ঠার মাস এ মাস। আমাদের মাঝে আর দৃশ্যমান হন না বরেণ্য ভাষা সৈনিক শেখ আমানুল্লাহ। যিনি আমাদের চেতনায় রয়েছেন। তাঁকে ছাড়াই এই ষষ্ঠবারের মতো আমরা বিন¤্র শ্রদ্ধায় পালন করবো আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবস। তিনি প্রয়াত হয়েছেন ছয় বছর। তাঁকে আর আমরা পাবো না। তবে তিনি চিরদিনই থাকবেন আমাদের চেতনায় ও স্মৃতিতে অম্লান হয়ে। আলহাজ্ব শেখ আমানুল্লাহ ছিলেন আমাদের সবার শিক্ষাগুরু। তিনি যৌবনের সোনালি দিনগুলোতে মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে শুধু সোচ্চার ছিলেন না, নেতৃত্ব দিয়েছেন একেবারে সামনে থেকে। বায়ান্ন’র মহান ভাষা আন্দোলনের সূচনালগ্নের উত্তাল দিনগুলোতে তিনি এর সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন। তিনি আজও আমাদের চেতনায় সমুজ্জ্বল। আলহাজ্ব শেখ আমানুল্লাহকে এদেশের মানুষ এক নামে জানেন একজন বিদগ্ধ শিক্ষক নেতা হিসেবে। শিক্ষকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সারাটা জীবন তিনি নিজেকে বিলীন করে দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি যে একজন ভাষা সৈনিক, তা অনেকটা রয়ে গেছে ইতিহাসের আড়ালে।
জানা যায়, শেখ আমানুল্লাহ ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা সাতক্ষীরা জেলার অন্যতম এক সৈনিক ছিলেন। সর্বজন শ্রদ্ধেয় এই ভাষা সৈনিকের বায়ান্ন’র সেই উত্তাল দিনগুলোর সাহস ও বীরত্বের কথা অনেকেই জানেন না। প্রচার বিমুখ এই ভাষা সৈনিককে এ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রয়োজন মাতৃভাষা আন্দোলনের ইতিকথা জানানোর জন্যই। ১৯২৯ সালের ৫ জুলাই সাতক্ষীরার কলারোয়ার ঝাঁপাঘাট গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন শেখ আমানুল্লাহ। ২০০৬ সালের এক সাক্ষাৎকারে শেখ আমানুল্লাহ জানিয়েছিলেন, ১৯৪৮ সালে যশোর এম এম কলেজে একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশ গ্রহণ করেন। সে সময়ের এই ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন আলমগীর সিদ্দিকী, আফসার আহম্মেদ সিদ্দিকী, রনজিৎ কুমার, হামিদা বানু, শেখ আমানুল্লাহসহ ছাত্র নেতৃবৃন্দ। তিনি জানিয়েছিলেন, ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ এম এম কলেজ থেকে একটি মিছিল এসে জমায়েত হয় তদানিন্তন ট্রেডিং ব্যাংক ময়দানে। সেখানে উপস্থিত বক্তারা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে প্রতিষ্ঠা করার দৃঢ় শপথ ব্যক্ত করেন। ওই একই বছরের ১৪ মার্চ কেন্দ্রীয় সংগ্রাম পরিষদের ডাকা সাধারণ ধর্মঘট চলাকালে স্কুল-কলেজের বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রীর সাথে যোগ দেন সাধারণ জনতা। যশোর কালেকটরেট ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত হয় বিশাল গণ সমাবেশ। সমাবেশ পন্ড করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও গুলিবর্ষণ করে। এতে আলমগীর সিদ্দিকী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হন। পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন অনেক নেতা-কর্মী। সারা দেশের মধ্যে সে সময়ে যশোরেই প্রথম ভাষা আন্দোলন ঠেকাতে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে। ৪৮ থেকে ৫২’র একুশে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভাষার দাবিতে সংঘটিত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সবগুলো আন্দোলন-সংগ্রামে শেখ আমানুল্লাহ অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। ভাষার আন্দোলনে অবদান রাখা এই মানুষটির প্রকৃত স্বীকৃতি তাঁর জীবদ্দশায় সেভাবে মেলেনি। নতুন প্রজন্ম জানে না ভাষার জন্য লড়াকু এই মানুষটির সংগ্রামের কাহিনি। বেঁচে থাকাকালীন একুশ’র বিভিন্ন আলোচনা সভায় শেখ আমানুল্লাহ বক্তৃতার মাধ্যমে তুলে ধরতেন তাঁর জীবনের অনেক পাওয়া না পাওয়ার কথা। আর কোনোদিন এ প্রজন্ম শুনতে পাবে না তাঁর সেই উদাত্ত কন্ঠের প্রত্যয়ী বাণী। ২০১৩ সালের ৩১ আগস্ট বেলা ১২ টার দিকে ঢাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে মত্যুবরণ করেন কিংবদন্তি ভাষা সৈনিক শেখ আমানুল্লাহ। ভাষা সৈনিক শেখ আমানুল্লাহ বিশ্বাস করতেন, বাঙালি জাতির যা কিছু অর্জন, তার মূলে হলো একুশের চেতনা। ভাষা আন্দোলনই বাঙালির সকল আন্দোলন-সংগ্রাম ও অর্জনের পটভূমি। মাতৃভায়ায় কথা বলার রাষ্ট্রীয় অধিকার হলো একুশের শ্রেষ্ঠ অর্জন। একুশের পথ বেয়েই এসেছে মহান মুক্তিযুদ্ধ। বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ পেয়েছে একটি স্বাধীন ভূখন্ড, একটি মানচিত্র আর সবুজের বুকে রক্তখচিত জাতীয় পতাকা। ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারায় তিনি গর্ব বোধ করতেন। কেননা, এই আন্দোলনই দিয়েছে মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার। বিশ্বের ১৮৯টি দেশে একযোগে পালিত হয় এ দিবসটি। তাই এ গৌরব বাংলাদেশের। এ গৌরব ভাষাশহিদদের। জীবদ্দশায় একুশের কয়েকটি অনুষ্ঠানে শেখ আমানুল্লাহ আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ভাষা আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে আজও পাইনি উল্লেখ করার মত কোনো স্বীকৃতি। এরপরও কেউ ভাষা সৈনিক বললে বুকটা এক অন্য ধরনের গর্বে ভরে যায়। শেখ আমানুল্লাহ প্রত্যাশা করতেন, তৃতীয় শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যন্ত বাংলা পাঠ্য বইয়ের একটি প্রবন্ধ ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে অন্তর্ভূক্ত থাকা দরকার। তিনি মনে করতেন, তাহলে একুশের চেতনা ধারণ করেই একজন শিক্ষার্থী বেড়ে উঠতে পারবে। কলারোয়ার বে-সরকারি অনেক কলেজ ক্যাম্পাসে শহিদ মিনার গড়ে না উঠায় শেখ আমানুল্লাহ তাঁর জীবদ্দশায় উদ্বেগ প্রকাশ করতেন। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার স্থাপনের ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করতেন। ভাষা সৈনিক প্রয়াত শেখ আমানুল্লাহ’র সৃষ্টিশীল কর্মময় জীবনাদর্শে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম দেশপ্রেম-ভাষাপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে, এমনটি প্রত্যাশা ভাষাপ্রেমীদের। তাঁর নামে কলারোয়ায় গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠান ‘শেখ আমানুল্লাহ ডিগ্রী কলেজ’ আজ দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষ কলেজগুলোর মধ্যে অন্যতম। এছাড়া মানুষের শ্রদ্ধায় ও উপলব্ধিতে প্রয়াত শেখ আমানুল্লাহ’র অবস্থান ছিলো, আছে এবং থাকবে।

#

কলারোয়ায় দূর্ঘটনায় আহত রবিনের শয্যাপাশে হিন্দু পরিষদের নেতৃবৃন্দ

কে এম আনিছুর রহমান ::

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় তেলবাহী ট্রাকের সাথে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে গুরুতর আহত কাজীরহাট বাজারের ‘সাতক্ষীরা ঘোষ ডেয়ারী’র মালিক রবীন ঘোষকে দেখতে যান কলারোয়া উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ ও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ। বুধবার বিকালে সাতক্ষীরার সিবি হাসপাতালে তাকে যান ওইসব নেতৃবৃন্দ । সেসময় তারা আহত রবিনের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন ও দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মনোরঞ্জন সাহা, উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্দীপ রায়, পৌর কমিটির সাধারণ সম্পাদক উত্তম ঘোষ, উজ্জল দাশ, সন্তোষ সরদার, নিখিল অধিকারী, ঐক্য পরিষদের নেতা ও কলারোয়া নিউজের স্টাফ রিপোর্টার গোপাল ঘোষ বাবু প্রমুখ।

#

কলারোয়ার ছলিমপুর কলেজে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী তরু ইসলাম
কে এম আনিছুর রহমান ::
সাতক্ষীরার কলারোয়ার ছলিমপুরের হাজী নাছির উদ্দীন কলেজের শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন কলেজটি নামকরণকৃত ব্যক্তিত্ব হাজী নাছির উদ্দীনের সেঝ ছেলে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী তরু ইসলাম। মঙ্গলবার কলেজ প্রাঙ্গনে প্রয়াত পিতা হাজী নাছির উদ্দীনের কবর জিয়ারত শেষে শিক্ষক মিলনায়তনে উপস্থিত শিক্ষকদের সাথে আলাপচারিতায় মুগ্ধ হন সম্প্রতি দেশে আসা তরু ইসলাম। এসময় প্রভাষক আল মামুন, জিয়াউর রহমানসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। কলেজ শিক্ষকদের আন্তরিকতায় অভিভূত হয়ে তরু ইসলাম জানান- ‘হাজী নাছির উদ্দীন কলেজ আমাদের গ্রামের ডিগ্রি কলেজ। কলেজের মসজিদ সংলগ্ন আব্বার কবর জিয়ারত করতে যেয়ে শিক্ষকদের অনুরোধে কলেজ চত্বরে কিছুক্ষন। সেই সাথে কলেজে কর্তব্যরত সবার প্রাণখোলা আতিথিয়েতা সত্যি মনে রাখার মত।’ উল্লেখ্য, পিতা হাজী নাছির উদ্দীনের নামে নিজের গ্রামের বাড়ি কলারোয়ার ছলিমপুরে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী এনাম আহমেদ কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠালগ্নে জমিদান, নামকরণের জন্য সরকার নির্ধারিত অর্থ প্রদান, প্রাথমিক পর্যায়ে ভবন তৈরিসহ আনুসাঙ্গিক বিষয়গুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন প্রয়াত হাজী নাছির উদ্দীনের পরিবার। সেই অর্থে প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম প্রয়াত হাজী নাছির উদ্দীনের সেঝ ছেলে তরু ইসলাম অস্ট্রেলিয়ায় প্রবাস জীবনযাপন করলেও মন ও নাড়ির টানে কলেজ ও এলাকার পাশে থাকার চেষ্টা করেন সবসময়। সুযোগ পেলে দেশে এসে কিংবা অস্ট্রেলিয়ায় থাকাকালীনও সর্বদা সংযোগ রাখেন এলাকায়।

#

কলারোয়ায় এলজিইডি’র ক্ষেত্রপাড়া উপ-প্রকল্প হস্তান্তর
কে এম আনিছুর রহমান ::
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় এলজিইডি কর্তৃক অংশগ্রহনমূলক ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ সেক্টর প্রকল্পের আওতায় ক্ষেত্রপাড়া উপ-প্রকল্পের হস্তান্তর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা ১১ টায় কলারোয়া অডিটোরিয়মে এ প্রকল্পের ব্যবহারিক হস্তান্তর অনুষ্ঠিত হয়। ক্ষেত্রপাড়া পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেড উক্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
ক্ষেত্রপাড়া পাবসস’র সভাপতি জয়দেব কুমার সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, তালা-কলারোয়ার সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সাতক্ষীরার নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ কুমার কুন্ডু, কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আর এম সেলিম শহনেওয়াজ, উপজেলা প্রকৌশলী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কলারোয়ার আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা নওশের আলী, ক্ষেত্রপাড়া পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি (পাবসস) ’র সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।
কলারোয়া এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২০১২ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের সাধরণ সভায় উপ-প্রকল্পটি সম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিলো এলাকার ফসল আগাম বণ্যার হাত থেকে রক্ষা, জলাবদ্ধতা দুর করা ও শুষ্ক মৌসুমে ভূ-গর্ভস্থ ও খালের প্রকৃতিক পানি দিয়ে ফসল উৎপাদন করা। প্রকল্পটি ১২ সালের তিন মার্চ উপজেলা সমন্বয় সভায় পাশ করা হয়।
উপ-প্রকল্পটি ১২ মার্চ ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ সন্ত্রানলয়ে পাঠানো হয়। পরে প্রকল্পটি সদর দপ্তর থেকে সম্ভব্যতা যাচাই করা হয়। প্রাথমিক বাছাইয়ের পরে উপ প্রকল্পটি (পিআরএ) গ্রাম সমীক্ষা করা হয়। সমীক্ষার পর রামষ্ণপুর, ক্ষেত্রপাড়া ও গাজনা গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় ফোকাস মিটিং বা আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেনী ও পেশার মানুষের সাথে কথা বলে উপ-প্রকল্পটি এলাকাবাসির জন্য যথাযথ বলে মাতামত প্রদান করেন। অত:পর উপ-প্রকল্পটি ফিজিবিলিটি এ্যন্ড ড্রয়িং ডিজাইন ষ্টাডি করার জন্য একটি ফার্মকে সদর দপ্তর এলজিইডি থেকে প্রেরণ করেন। উক্ত টিম অত্র উপ-প্রকল্পটি আই আর আর প্রস্তুত করেন।
এসবের মূল উদ্দেশ্য ছিলো উপ-প্রকল্পটিতে যে টাকা বিনিয়োগ করা হবে তার অধিক পরিমান বেনিফিড অত্র উপ-প্রকল্প থেকে আসবে। আই আর আর ফিজিবিলিটি পাশ করার পরে প্রকল্পটি প্রকল্পটি ড্রয়িং এ্যন্ড সম্পন্ন করার পরে উপ-প্রকল্পটি বাস্থবায়ন করার জন্য এপ্রাইজাল রিপোর্ট নির্বাহী প্রকৌশরী এলজিইডি দপ্তরে প্রেরণ করা হয়। রিপোর্টটি ডিষ্ট্রিক লেবেলে ডি এল আই এ পি ই সি কমিটিতে উত্থাপন করা হয়। উক্ত কমিটি এলজিইডিকে উপ-প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সুপারিশ করে।
পরে উপ-প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি গঠনের জন্য গত ২০১৫ সালের জুলাই মাসের এক তারিখে সাংগঠনিক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি তার নির্দিষ্ট কাজ করার জন্য পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি তার উপ-আইন প্রস্তুত করে। উপ আইন এবং প্রথম ব্যবস্থাপনা কমিটি গত ০১-০৯-১৫ তরিখে সাংগঠনিক রুপ লাভ করে। সাংগঠনিক কমিটির ১২ জন সদস্যের মধ্যে নারী সদস্য ছিলেন চার জন।
প্রথম ব্যবস্থাপনা কমিটি উপ-প্রকল্প বাস্থবায়নে ১২ টি শর্ত পুরন করে। তার অন্যতম শর্ত ছিলো উপ-প্রকল্প এলাকায় উপকার ভোগীদের কাছ থেকে পরিচালনা ও রক্ষানাবেক্ষন ফান্ড উত্তোলন করা। ফান্ডের পরিমান ছিলো ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৬শ’ ৮৭ টাকা। প্রকল্পের মাটি কাজের জন্য শতকরা তিন ভাগ, ইট বালি সিমেন্টের কাজের জন্য শতকরা এক দশমিক পাঁচ ভাগ। ১২ টি শর্ত পুরন হওয়ার পরে সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্যা ও উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ স্বপনের উপস্থিতিতে ত্রি-পক্ষীয় বাস্তবায়ন চুক্তি সম্পাদিত হয়। পক্ষ তিনটি হলো ইউনিয়ন পরিষদ, পাবসস ও এলজিইডি।
পরে শর্ত মোতাবেক উপ-প্রকল্প এলাকায় উপকার ভোগীদের জন্য ৩৮ লাখ ৮১ হাজার ৮৩১ টাকা ব্যয়ে ২.৫ কিলোমিটার বেঁড়ি বাঁধ নির্মান, ১৬ লাখ ৬ হাজার ৪৫৫ টাকা ব্যয়ে ১.৩ কিলোমিটার খাল খনন, ৬৬ লাখ ২৬ হাজার ৫১০ টাকা ব্যয়ে ডব্লিউ আর এস বা ওয়াটার রিটেনশান এক্সট্রাকসার রেগুলেটর, ৩৭ লাখ ৫৯ হাজার টকা ব্যয়ে বক্স কালভার্ট, ৫৭ হাজার ৮৩ টাকা ব্যয়ে দুইটি রেফারেন্স লাইন নির্মান সম্পন্ন করা হয়।
প্রসঙ্গত; সমিতির অফিসের (ডব্লিউ এম সি) জন্য নির্ধারিত জামি ক্রয় করা হয়। উক্ত জমির উপর অফিস ঘর নির্মামের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্ধসহ টেন্ডার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়। দু:খ জনক হলেও সত্য যে, সে সময় স্থানীয় চেয়ারম্যান ও সমিতির সভাপতি এলাকায় নিজেদের আধিপত্য বিস্তরকে কেন্দ্র করে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। এ অবস্থায় নানাবিধ বাঁধা বিপত্তির করনে অফিস ঘরটি করা যায়নি। প্রাপ্ত অর্থ ফেরত যায়।

#