কলারোয়া সীমান্তে চোরাচালান ঘাট দখল নিয়ে হাঙ্গামা


575 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কলারোয়া সীমান্তে চোরাচালান ঘাট দখল নিয়ে হাঙ্গামা
অক্টোবর ১, ২০১৫ কলারোয়া ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

আসাদুজ্জামান/ কে এম আনিছুর রহমান :
সাতক্ষীরার কলারোয়ার চারাবাড়ি এলাকায় চোরাচালানের জন্য ব্যবহৃত চোরাঘাট দখল নিয়ে দুই গ্রুপের হাঙ্গামায় একজন ইউপি সদস্যসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে শান্তি শৃংখলা বিঘিœত হতে পারে এই আশংকায় তাদের গ্রেফতার করে চালান দেওয়া হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হল, কেড়াগাছি ইউপি মেম্বর তৌহিদুজ্জামান, মহিদুল, মহিদুল ইসলাম মঈন ও জাকির।

বুধবার রাতে কলারোয়া উপজেলার চারাবাড়ি সীমান্তে এ ঘটনানটি ঘটে । এনিয়ে চোরাচালানিদের মধ্যে তীব্র  উত্তেজনা বিরাজ করছে। গ্রেফতারকৃতদের বৃহস্পতিবার দুপুরে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
তবে, ঘটনাস্থল থেকে ইয়ার আলি ও খালেক নামের দুই চোরাচালানি পালিয়ে যাওয়ায় তাদেরকে আটক করতে পারেননি আইনশৃখংলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

স্থানীয়রা জানান, কলারোয়ার কেড়াগাছি ইউনিয়নের ভারত সীমান্ত ঘেঁষা গ্রাম চারাবাড়ি চোরাচালান ঘাট  ওপেন সিক্রেটভাবে  ইজারা নিয়ে পরিচালনা করে আসছিলেন কেড়াগাছি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. ফারুক হোসেন।
সোনাই নদীর এই ঘাট দিয়ে ভারত ও বাংলাদেশে চোরাচালান পন্য পাচার থেকে আদায় করা চাঁদার টাকা দিয়ে তিনি আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য, জনপ্রতিনিধি, প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, সংবাদকর্মীসহ অনেককেই সন্তুষ্ট করে রাখতেন।
গত প্রায় ১৫ বছর ধরে ফারুক  এভাবে চোরাচালানের মতো অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছিলেন। আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের সহায়তায় এই ঘাট পরিচালিত হয় বলে জানান তারা।
এলাকার লোকজন আরও জানান সম্প্রতি একটি মহলের উসকানি পেয়ে  স্থান বিশেষে নগদ টাকা উৎকোচ দিয়ে ফারুক হোসেনকে বিতাড়িত করে একই গ্রামের আজহারুল ইসলাম চারাবাড়ি চোরাঘাটটি দখল করে নেন। তখন থেকে আজহারুল সংশ্লিষ্টদের টাকা ও অন্যান্য সুবিধা দিয়ে চোরাচালান তৎপরতায় সহায়তা দিয়ে আসছেন। এ নিয়ে কিছুদিন ধরে  ফারুক ও আজহারুল এই দুই পক্ষে উত্তেজনা বিরাজ করতে থাকে।
এলাকাবাসী আরও জানান, বুধবার রাতে একই  ঘটনায় দুই  পক্ষের সমর্থকরা  লাঠিসোটা, লোহার রড, ধারালো অস্ত্র ও বোমা নিয়ে চারাবাড়ি মোড়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। এসময় সেখানে যান কেড়াগাছি ইউপি মেম্বর মো. তৌহিদুজ্জামান। এর আগে কেড়াগাছির চোরাঘাট মালিক ইউপি মেম্বর  চোরাচালানি মো. ইয়ার আলি চারাবাড়ি ঘাট বন্ধ করে তার নিয়ন্ত্রনাধীন  চোরাঘাট ব্যবহারের জন্য চোরাচালানিদের প্রতি আহবান জানান। এতে বাধা হয়ে দাঁড়ায় চারাবাড়ির পক্ষে আরেক চোরাচালানি আবদুল খালেক। এ নিয়ে দুই পক্ষে চলছিল উত্তেজনা। তবে ইয়ার আলি ও খালেক গ্রেফতার এড়াতে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

এদিকে রাতেই এই  উত্তেজনার খবর পৌঁছায় বিজিবির তলুইগাছা বিওপি ও  কলারোয়া থানায়। বিজিবি ও পুলিশের দুটি দল যৌথভাবে এলাকায় অভিযান চালিয়ে উক্ত চারজনকে গ্রেফতার করে।  বিজিবি পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন গ্রেফতারকৃত প্রত্যেকেই চোরাকারবারি ।
কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) আবু সালেহ মোহাম্মদ মাসুদ করিম জানান ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে দুই পক্ষ হাঙ্গামার প্রস্তুতি  নিচ্ছিল। শান্তি  শৃংখলা বিঘিœত হবার আশংকায় তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অপরদিকে বিজিবির তলুইগাছা বিওপি কমান্ডার সুবেদার হায়দার আলি জানান চারাবাড়ি খাটাল ও কেড়াগাছি খাটাল দিয়ে ভারতীয় গরু পাচার নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে  এই হাঙ্গামার সময় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এদিকে  কেড়াগাছির ইউপি মেম্বর চোরাচালানি ইয়ার আলি জানান খাটাল নয় চারাবাড়ির চোরাঘাট দখল নিয়ে ফারুক ও আজহার গ্রুপ এই হাঙ্গামা করছিল ।