কলারোয়া সীমান্তে পাঁচ নারী পাচারকারী আটক : তিন যুবতি উদ্ধার


910 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কলারোয়া সীমান্তে পাঁচ নারী পাচারকারী আটক : তিন যুবতি উদ্ধার
মার্চ ১৬, ২০১৭ কলারোয়া ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কে এম আনিছুর রহমান,কলারোয়া ::
সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্তে ভারতে পাচারকালে চট্টগ্রামের তিন তরণী উদ্ধারসহ ৫ পাচ পাচারকারিকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। বুধবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে উপজেলার সীমান্তবর্তী দমদম বাজার থেকে তাদেরকে উদ্ধার ও আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলো- নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার আলায়ারপুর গ্রামের গোলাম কবিরের ছেলে সাকেরুল কবির ওরফে ইকবাল (৩২), নারায়ানগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানার বারদি গ্রামের মোস্তফা কামালের ছেলে মাহমুদুল হাসান ওরফে সুমন (২৫), ঢাকা ডিএমপির শাহাজানপুর থানার ১০৭ শান্তিবাগ এলাকার আক্তারী কামালের ছেলে হাবিবুল্লাহ (২২), শরিয়তপুর জেলার ডামুডা থানার কানাইকাটি গ্রামের লালচান মিয়ার ছেলে আক্কাজ আলী বাবু (২৮) ও দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ইব্রাহিম হোসেন (৩৫)।
এদিকে উদ্ধার হওয়া তিন তরুনী হলো- চট্টগ্রামের সিএমপির বায়োজিদ থানার পার্শে তাজু মাষ্টারের বাড়ির ভাড়াটিয়া কুমিল্লা জেলার বুড়িরচং থানার জগতপুর গ্রামের শাহাজানের মেয়ে নাহিদা বেগম (২২) ফেনি জেলার সোনাগাজি থানার চরকৃষ্ণজয় গ্রামের মৃত মহরম আলীর মেয়ে সুমি বেগম (১৯) ও একই থানার মির্জাপুর গ্রামের আব্দুল খালেকের মেয়ে আরজু আক্তার (১৮)।
উদ্ধার হওয়া তরুণী নাহিদা বেগম জানায়, আমরা তিনজন কম বেতনে চট্টগ্রামের ফোর এস গার্মেন্সে চাকরি করি। গত দুই মাস পূর্বে পাচারকারি সাকেরুল কবির ওরফে ইকবাল ও  মাহমুদুল হাসান ওরফে সুমনের সাথে পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে দুই পাচারকারি আমাদের তিনজনকে ওমানে নিয়ে বেশী বেতনে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখায়। একপর্যায়ে  আমারা রাজি হয়ে মাথা পিছু ৪০ হাজার করে টাকা দেয়। এরপর গত ১৫ মার্চ রাতে যশোর বিমান বন্দর দিয়ে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে আমাদেরকে যশোরে আসতে বলা হয়। যশোরে আসার পর পাচারকারিরা আমাদেরকে বিমান বন্দরে না নিয়ে কলারোয়া সীমান্ত এলাকায় নিয়ে যেতে থাকে। বিষয়টি আমাদের সন্দেহ হলে উপজেলার দমদম বাজারে পৌঁছালে  আমারা (তরুণীরা) ডাক চিৎকার করলে স্থানীয় জনতা আমাদেরকে উদ্ধার ও পাচারকারিদের আটক করে থানা পুলিশের সোপর্দ করে।
উদ্ধার হওয়া  আরেক তরুনী সুমি বেগম জানায়, আমরা যশোর যাওয়ার পর পাচারকারিরা  আমাদেরকে বিমান বন্দরে না নিয়ে দুটি প্রাইভেট কারে করে সীমান্ত এলাকায় নিয়ে যেতে থাকে। গাড়ির মধ্যে পাচারকারিরা আমাদেরকে বাদি করে খাগড়াছড়ি জেলার দিঘীনালা থানার বেতছড়ি গ্রামের নূর আলম ও খলিলুর রহমান কক্সবাজার জেলার রামু থানার ঈদগড় গ্রামের তৈমুরের বিরুদ্ধে নারী পাচারের মামলা করাবে বলে তারা শলাপরামর্শ করে। এতে  আমাদের সন্দেহ হলে  আমরা  উপজেলার সীমান্তবর্তী দমদম বাজারে পৌছার পর চিৎকার করি। এসময় বাজারেরর লোকজন ছুটে এসে আমাদের উদ্ধার ও তাদেরকে আটক করে থানা পুলিশে দেয়।
কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ  এমদাদুল হক শেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এবিষয়ে  উদ্ধার হওয়া নাহিদা বেগম বাদি হয়ে কলারোয়া থানায় একটি মামলা (নং-২৪) দায়ের করেছে। উদ্ধার হওয়া তিন তরুণীকে বর্তমানে সেন্টার ফর ইউমেন এন্ড চিলড্রেন ষ্টাডিস নামের একটি সংস্থার হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরে তাদের অভিভাবকদের নিকট ফেরত দেওয়া হবে বলে জানান।