কলেজের কমনরুম সম্পাদক থেকে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান


3013 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কলেজের কমনরুম সম্পাদক থেকে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান
মে ৬, ২০১৭ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

॥ বিশেষ প্রতিনিধি ॥
সাতক্ষীরার রাজনীতির আকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র মো. নজরুল ইসলাম। আলোকিত সাতক্ষীরা বিনির্মানে যে ক’জন মহান নেতা কাজ করেছেন এবং করছেন তাদের মধ্যে আলহাজ্ব মো. নজরুল ইসলাম একজন। সদা হাস্যোজ্বল সাদামনের মানব প্রেমিক আলহাজ্ব মো. নজরুল ইসলামের জন্ম সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের ছায়া সুনিবিড় পাখি-ডাকা সবুজ শ্যামলিমায় ঢাকা উত্তর ফিংড়ী গ্রামে। ১৯৫৩ সালের ১৭ নভেম্বর তিনি পিত্রালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আব্দুল জব্বার ও মাতার নাম রিজিয়া সুলতানা।
তাঁর শৈশব কেটেছে মরিচ্চাপ নদীর পাড়ে ছায়া সুনিবিড় শান্তির নীড় উত্তর ফিংড়ী গ্রামে। প্রাথমিক শিক্ষা জীবন শুরু হয় শিক্ষাকতার পাশাপাশি একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে তার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে জেলাসহ দেশের বাইরে। সাতক্ষীরা কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন। তিনি সাতক্ষীরা কলেজের ছাত্র সংসদের কমনরুম বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। শৈশব থেকে তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সৈনিক। মুজিব আদর্শকে বুকে ধারণ করে তিনি ব্যবসার পাশাপাশি জনসেবায় আত্ম নিয়োগ করেন। ১৯৯২ সালে তিনি ফিংড়ী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ছাতা প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। অবহেলিত ফিংড়ী ইউনিয়ন কে গড়ে তোলেন তিলোত্তমা রূপে। এর আগে ১৯৮৪ সালে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ফিংড়ী ইউনিয়ন ছিলো তখন আশাশুনি উপজেলার অধীনে।
নজরুল ইসলাম আশাশুনি উপজেলা আওয়ামীলীগের কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হন ১৯৮৪ সালে। ১৯৯৫ সালে জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দলকে গড়ে তোলেন মুজিব আদর্শের সৈনিক হিসেবে। ১৯৯৭ সালে আলহাজ্ব মো. নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক দিক থেকে শক্তিশালী করেন। ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের জাতীয় সংসদ নির্বাচিত তিনি নৌকা প্রতিক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। নির্বাচনে পরাজয় বরণ করলেও তিনি দলের ভিত্তি মজবুত করেছেন। ২০০১ সালের পয়লা অক্টোবর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতিক নিয়ে অংশ গ্রহণ করেন। এবারও তিনি বিএনপি-জামায়াত জোটের কাছে পরাজীত হন। কিন্তু হাল ছাড়েননি নৌকার। শক্তহাতে নৌকার হাল ধরে এগিয়ে নিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগকে। বিএনপি-জামায়াত জোটের কাছে তিনি দুইবার পরাজীত হলেও ২০০৯ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে দ্বিগুন ভোটের ব্যবধানে জামায়াতের প্রার্থীকে পরাজীত করেন। সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী হবার পর তিনি স্বচ্ছতা ও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। সে কারণে তাকে সততার প্রতীক বলা হয়।
অবহেলিত সাতক্ষীরা উপজেলার প্রত্যেকটি জনপদকে গড়ে তোলেন উন্নয়নের মডেল হিসেবে। দুর্নীতিমুক্ত সদর উপজেলা পরিষদ গড়ে তুলে তিনি জন নন্দিত হয়েছেন। ২০০৪ সালে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত  হন। ২০০৪ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন কালে সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত করেন। যে কারণে ২০১৫ সালের ৭ ফেব্রুয়ারী  তিনি পুনরায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারী  জামায়াত বিরোধী মুভমেন্ট তার ভূমিকা দলকে করেছে সুসংগঠিত। ১৯৯৫ সালে ফিংড়ী ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন কালে তিনি সততার প্রতীক হিসেবে শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদক পান। এছাড়া তিনি মহামান্য রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের হাত থেকে শ্রেষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি পদক। এছাড়া তিনি কাজী নজরুল স্বর্ণপদক’ কবি জসিম উদ্দীন পদক’ মাদার তেঁরেসা পদক সহ অসংখ্য পদক ও পুরস্কার পেয়েছেন। জেলার স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, পাঠাগারসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও সংস্কার করে সাতক্ষীরাকে আলোকিত করেছেন।
জেলার শিক্ষা, সংস্কৃতিক ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার তিনি হাট-বাজার, রাস্তা-ঘাট, বন্দর সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সংস্কার করেছেন। আলোকিত সাতক্ষীরা বিনির্মানে তার অবদান অপরিসীম।  ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক। তার সহধর্মীনী মিসেস সালেহা ইসলাম অবসরপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী, বর্তমানে গৃহিনী। বড় মেয়ে নূর জাহান জেসমিন বিবাহিত। বড় জামাতা ঢাকার সিএমএম আদালতের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মরত।  ছোট মেয়ে আইরিন পারভীন অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে খুলনা রোটারী হাইস্কুলে শিক্ষকতা করে। ছোট জামাতা-কেডিএ’র সিনিয়র নির্বাহী প্রৌকশলী। একমাত্র ছেলে রাজু আহমেদ ডাক্তারী পাশ করে বর্তমানে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে সরকারি চাকরিরত। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সৈনিক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে একজন কর্মী হিসেবে তিনি বেকারমুক্ত, ক্ষুধামুক্ত, মাদকমুক্ত, আধুনিক উন্নত সাতক্ষীরা গড়তে বদ্ধপরিকর।