কালিগঞ্জের চিংড়িখালি ও বৈরাগীর চকে বসবসরত ভূমিহীনদের উচ্ছেদের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন


399 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কালিগঞ্জের চিংড়িখালি ও বৈরাগীর চকে বসবসরত ভূমিহীনদের উচ্ছেদের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
জুলাই ২৮, ২০১৬ কালিগঞ্জ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার :
সাতক্ষীরার কালগিঞ্জ উপজেলার ভূমিহীন জনপদ চিংড়িখালি ও বৈরাগীর চকে বসবাসরত পাঁচ শতাধিক পরিবারকে উচ্ছেদেরে ষড়এন্ত্রর প্রতিবাদে বৃহষ্পতিবার দুপুর ১২ টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভূমিহীন আমজাদ হোসেন। তিনি বলেন, ২০০৪ সাল থেকে  চিংড়িখালি ও বৈরাগীর চকের ৮৫০ বিঘা জমিতে প্রায় পাঁচশত ভূমিহীন পরিবার বসবাস শুরু করে। একটি বেসরকারি সংস্থা ভূমিহীনদের তালিকা তৈরি করে কার্ড এর মাধ্যমে বিভিন্ন সহযোগিতা দিতে শুরু করে। ২০০৫ সাল থেকে কাশিবাটি গ্রামের শুকুর আলী মীরের ছেলে ব্যাংক ডাকাতি ও হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী আশরাফ মীর ওই ভূমিহীনদের নেতা সেজে কার্ডধারি ভূমিহীনদের উচ্ছেদ করতে থাকেন। উচ্ছেদ্দের পরপরই এক থেকে দু’ বিঘার এক একটি প্ল¬ট বিক্রি করা হয় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকায়। তিন মাস না যেতেই যে কোন অজুহাত দেখিয়ে তাদেরকে উচ্ছেদ করে ওই জমি অন্যত্র হস্তান্তর করা হয়। ২০০৫ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বৈরাগীর চক ও চিংড়িখালি থেকে উচ্ছেদ হওয়া কয়েক’শ ভূমিহীন  নলতা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেনের সহায়তায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে ২০১৫ সালের ২ মার্চ  আশরাফ মীরসহ তার কয়েকজন স্বজনকে সরিয়ে দিয়ে সেখানে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। গত বছরের ২৪ আগষ্ট ভোরে আবারো বৈরাগীরচক দখলে নেমে পড়েন আশরাফ মীর ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা। এসম বৈরাগীর চক ও চিংড়িখালিতে বসবাসরত প্রকৃত ভূমিহীনদের উচ্ছেদ করতে যেয়ে মুহু মুহু গুলি ও বোমা হামলা চালিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি আশরাফ মীর বাহিনীর। গোলা বারুদ ফুরিয়ে যাওয়ার পর পালাতে যেয়ে নিরস্ত্র ভূমিহীনদের গণপিটুনিতে মারা যান আশরাফ মীর ও তার শ্যালক ইছহাক পাড়। এ ঘটনায় কালিগঞ্জ থানার এসআই সাগর আলী বাদি হয়ে হত্যা ও অস্ত্র আইনে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করেন। প্রতিটি মামলায় ৬৬ জনের নামসহ অজ্ঞাতনামা ৩০০জনকে আসামী করা হয়।একই ঘটনায় নিহত আশরাফ মীরের স্ত্রী ফিরোজা বেগম বাদি হয়ে গত ৩০ আগষ্ট (সিআরপি-১৯৫/১৫), ইছহাকের ছেলে ইসমাইল হোসেন বাদি হয়ে(সিআরপি-২০৪/১৫)মামলা দায়ের করেন। গত ৭ সেপ্টেম্বর আদালতে এফিডেফিডের মাধ্যমে বাদি ইসমাইল হোসেন মামলা প্রত্যাহারের আবেদন জানান। পরদিন নিহত ইছহাকের স্ত্রী ফরিদা খাতুন আদালতে আরো একটি হত্যা মামলা (সিঅঅরপি-২১১/১৫)দায়ের করেন।
গত ২০ জুন মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা উপপরিদর্শক অমল কুমার রায় অস্ত্র ও বিষ্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে ৩৭ জনকে আসামী শ্রেণীভুক্ত করা হয়। হত্যা মামলার প্রতিবেদন যে কোন সময় আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উলে¬খ করা হয়, হত্যা মামলার পুলিশ প্রতিবেদন ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে ও চিংড়িখালি-বৈরাগীর চকে বসবাসরত ভূমিহীনদের উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র করতে আওয়ামী লীগ নেতা কর্মী ও সমর্থকদের বিএনপি জামায়াতের কর্মী সমর্থক বানিয়ে গত ২৬ জুলাই সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন আশরাফ মীরের স্ত্রী ফজিলা বেগম। একইসাথে এ জনপদে বসবাসরত সকল ভূমিহীনদের মাঝে জমি সরকারিভাবে বন্দোবস্ত প্রদান, এলাকায় সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে এনে সকল সুবিধা প্রদানের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভূমিহীন আব্দুল কাদের, মনিরুল ইসলাম পাড়. আতিয়ার সরদার, আরোয়ারা বেগম, খাদিজা খাতুন, মেনী খাতুন, নূরবানু প্রমুখ।#