কালিগঞ্জের চিংড়িখালি ভূমিহীন জনপদ পুরুষ শুন্য । মামলা দায়ের । দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন। নিহত আশরাফ মীর ও ইসহাকের দাফন সম্পন্ন


401 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কালিগঞ্জের চিংড়িখালি ভূমিহীন জনপদ পুরুষ শুন্য । মামলা দায়ের । দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন। নিহত আশরাফ মীর ও ইসহাকের দাফন সম্পন্ন
আগস্ট ২৫, ২০১৫ কালিগঞ্জ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

মল্লিক কে জামান :
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের বৈরাগিরচক-চিংড়িখালি ভূমিহীন জনপদে সরকারি খাস জমি দখলকে কেন্দ্র করে ভূমিহীন নেতা আশরাফ মীর ও তার শ্যালক একই এলাকার ইসহাক আলী গাজী নিহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে কালিগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। সোমবার রাতে কালিগঞ্জ থানার এ এস আই সাগর আলী বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এই মামলায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

কালিগঞ্জ থানার এস আই (ভারপ্রাপ্ত ওসি ) শহিদুল্লাহ মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানান, সোমবার রাতেই পুলিশের পক্ষ থেকে থানায় একটি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। ওই মামলায় ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই মামলায় মঙ্গলবার বেলা ১১ টা পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এলাকায় দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বৈরাগিরচক-চিংড়িখালি ভূমিহীন জনপদ এখন পুরুষ শুন্য হয়ে পড়েছে।

এদিকে, নিহত আশরাফ মীরের স্ত্রী ফজিলা বেগম সোমবার রাতেই বাদি হয়ে এই আবুল হোসেন, শহিদুল পাড়, করিম পাড়, মনি পাড়সহ ৫০/৬০ জনকে আসামি করে স্বামী হত্যার ঘটনায় কালিগঞ্জ থানায় একটি এজহার জমা দিয়েছেন বলে জানাগেছে। তবে সেটি পুলিশ রেকর্ড করেনি।

নিহত আশরাফ মীরের ছেলে হাসান মীর মঙ্গলবার সকালে ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানান, আমার মা ফজিলা বেগম বাদি হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করলেও পুলিশ তা রেকর্ড করেনি। তিনি আরও বলেন, এই হত্যার ঘটনায় আবুল হোসেন, শহিদুল পাড়,করিম পাড়, মনি পাড়সহ ৫০/৬০ জন জড়িত। কিন্তু পুলিশ মূল হুতাদেরকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি। শুনেছি, পুলিশ বাদি হয়ে যে মামলাটি করেছে তাতে আমাকে (নিহত আশরাফ মীরের ছেলে হাসান মীর) আসামি করা হচ্ছে। হাসান আরও অভিযোগ করে বলেন, আমার পিতা ও মামাকে যারা পিটিয়ে হত্যা করেছে তাদের বাড়িতে পুলিশ যাচ্ছে না। তারা এলাকায় রয়েছে। অথচ আমার পিতার যারা সহযোগি ছিলেন তাদের বাড়িতেই পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর মোদদাছছের হোসেন ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে জানিয়েছে, এই হত্যার ঘটনায় পৃথক ২ টি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া প্রায় চুড়ান্ত। একটি দন্ডবিধি আইনে এবং অপরটি বিস্ফোড়ন আইনে মামলা হচ্ছে। দু’টি মামলারই বাদি হবে পুলিশ। যেহেতু দুই পক্ষই ভূমিহীন এবং সরকারি খাস জমিতে বসবাস করছে বিধায় পুলিশ কোন পক্ষের দায়ের করা অভিযোগ আমলে নিচ্ছে না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ঘটনায় এক পক্ষে নিহত আশরাফ মীরের স্ত্রী ফজিলা খাতুন এবং অপর পক্ষে জনৈক এক মহিলা বাদি হয়ে কালিগঞ্জ থানায় পৃথক ২টি অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু পুলিশ কোন পক্ষের অভিযোগ গ্রহণ করেনি। পুলিশ বাদি হয়েই পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করবে।

মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় নিহত আশরাফ মীর ও  তার শ্যালক কাজলা গ্রামের  ইসহাক আলী গাজীর জানাজার নামাজ কালিগঞ্জের কাশিবাটি স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাদেরকে পারিবারিক কবরস্থনে দাফন করা হয়েছে। আশরাফ মীমের ছেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, এই হত্যার ঘটনায় পুলিশ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। এরা হলেন, মনিরুল ইসলাম, সেকেন্দার আলী, রেজাউল ইসলাম,নূর ইসলাম ও আব্দুর রউফ। এরা সবাই চিংড়িখালী ভূমিহীন জনপদের সরকারি খাস জমিতে বসবাস করে বলে জানাগেছে।

কালিগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানান, এলাকায় পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনাস্থলে তার নেতৃত্বে (সহকারী পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেনের)  নেতৃত্বে ৩০ সদস্যের অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরবর্তী  নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সেখানে পুলিশ মোতায়েন অব্যাহত থাকবে। এলাকা বর্তমানে শান্ত রয়েছে।

প্রসঙ্গত, সোমবার ভোরে কালিগঞ্জের কাশিবাটি গ্রামের ভূমিহীন নেতা আশরাফ মীর , তার শ্যালক কাজলা গ্রামের ইসহাক আলী গাজীসহ  ৫০/৬০  জন ভূমিহীন বৈরাগিরচক-চিংড়িখালী ভূমিহীন জনপদে যায়। তারা বৈরাগিরচক-চিংড়িখালীতে বসবাসরতদেরকে উচ্ছেদের লক্ষ্যে আকষ্মিক হামলা চালায় ।  এতে বাধা দিতে গিয়ে আহত হন চিংড়িখালি ভূমিহীন জনপদের ফিরোজ, গফুর ও  মনিসহ বেশ কয়েকজন । এ সময় সেখানে বসবাসরত ভূমিহীনরা সংগঠিত হয়ে পাল্টা হামলা চালায় এবং আশরাফ মীর , ইসহাক আলী গাজী ও আবু বকরকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে হাসপাতালে ভূমিহীন নেতা আশরাফ মীর ও ইসহাক আলী গাজী মারা যায়।

জানাগেছে, চলতি বছর ২ মার্চ আশরাফ মীর ও তার অনুসারী আরও প্রায় ৬৫ পরিবারকে বৈরাগিরচক-চিংড়িখালী ভূমিহীন জনপদ থেকে তাড়িয়ে দেয় স্থানীয় ভূমিহীনদের একটি পক্ষ। এ ঘটনার পর থেকে ভূমিহীন নেতা আশরাফ মীর ও তার সহযোগিরা ওই ভূমিহীন জনপদে উঠার চেষ্টা করছিল। তারা এ ব্যাপারে সাতক্ষীরার কয়েক জন ভূমিহীন নেতার সহযোগিতা চেয়ে  তাদের কাছে হাটাহাটি করছিল।