কালিগঞ্জের তারালী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে অবৈধভাবে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পায়তারা


356 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কালিগঞ্জের তারালী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে অবৈধভাবে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পায়তারা
আগস্ট ২৯, ২০১৭ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

আসাদুজ্জামান ::
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে অবৈধভাবে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পায়তারা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন অনিয়ম ও মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ওই স্কুলের এক সহকারী শিক্ষককে নিয়োগদানের জন্য বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি এ কাজটি করছেন বলে জানা গেছে।
প্রধান শিক্ষক পদে প্রার্থী তহমিনা খাতুন ও শরজিৎ কুমার ঘোষসহ একাধিক প্রার্থী অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আব্দুল কাদের সরদারসহ পরিচালনা পরিচালনা পরিষদের লোকজন মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে একই স্কুলের সহকারী শিক্ষক আনন্দ কুমার স্বর্ণকারকে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য পায়তারা চালাচ্ছেন। তারা বলেন, গত ০৫-০৭-২০১৭ ইং তারিখে “দৈনিক কালের চিত্র” ও “দৈনিক সকালের খবর” পত্রিকায় (ইংরেজিতে পারদর্শী) হতে হবে উল্লেখ করে অত্র স্কুলে প্রধান শিক্ষক আবশ্যক বলে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ঐ স্কুলের সহকারী শিক্ষক আনন্দ কুমার স্বর্ণকার ইংরেজিতে পারদর্শী না হওয়ায় তারা আবারো গত ইং ২৪-০৭-২০১৭ তারিখে “দৈনিক দৃষ্টিপাত” ও “দৈনিক সকালের খবর” পত্রিকায় (ইংরেজিতে পারদর্শী) কথাটি না দিয়ে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেয়া হবে বলে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। তারা আরো জানান, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল কাদেরকে সম্প্রতি প্রায়ই সহকারী শিক্ষক আনন্দ কুমার স্বর্ণকারের মটরসাইকেলে বিভিন্ন জায়গায় যেতে দেখা যায়।
আর এ সব কারনে প্রার্থীদের মধ্যে সন্দেহ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হওয়ায় তাদো অনেকেই এখন শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহন না করার সিদ্ধান্তও গ্রহন করেছেন। এলাকাবাসী এবং অভিভাবকবৃন্দ বর্তমান সরকারের শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সঠিকভাবে পরীক্ষা গ্রহনের মাধ্যমে একজন দক্ষ ও যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষককে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়ার জন্য সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
প্রথম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ইংরেজীতে পারদর্শী হতে হবে এবং দ্বিতীয় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ইংরেজীতে পারদর্শী হবার বিষয়টি কেন এড়িয়ে গেলেন এমন প্রশ্নে জবাবে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আব্দুল কাদের সরদার জানান, এ বিষয়টি কাউকে বলা যাবেনা। এছাড়া মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে একই স্কুলের সহকারী শিক্ষক আনন্দ কুমার স্বর্ণকারকে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের চেষ্টা চালাচ্ছেন কিনা এমন প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, এটা ঠিক নয়। এরপর তিনি এই প্রতিবেদককে ফোন রাখেন বলে তার ফোনটি কেটে দেন।

সদ্য অবসরে যাওয়া প্রধান শিক্ষক মুর্শিদ আলী জানান, তিনি ওই বিদ্যালয় থেকে অবসরে যাওয়ার পর আর কোন খোঁজই রাখেননা। এমনকি ওই পদে কয়জন দরখস্ত করেছেন তাও তিনি জানেননা বলে জানান।

বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জিয়াদ আলী জানান, টাকা পয়সা লেন দেনের বিষয়টি আমিও লোক মাধ্যমে শুনেছি। তিনি আরো জানান, টাকা পয়সা লেন দেন করতে হবে বলে আমি নিজেও এই পদে দরখস্ত করি নাই।

এ ব্যাপারে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজিজুর রহমান জানান, তিনি ঈদের পর পরই এ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন। ##