কালিগঞ্জের দুদলিগ্রামে রুটি রুজির পথ ধরে রাখতে আন্দোলন কমিটি গঠন


312 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কালিগঞ্জের দুদলিগ্রামে রুটি রুজির পথ ধরে রাখতে আন্দোলন কমিটি গঠন
জানুয়ারি ১৪, ২০১৬ কালিগঞ্জ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এম জিললুর রহমান :
অবশেষে নিজেদের রুটি রুজির পথ ধরে রাখতে কালিগঞ্জের রায়পুর দুদলি গ্রামের সচেতন জনগনের সমন্বয়ে “রায়পুর দুদলি গ্রাম বাঁচাও আন্দোলন কমিটি” নামের একটি আহবায়ক কমিটি  গঠন করা হয়েছে।

বুধবার দিনভর রায়পুর গ্রামে অত্র এলাকার সাধারণ মানুষ আলোচনা করে ইউপি সদস্য সৈয়দ রবিউল করিম’কে আহবায়ক ও শওকাত হোসেনকে সদস্য সচিব করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি গঠন করেন।

এই কমিটি রায়পুর দুদলি গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ৩ কিলোমিটার লম্বা ব্রিটিশ আমলে নিজেদের অর্থায়নে খননকৃত খাল রক্ষার জন্য সকল প্রকার আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রাচীনতম রায়পুর দুদলি গৈ খাল খনন, খালের পানি প্রবেশের উৎস্য মুখে রেগুলেটর নির্মান এবং ছোট ব্রীজ তৈরির লক্ষে ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা বরাদ্ধ আসে “ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ সেক্টর” নামে প্রকল্পের আওতায়।

জাইকার অর্থায়নে ও এলজিইডির তত্বাবধানে বাস্তবায়নের লক্ষ নিয়ে টেন্ডার আহবান করা হয়। ইতোমধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শেষে স্থানীয় প্রভাবশালি নাশকতার হোতা আবু তাহের এর নামে রায়পুর পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লি: এর ব্যানারে হস্তান্তর করার সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

আর এসব প্রক্রিয়া করতে ইতোমধ্যে কয়েক লাখ টাকার দফারফাও সম্পন্ন হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে এই খালের পানি বিক্রি নিয়ে নতুন করে ব্যবসা বাণিজ্যের পথ খোলার পাশাপাশি কথিত সমিতির নেতারা নিজেরাই মাছ করে খালের দুপাড়ে থাকা আনুমানিক দেড় হাজার ছোট বড় মৎস্য ঘেরের ব্যবসা বন্ধ করার চক্রান্ত করতে থাকে।
বিষয়টি এলাকার সাধারণ মানুষ বুঝতে পেরে সরকারের এই প্রকল্পের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে খালের পানির উৎস্য মুখে রেগুলেটর নির্মান বন্ধের দাবী জানাতে থাকে।

বিষয়টি জানতে পেরে এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী এ এস এম শাহেদুর রহিম গত সোমবার দুপুরে সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং সাধারণ মানুষের সাথে খোলা মেলা কথা বলেন। এক পর্যায়ে এলাকার মানুষ খালের পানির উৎস্য মুখে রেগুলেটর নির্মান করলে ক্ষতির দিক গুলো তুলে ধরেন। তিনি ঘটনাস্থল থেকে ফিরে এসে ওইদিনই উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানাগেছে।

এরপরও এলাকার এক শ্রেণীর কুচক্রী মহল জনগনের গলার কাটা নামক প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য নানান ষড়যন্ত্র অব্যহত রেখেছে। এসব কর্মকর্তা প্রতিহত করার লক্ষে কয়েক গ্রামের মানুষ একত্রিত হয়ে বুধবার “রায়পুর দুদলি গ্রাম বাঁচাও আন্দোলন কমিটি” গঠন করেছেন। নতুন এই সংগঠনের সভাপতি বলেন, কথিত প্রকল্প বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করলে এলাকার হাজার হাজার মানুষকে সাথে নিয়ে কঠোর হস্তে তা প্রতিহত করা হবে।

এদিকে অপর এক সূত্র জানায়, রায়পুর দুদলি গ্রামের সাধারন মানুষ একটি গনদরখাস্ত সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক বরাবর প্রেরণ করেন। জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান এডিসি রেভিনিউকে দায়িত্ব দিলে তিনি তদন্ত পূর্বক বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কলিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে মঙ্গলবার নির্দেশ দিয়েছেন। ইতোমধ্যে এনির্দেশনা কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাতে পেয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অপরদিকে জনস্বার্থ বিরোধী এই কর্মকান্ডে এলাকাবাসী উত্তপ্ত হয়ে উঠায় কথিত “রায়পুর পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লি:” এর সহ-সভাপতি সত্যেন ঘোষসহ বেশ কয়েকজন সদস্য উক্ত কমিটি থেকে স্থানীয় জনগনের স্বার্থসংরক্ষনের লক্ষে পদত্যাগ করেছেন।
পদত্যাগকারিরা ইতোমধ্যে রায়পুর দুদলি খাল উন্মুক্ত রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়ে “রায়পুর দুদলি গ্রাম বাঁচাও আন্দোলন কমিটি”তে সদস্য পদে যোগদান করেছেন। ফলে কুচক্রী মহলের কতিপয় সদস্যরা দিনের পর দিন ক্ষিপ্ত হয়ে এলাকার সাধারণ মানুষকে হয়রানির পায়তারায় লিপ্ত রয়েছে বলে দাবী এলাকাবাসীর। নতুন সংগঠনের আহবায়ক সৈয়দ রবিউল করিম ও সদস্য সচিব শওকাত হোসেন রাতে গনমাধ্যমকে জানান, কুচক্রী মহলের কোন ষড়যন্ত্র কাজে আসবে না। যত বাধাই আসুক এলাকার হাজার হাজার মানুষকে সাথে নিয়ে তার দাতভাঙ্গা জবাব দেয়া হবে।

এসব ব্যাপারে সাতক্ষীরা এলজিইডির দায়িত্বশীল সূত্র রাতে গনমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের টেন্ডার আহবান করা হয়েছিল।
গত ১২ জানুয়ারী সিডিউল বিক্রয়ের শেষ দিন ছিল কিন্তু সার্বিক বিষয়টি এলজিইডি’র উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের অবহিত করে সিডিউল বিক্রয়ের সময়সীমা বাড়িয়ে আগামী ২৪ তারিখ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন আমরা উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ প্রপ্তির অফেক্ষায় রয়েছি।