কালিগঞ্জের পল্লীতে পৈত্রিক সম্পত্তি ফিরে পেতে বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছে দু’বোন


307 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কালিগঞ্জের পল্লীতে পৈত্রিক সম্পত্তি ফিরে পেতে বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছে দু’বোন
মে ৪, ২০১৬ কালিগঞ্জ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

সুকুমার দাশ বাচ্চু কালিগঞ্জ সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ
পিতার রেখে যাওয়া পত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশংকায় অনাথ দুই বোন সবিতা ও নমিতা বিচারের আশায় পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অর্থ নেই বলে আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি বর্গাচাষীদের নামে ইজারা প্রদান করেছে সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ। আমরা আজ পথে পথে অন্যের সাহায্য ও সহযোগিতা নিয়ে কোন রকম বেঁচে আছি। এই কথা গুলো বলতে বলতে কেঁদে বিলাপ করতে থাকে কালিগঞ্জ উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের পূর্বনারায়নপুর গ্রামের মৃত শৈলেন্দ্রনাথ অধিকারীর কন্যা সবিতা ও নমিতা অধিকারী। তারা জানান, কালিগঞ্জ উপজেলার নারায়নপুর মৌজার এসএ ৫৫৯ নং খতিয়ানে ৪৩১৫ দাগে ৬৯ শতক সম্পত্তি তাদের ভোগ দখলে থাকা স্বত্বেও সম্পূর্ন বে-আইনী ভাবে একই গ্রামের মৃত কালিপদ ঘোষের পুত্রদের নামে ইজারা প্রদান করেছে কালিগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি)। সেই থেকে সম্পত্তি কৌশলে নিজেদের কব্জায় নিতে আপ্রাণ চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছে ঐ চক্রটি। পৈত্রিক সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার আশায় অসহায় ঐ পরিবারটি খুলনা বিভাগীয় কমিশনারসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক আবেদন করেও আজ পর্যন্ত কোন ফল পাইনি। তারা আরো জানান, বিরোধীও সম্পত্তি তৎকালিন সময়ে পুর্বনারায়পুর গ্রামের মৃত গুরুচরণ ঘোষের পুত্র কালিপদ ঘোষ নমিতার পিতা শৈলেন্দ্রের অধিকারীর কাজ থেকে জমিটি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করতো দীর্ঘদিন যাবৎ। তাদের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী বর্গাচাষী কালিপদ ঘোষ শৈলেন্দ্র অধিকারীকে জমির ফসলের ভাগ দিতেন। শৈলেন্দ্র অধিকারী মারা যায় বেঁচে থাকেন তার স্ত্রী রেনুকা অধিকারী তাকেও পূর্বের কথা অনুযায়ী সম্পত্তির ফসলের ভাগ দিয়ে আসতো কালিপদ ঘোষ। রেনুকা অধিকারী মারা গেলে ঐ সম্পত্তির খোজ নেওয়ার কেউ না থাকায় বর্গচাষিরা নিজেদের দখলে রেখে জমির ফসল দেওয়া বন্ধ করে দেয়। এক পর্যায়ে গ্রামের কিছু ব্যাক্তির সহযোগিতায় অসহায় হতদরিদ্র নমিতা ও সবিতা অধিকারী ওয়ারেশ সূত্রে জমির খোজ খবর নিয়ে জানতে পারে উক্ত সম্পত্তি কালিপদ ঘোষ অতি সু-চাতুরতার সাথে ঐ জমির ইজারা গ্রহন করছে। সম্পূর্ন তঞ্চুকী ও ষড়যন্ত্র মুলক ভাবে পরসম্পাদ লোভী কালিপদ ঘোষ ইজারা নবায়ন করে চলেছে উৎকোচের বিনিময়ে। সে কারণেই প্রতি বছরের ন্যায় জমির ফসলের ভাগ চাইতে গেলে কালিপদ ঘোষ বিধবা এতিমদেরকে বাড়ি থেকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়ে বলে তোদের মা রেনুকা আমার কাছে সব জমি বিক্রি করে দিয়েছে। এখন থেকে এই জমির উপর তোদের আর কোন দাবী নেই। এদিকে শৈলেন্দ্র অধিকারীর বিধবা কন্যা তাদের পৈত্রিক জমি অনুকলে ইজারা পাওয়ার দাবীতে খুলনা অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) আদালতে আবেদন করে। যার মিস আপীল নং ১২/১৬। এ প্রেক্ষিতে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় খুলনার স্থানীয় সরকার শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত তদন্তের জন্য নোটিশ প্রদান করেন ১২ এপ্রিল। অর্পিত সম্পত্তির দখল বিষয়ে ১৮ এপ্রিল সরেজমিনে তদন্ত করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার খুলনা। তদন্তে স্থানীয় জনতার সাক্ষ্য প্রমানে বিরোধীয় সম্পত্তি সবিতা ও নমিতার ভিটাবাড়ী ও বসতঘর। এদিকে তদন্ত প্রতিবেদন ভিন্নক্ষাতে প্রাহিত করার লক্ষ্যে সবিতা ও নমিতার প্রতিপক্ষরা অপচেষ্ঠা চালানোসহ বিভিন্ন ধরণের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের পিতার রেখে যাওয়া সম্পত্তি যাতে শান্তিপূর্ন ভাবে ভোগ করতে পারে সে বিষয়ে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।