কালিগঞ্জের বসন্তপুর খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ


761 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কালিগঞ্জের বসন্তপুর খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে  নানা দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ
আগস্ট ২৩, ২০১৫ কালিগঞ্জ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

সোহরাব হোসেন সবুজ, নলতা : কালিগঞ্জের ভাড়াশিলা ইউনিয়নের বসন্তপুর খাদ্য গুদামে চাল মজুদে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সমির কুমার রায় এই অনিয়মের মূলহুতা বলে জানাগেছে। তার সহযোগিতায় নানা দুর্নীতি চলছে জানাগেছে।

সরেজমিনে জানা যায়, রোববার সকাল থেকে খাদ্যগুদামে চাল মজুদ করা হয়। হাসিনা রাইস মিল ও খান রাইচ মিলের মালিক ছাকাত হোসেনের ২শ ৭৮ বস্তা চাল এবং আব্দুল গফ্ফারের ১শ ৮২ বস্তা চাল গুদামজাত করা হয়। যার প্রতি বস্তায় ৫০ কেজি ৭শ করে চাল থাকার কথা বলে কর্মকর্তা জানান। নিয়মানুসারে মজুদের সময় এম.পি’র প্রতিনিধি, উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রতিনিধি উপস্থিত থেকে তদারকি করার কথা এবং খাদ্য পরিদর্শকও সেখানে উপস্থিত থাকার কথা। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসব সদস্যদের অনুপস্থিতিতে মিল মালিকের সাথে যোগসাজগে নিজে অত্যন্ত নিম্ম মানের চাল মজুদ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ পেয়ে সরেজমিনে গিয়ে তার বাস্তব প্রমানও মিলেছে।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, চাল গুদামজাতের সময় সমির রায় ও মিল মালিক দুজনই সবকিছু। এ ব্যাপারে সমির রায়ের নিকট জানতে চাইলে প্রথমে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এক পর্যায় ভয়েজ অব সাতক্ষীরা ডটকমকে তিনি বলেন, কে আসল, না আসল আমার বিষয় না। আমি আমার মত কাজ করি। যাদের দেখার দরকার আছে তারা সময় মত এসে দেখে যাবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রতিনিধি আফছার হোসেন অভিযোগ করে ভয়েজ অব সাতক্ষীরা ডটকমকে বলেন, সমির রায় আমাকে বলে চাল উঠানো হয়েছে, এখন আপনি খাতায় সই দিয়ে চলে যান। কিন্তু আমি না দেখেশুনে খাতায় সই দিতে অস্বীকৃতি জানাই এবং খাদ্যগুদাম থেকে ফিরে এসে ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি জানাই। সমির রায়ের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ যে, সে মোটা অঙ্কের দেনদরবার করে এসব কাজ গুলো করে আসছে। নতুন ও পুরাতন চাল মিশিয়ে মেশিনে রিপেয়ারিং করেও গুদামজাত করা হয়েছে বলে জানাগেছে। বিষয়টি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে ওই প্রতিনিধি মনে করেন।

সরকার প্রতি কেজি চাল ক্রয়ের জন্য দাম নির্ধারণ করেছে ৩২ টাকা। কিন্তু যে চাল গুদামজাত করা হয়েছে তার অত্যন্ত নিম্মমানের এবং দামও অনেক কম। এলাকাবাসী বিষয়টি যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।