কালিগঞ্জে কর্মসৃজন প্রকল্পের শ্রমিক দিয়ে চলছে চেয়ারম্যানের ইটের পাজার কাজ


1022 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কালিগঞ্জে কর্মসৃজন প্রকল্পের শ্রমিক দিয়ে চলছে চেয়ারম্যানের ইটের পাজার কাজ
মার্চ ২৩, ২০১৭ কালিগঞ্জ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

শাহিদুর রহমান ::
কালিগঞ্জ উপজেলার ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পের শ্রমিক দিয়ে চলছে কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কে.এম মোশারফ হোসেনের ব্যবসায়ীক ইটের পাজার কাজ। গতকাল বেলা ১০টার সময় সরজমিনে প্রকল্প এলাকায় গেলে এমনি চিত্র ধরা পড়ে সাংবাদিকদের সামনে। ঘটনাস্থল উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের আদুখালী খাল পূর্ন খনন প্রকল্প থাকলেও চেয়ারম্যান ঐ কর্মসূচীর ৩৮ জন শ্রমিকের মধ্যে ২৮ জন শ্রমিক নিয়ে ২টি ট্রলিতে মাটি ভরে উক্ত শ্রমিক দিয়ে পার্শ্বে তার ব্যবাসয়িক ইটের পাজার কাজে ব্যবহার করছে। ৪০ দিনের কর্মসূচী প্রকল্পের আওতায় আদুখালী খাল পূর্ন খননের জন্য ৩লক্ষ ৪হাজার টাকার বরাদ্দ থাকে। উক্ত প্রকল্পে কাজ না করিয়ে শ্রমিক সরদার আসাদুজ্জামান তার লিখিত বক্তব্য সহ শ্রমিক অনিল কুমার বসাক, আক্কাজ, খাদিজা, আরমান কাগুচী, মরিয়ম, নবি বিবি, সখিনা, অমিরন বিবি, খাদিজা, ময়না, মোমেনা, জোবেদা, উুজালা, নূরজাহান, সুফিয়া, নাছিমা, মাহফুজা, ফতেমা সহ অন্যান্যরা জানান উক্ত প্রকল্পের প্রথম ২৯দিন চেয়ারম্যান কে.এম মোশারফ হোসেন তার ইটের পাজার মাটির জন্য আদুখালী খাল হতে মাটি কাটিয়ে খালের পাড়ে স্তুপ করার নির্দেশ দেন। উক্ত মাটি কাটা শেষ হলে গত ৫দিন ধরে ফরিদপুর গ্রামের বাবর আলীর পুত্র সিরাজুল ইসলাম এবং দক্ষিন শ্রীপুর গ্রামের শাহাদাৎ আলী গাজীর পুত্র জাহিদের দুটি ট্রলি ভাড়া করে ২৮জন শ্রমিক দিয়ে উক্ত মাটি তার ব্যবসায়িক ইটের পাজার কাজে ব্যবহার করে আসছে। তারা আরো বলেন আমরা শ্রমিক চেয়ারম্যানের নির্দেশে কাজ করছি। এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলতে পারবেন। তবে উক্ত পাজাস্থলে দাড়িয়ে চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেনের নিকট মুঠো ফোনে জিজ্ঞাসা করলে তিনি অস্বীকার করে বলেন প্রকল্পের স্থানেই কাজ হচ্ছে। পাজার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি কোন উত্তর না দিয়ে মোবাইলের লাইন কেটে দেন। খবর পেয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস হতে কর্মচারী জাহাঙ্গীর হোসেন দ্রুত প্রকল্পস্থলে গেলে ঘটনার সত্যতা মেলে এবং খবর পেয়ে ঐ সময় কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মোস্তফা কবিরুজ্জামান মন্টু এবং সাধারন সম্পাদক নূর আহম্মেদ সুরুজ ঘটনাস্থলে যেয়ে সত্যতা পান এবং তারা বলেন চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন কর্মসৃজন প্রকল্পের টাকা নিয়ে নিজের ব্যবসায়িক ইটের পাজার কাজ সহ নানাবিধি ব্যক্তিগত কাজ করে সরকারী টাকা লুটপাট করে খেলেও দেখার কেউ নেই। উক্ত প্রকল্পের সভাপতি মেম্বর ফজলুল হককে সেখানে খুজে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা বলেন মেম্বর ফজলুল হক কুখ্যাত ডাকাত ফজর আলীর পুত্র। আর সেই সুবাদে কে.এম মোশারফ হোসেন অধিকাংশ প্রকল্পে ফজলুকে সভাপতি করে লুটপাট করে আসছে। চেয়ারম্যান মোশারফ প্রতি বছরের ন্যায় এবারও তার অবৈধ ইটের পাজার ব্যবসা অধিক মুনাফার জন্য সরকারী অর্থ লুটপাট করে কর্মসৃজন প্রকল্পের শ্রমিক দিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে দিনের পর দিন কাজ চালিয়ে গেলেও এ পর্যন্ত প্রশাসনের নজরে না আসায় এলাকাবাসী চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাহারিয়ার মাহমুদ রনজু’র নিকট জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন আমি ঢাকাতে প্রশিক্ষনে আছি। ফিরে এর ব্যবস্থা নেব। আমি শুনে তাৎক্ষনিক ভাবে অফিস থেকে লোক পাঠিয়েছি এবং ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন বলে জানান। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মাঈন উদ্দীন হাসান বলেন ঘটনা সত্য হলে তদন্তপূর্বক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।