কালিগঞ্জে ঘুর্ণিঝড় আম্পানের তান্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি


108 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কালিগঞ্জে ঘুর্ণিঝড় আম্পানের তান্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
মে ২৩, ২০২০ কালিগঞ্জ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

সুকুমার দাশ বাচ্চু, কালিগঞ্জ ::

ঘুর্ণিঝড় আম্পান সুপার সাইক্লোন এর প্রভাবে লন্ডভন্ড হয়েছে সাতক্ষীরার জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার জনজীবন। ঘুর্ণিঝড়ে ঘরের উপরে গাছ পড়ে একই পরিবারের দুই ভাইবোন সহ আহত হয়েছে ৫জন। ক্ষতি হয়েছে কাচা ও টিনের ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন গাছ গাছালী আম, লিচু, জামরুল, উপড়ে গেছে অনেক গাছ। ক্ষেতের সজবীসহ হাস মুরগি গবাদী পশুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঘর্ণিঝড়ের তান্ডবে গত বুধবার থেকে শুক্রবার রাত ১০টা পর্যন্ত টানা তিন দিন বিদ্যুৎ বিছিন্ন থাকায় সকল যোগাযোগ বন্ধ ছিল। পাশাপাশি বিদ্যুৎ এর কারণে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যহত হয়। বিশেষ করে ফ্রিজে রাখা মাছ মাংসসহ মূল্যেবান জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। অতিপ্রবল ঘুর্ণিঝড় আম্পান এর তান্ডবে কালিগঞ্জে কাঁকশিয়ালী ইছামতি ও কালিন্দি নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৮ থেকে ১০ ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভেড়িবাধ টপকিয়ে কালিগঞ্জ সদরের বাজারসহ আশপাশ এলাকায় লোনা পানি বিভিন্ন পুকুর ও বাড়িতে ঢুকে পড়ে। এসময় নদী ধারে চর এলাকার হাজার হাজার বিঘা মৎস্যঘের তলিয়ে যেয়ে মাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এছাড়া মথুরেশেপুর ইউনিয়নের চিংড়া, ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের খাদ্য গুদাম সংলগ্ম কামদেবপুর, খারহাটও শুইলপুর ভেড়িবাধ ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়লে এলাকাবাসি আতংঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে। ঐ সমস্ত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুকিপূর্ণ ভেড়িবাধ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদী, উপজেলা নিার্বহী কর্মকর্তা মোঃ মোজাম্মেল হক রাসেল। এদিকে ঘুর্ণিঝড়ে পূর্ববতী উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগন আগাম সর্তকিতরণ প্রস্তুতি নেওয়া এবং মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র গুলোতে যাওয়ায় বড় ধরণের কোন ক্ষতি বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিরাজ হোসেন এ প্রতিনিধিকে জানান, উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে আশ্রয় কেন্দ্র গুলিতে আশ্রিত ব্যাক্তিদের খাওয়ার জন্য ১২ ইউনিয়নে ১২ মেঃ টন চাল, ডাল, আলু, ছিড়া, তেল, দুধ, চিনি, লবন, বিস্কুটসহ শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, ঘুর্ণিঝড়ে কালিগঞ্জ উপজেলায় ৩ হাজার ২৪টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত ও ৯ হাজার ৭‘শ বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ রুহুল আমিন জানান, কালিগঞ্জ উপজেলায় চাষাবাদী ১৫‘শ হেক্টর জামির মধ্যে সবজী চাষ হয়েছে ৭‘শ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে ২৮০ হেক্টর জমির সবজী ক্ষতিগ্রস্ত এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৬৪ হেক্টর জমির। আম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪‘শ ৫০ হেক্টর জমির। এছাড়া বিভিন্ন বৃক্ষসহ হাস মুরগির গবাদী পশুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

#