নলতায় ফুটন্ত গরম তেলে হাত ডুবুয়ি ভাঁজা তৈরী করছেন সুনীল দাশ !


2906 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
নলতায় ফুটন্ত গরম তেলে হাত ডুবুয়ি ভাঁজা তৈরী করছেন সুনীল দাশ !
মার্চ ৮, ২০১৭ কালিগঞ্জ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ইব্রাহিম খলিল, নলতা থেকে ফিরে ::
”অবিশ্বাস্য” নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না এটা কি ভাবে সম্ভব। অসম্ভবকে সম্ভব করে চলেছেন তিনি। যেখানে উষ্ণ গরম তেলে হাত দেওয়া অসম্ভব সেখানে তিনি ফুটন্ত গরম তেলে হাত দিয়ে তৈরি করছেন মুখরোচক খাবার। গরম তেলে হাত ডুবিয়ে যেসব সুস্বাদু খাবার তৈরি করেন তার মধ্যে রয়েছে বেগুনি, পিয়াজু, ঝুরিভাঁজা, আলুরচপ, ডিমেরচপ মাংসের চপ সহ বিভিন্ন ধরনের মুখরোচক খাবার। ৩০ থেকে ৩৫ বছর ধরে সাতক্ষীরা কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা হাসপাতালেন সামনে চাররাস্ত মোড়ে তিনি এ কাজ করে আসছেন।
অসম্ভব এ কাজটি প্রতিদিন করে চলেছেন সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা গ্রামের মৃত হরিশচন্দ্র দাশের পুত্র সুনীল চন্দ্র দাশ।

সরেজমিন সুনীল চন্দ্রের সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি ছোট বেলা থেকে অভাব অনটনের মধ্যে বড় হয়েছেন। লেখাপড়া বেশিদুর করতে পারেননি। নলতা প্রাইমারি স্কুলে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। ৫ ভাই ও ৫ বোনের মধ্যে তিনি মেঝ। সে জন্য ছোটবেলা থেকে তার জীবন সংগ্রাম শুরু। ভাই বোনদের মানুষ করতে তিনি নেমে পড়েন জীবন সংগ্রামে।

তিনি বলেন মা সরলা কুমারী দাশ বলেন বাবা এত ছোট বয়সে তুমি লোকের ক্ষেতে খামারে কাজ করতে পারবে না। তখন তিনি ছেলের হাতে তৈল দিয়ে বলেন দোকান থেকে ব্যাশন ও ময়দা বাকীতে নিয়ে ভাঁজার কাজ শুরু করো। সেখান থেকে শুরু। মা বলেছিলেন খোকা একদিন ভাাঁজার কাজ করতে করতে গরম তেলে হাত ডুবিয়ে ভাঁজার কাজ করতে পারবে তোমার কিছুই হবে না। মায়ের কথা মত তিনি আস্তে আস্তে গরম তেলে হাত দিতে শুরু করেন। এখন তিনি হাত দিয়েই সমস্ত ভাাঁজার কাজ করেন। শুধু হাত দিয়ে ভাজেন না ফুটন্ত গরম তেল তিনি খেতে পারেন গায়ে মাখতে পারেন।

সুনীল দাশ আরও বলেন, তার দুই ছেলে মেয়ে। ছেলে কৃষ্ণ দাশকে এস এস সি পর্যন্ত পাড়ালেখা করিয়েছেন। আর লেখাপড়ার খরচ চালতে পারেননি। তাই নলতা বাজারে ছেলের একটি মুদি খানার দোকান তৈরী করে দিয়েছেন। মেয়ে অসীমা দাশকে ও এস এস সি পর্যন্ত পড়ালেখা করিয়ে বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, নলতা হাসপাতালের সামনে প্রতিদিন তিনি বিকাল তিনটা থেকে রাত ১০ পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের ভাজা তৈরি করেন। তিনি প্রায় ৩৫ বছর একই স্থানে ভাজার কাজ করে আসছেন। সরকারি জায়গার উপর কাজ করেন বলে তাকে ভাড়া দিতে হয় না। প্রতিদিন তার কেনাবেচা হয় তিন থেকে চার হাজার টাকা। মাঝে মাঝে বেশি ও হয় আবার কমও হয়। এর থেকে তার প্রতিদিনি চার থেকে পাঁচশত টাকা লাভ হয়।

কথা হয় প্রতিদিন সুনীল দাশের ভাঁজা খেতে আসা ক্রেতা আমিনুর রহমান আলমের সাথে, তিনি বলেন দাদার ভাঁজা অসাধারণ খেতে খুবই সুস্বাদু। রাস্তার পাশে ভাঁজার করলেও অত্যান্ত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ভাবে তিনি এ কাজ করেন। সবচাইতে কোন খাবারটা খেতে ভালো প্রশ্ন করলে তিনি বলেন পেঁয়াজু দাদার অসাধারন তৈরী।

সাতক্ষীরা সদরের বাসিন্দা কামরুল ইসলামরে সাথে হয়, তিনি কালিগঞ্জ এসেছিলেন কাজের জন্য। মটর সাইকেল থামিয়ে তিনি দাদার হাতে তৈরি পিয়াজু ও বেগুনি মাংশের চপের অর্ডার দিলেন। তার কাছে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন ভাই বিভিন্ন জায়গায় ভাঁজা খেয়েছি। কিন্তু দাদার হাতের ভাজা অসাধারন। দাদার হাতে যাদু আছে। তাই তিনি যখন কাজের জন্য এদিকে আসেন তখন দাদার হাতের ভাঁজা খেয়ে যান। এবং বাসায় পরিবারের জন্য নিয়ে যান।
###