কালিগঞ্জে মায়ের পরকিয়ায় বিপন্ন হল এক শিশুর জীবন !


703 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কালিগঞ্জে মায়ের পরকিয়ায় বিপন্ন হল এক শিশুর জীবন !
আগস্ট ৫, ২০১৫ কালিগঞ্জ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

সোহরাব হোসেন সবুজ, নলতা:
কালিগঞ্জের সাতপুরে মায়ের পরকিয়ার বলি হল শিশু পুত্রের ভবিষ্যত জীবন! সন্তানের জন্য ‘মা’ এর মত কোন সম্পদ পৃথিবীতে নেই। কিন্তু পরকিয়ার ফাঁদে পড়ে সেই মা কি করে পারে মেধাবী শিশুকে ফেলে অন্য বিবাহিত পুরুষের সাথে ভেগে যেতে? ঘটনাটি ঘটেছে ১ সপ্তাহ পূর্বে সাতপুর গ্রামে। আর এখন সেই মায়ের সামনেই ধুকে ধুকে জীবন বিপন্ন হচ্ছে ৪র্থ শ্রেণীতে পড়–য়া শিশু নাজিমের। কারন পরকিয়ার জেরে স্বামীকে ডিভোর্জ দিয়ে শিশু পুত্র নাজিমের মা রোজিনা পারভীন (২৮) একই গ্রামেই সংসার পেতেছেন। সন্তানের চোখের সামনেও মায়ের চলাফেরা, কিন্তু মুখে বোল নেই নাজিমের। মা বলে ডাকতে পারছে না তাকে!
ঘটনার বিবরনে জানা যায়, সাতপুর গ্রামের মৃত আহম্মদ আলীর পুত্র নুর ইসলামের সাথে মার্কা গ্রামের মৃত হাফেজ ঢালীর কন্যা রোজিনা পারভীনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের প্রথম সন্তান নাজিম। ভালভাবেই চলছিল তাদের সংসার নামের রেল গাড়িটি। মাঝ পথে ধাক্কা দিল একই গ্রামের আদর আলীর পুত্র আসাদুল ইসলাম (৩১)। থেমে গেল চলন্ত রেলের মত সংসারটি। আলাদা হয়ে গেল বগি। আসাদুলের চোখ পড়ে গেল নুরইসলামের স্ত্রী রোজিনার দিকে। আসাদুল ইসলাম তাবলিগ জামাতের সদস্য। লেবাজ পরিধানকারী একজন ব্যক্তি। আবার সেও ১ কন্যার জনক। রোজিনার স্বামীর সাথে সে বন্ধুত্ব গড়ে তুলল। আর যাওয়া আসার এক পর্যায় রোজিনাকে পটিয়ে নিল বেশ করে। আসাদুল রোজিনার স্বামীকে মগজধোলাই দিয়ে পাঠিয়ে দিল তাবলিগ জামাতে। এসময় রোজিনার সাথে তার সম্পর্কের বাধনটাও অটুট করে নিল। তারপর ওরা দুজনে বুঝিয়ে সুজিয়ে নাজিমের বাবা নুরইসলামকে পাঠিয়ে দিল তামিলনাড়–তে। পালা এসে গেল আসাদুলের। হাটে হাঁড়ি ভেঙে গেল দু’জনের পরকিয়ার। আসাদুল তার স্ত্রীকে ছেড়ে দিল রোজিনার প্রতিশ্রতি রক্ষা করতে যেয়ে। জানতে পেরে তামিলনাড়– থেকে নুরইসলাম দু’জনের সাথে অনেক যোগাযোগ করলেও কাজ হল না। এখন তো আর কথা শোনার সময় না এদের। ঠিকমত রোজিনাও পাঠিয়ে দিল নুরইসলামকে একটি ডিভোর্জ লেটার। পাড়ি দিল ঢাকায়। থাকল সপ্তাহ খানেক। এদিকে এসব ঘটনায় মানুষ নিন্দা করতে থাকলে তাবলিগ জামাত থেকে বহিষ্কার হল আসাদুল। শেষ পর্যন্ত সপ্তাহ খানেক আগে ৩১জুলাই বিয়ে করে পরকিয়ার মিশন সফল করল তারা। কিন্তু মা-বাবা হারা হয়ে চরম অন্ধকারে নিমজ্জিত হল শিশু পুত্র নাজিমের ভবিষ্যত জীবন।  কি হবে এখন তার। ধুকরে ধুকরে কাঁদা আর চোখের জল হল তার সম্বল। এ নিয়ে উদ্ব্যেগ-উৎকন্ঠায় প্রতিবেশিরা।