কালিগঞ্জে ২১ ব্যবসায়ীকে ২ লাখ ৪৬ হাজার টাকা জরিমানা


129 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কালিগঞ্জে ২১ ব্যবসায়ীকে ২ লাখ ৪৬ হাজার টাকা জরিমানা
মার্চ ২২, ২০২০ কালিগঞ্জ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

করোনো প্রতিরোধে ফাইটিং টিম গঠন

সুকুমার দাশ বাচ্চু ::

কালিগঞ্জ উপজেলায় প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ও বাজরে করোনা ফাইটিং টিম গঠন করা হয়েছে। করোনা এর প্রভাবে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্যের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় বিভিন্ন বাজারে গত ১৮ মার্চ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ২১জন ব্যবসায়ীকে ২ লাখ ৪৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডাঃ শেখ তৈয়েবুর রহমান জানান, বিদেশ ফেরত ১৬৫ জন কে হোম কোয়ারেন্টাইনে আনা হয়েছে। করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় হাসপাতালে ৫টি আইসোলিয়েশন ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। পাশাপাশি করোনা ভাইরাস বিষয়ে সচেতনতার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোজাম্মেল হক রাসেল সরকারী কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে সার্বক্ষনিক ১২টি ইউনিয়নে খোজ খবর নিচ্ছেন এবং করোনার বিষয়ে প্রচারনা অব্যহত রেখেছে। ২২ মার্চ রবিবার সকাল ১০টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সম্মেলন কক্ষে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোজাম্মেল হক রাসেল এর সভাপতিত্বে সভায় উপজেলার ইউনিয়ন তহশীলদারগন, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের কর্মকর্তা, বিআরডিবি‘র কর্মকর্তাসহ সরকারী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় উপজেলায় বাজারে মূল্যে বৃদ্ধি রোধে মোবাইল কোট করার ক্ষেত্রে অভিযোগ সংগ্রহের জন্য ১২টি বড় বাজারে ১২টি টিম গঠন করা হয়েছে। বাজার গুলি হলো কৃষ্ণনগর বাজার, বিষ্ণপুর বাজার, উজিরপুর হাট, বাশতলা বাজার, কুশুলিয়া হাট, জিরোনগাছা হাট, নলতা হাট, কাঁকশিয়ালী বাজার, তারালী গরুর হাট, নাজিমগঞ্জ বাজার, রতনপুর হাট, মৌতলা বাজার। এই টিমের অভিযোগের ভিত্তিতে সেখানে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে। সম্প্রতি করোনা ভাইরাস এর প্রভাবে এবং এর অজুহাতে বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে কিনা এবং বিদেশ থেকে আগত ব্যক্তিগন হোম কোয়ারেন্টেইনে থাকছে কিনা, কিম্বা ঐ সমস্ত ব্যক্তিগন জনসমূখে ঘোরাফেরা করছে কিনা, নতুন করে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হচ্ছে কিনা, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার প্রয়োজন কিনা, এই সকল বিষয়ে সার্বক্ষনিক নজরদারীর তদারকির জন্য উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে একজন সরকারী কর্মকর্তাকে প্রধান করে ৬ সদস্য বিশিষ্ঠ ট্যাগ টিম গঠন করা হয়েছে। ট্যাগ অফিসারগন ১ নং কৃষ্ণনগর ইউনিয়নে ট্যাগ অফিসার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জমিরুল হায়দার, ২নং বিষ্ণপুর ইউনিয়নে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম, ৩নং চাম্পাফুল ইউনিয়নে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুহুল আমিন, ৪নং দক্ষিনশ্রীপুর ইউনিয়নে মৎস্য কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম, ৫নং কুশুলিয়া ইউনিয়নে আশরাফুল আলম, ৬নং নলতা ইউনিয়নে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুস সেলিম, ৭ তারালী ইউনিয়নে উপজেলা শিক্ষা অফিসের ব্যইনবেইচ কর্মকর্তা নাসিম শাহাদাত, ৮ ভাড়াশিমলা ইউনিয়নে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবুল কালাম আজাদ, ৯নং মথুরেশপুর ইউনিয়নে উপজেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মনোজিৎ কুমার মন্ডল, ১০ নং ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, ১১নং রতনপুর ইউনিয়নে উপজেলা দারিদ্র বিমোচন কর্মকর্তা তপনজ্যোতি চক্রবর্তী, ১২ নং মৌতলা ইউনিয়নে উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন। এছাড়া কালিগঞ্জ উপজেলায় বিদেশ হতে আগত কেউ আগামী ১৫ দিন ঘর হতে বের হতে পারবেনা। কেউ বের হলে তাকে কঠোর সাজা দেওয়া হবে। এবিষয়ে উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। কালিগঞ্জ উপজেলায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক রাসেল করোনার বিষয়ে সচেতনতার পাশাপাশি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্য স্বাভাবিক রাখার জন্য অভিযোগ গ্রহনকারী ১২টি টিম, ১২টি বড় বাজারে অবস্থান করছে। পাশাপাশি ১২টি ইউনিয়নে করোনা ফাইটিং টিম কাজ করছে। মোট ২৪টি টিমে ১২০জন অফিসার রয়েছে। গত ৫ দিনে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক রাসেল ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিফাত উদ্দিন পৃথক ভাবে কালিগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্ন বাজারে দ্রব্য মূল্যে বৃদ্ধির অভিযোগে পৃথক ২টি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ২১জন চাউল ও পেয়াজ ব্যবসায়ী সহ অন্যান্যদের ২ লাখ ৪৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে উপজেলার পূর্ব-নারায়নপুর গ্রামের আসীম ঘোষের পুত্র চাউল ব্যবসায়ী বরুন ঘোষ ২ হাজার, রানীতলা গ্রামের কাশেম হালদারের পুত্র ব্যবসায়ি আব্দুল খলিল ২৫ হাজার, মৌতলা গ্রামের প্রাণ কৃষ্ণ ঘোষের পুত্র মধুসুধন ঘোষ ২৫ হাজার, মৌতলার নুরুল আফছার এর পুত্র অলিউল্লাহ ১০ হাজার, মৌতলা কামাল হালদারের পুত্র আনছার আলী ৫ হাজার, ছনকা গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে ব্যবসায়ী শেখ হেলাল হোসেন ৫ হাজার, নৈহাটি গ্রামের আজিজুর রহমানের পুত্র মিজানুর রহমান ৫ হাজার, নলতা গ্রামের আছের আলী পুত্র আজহারুল ইসলাম ১০ হাজার, পশ্চিম নরায়নপুর গ্রামের মৃত নবাব আলীর পুত্র চাউল ব্যবসায়ী জোহর আলী ২ হাজার, নীলকষ্ঠপুর গ্রামের মুনসুর সরদারের পুত্র মোবারক হোসেন ৬ হাজার, বিষ্ণপুর গ্রামের তপন কুমারের পুত্র নব কুমার ২ হাজার, মুকুন্দ মধুসধনপুর গ্রামের আজিজ মোড়লের পুত্র আব্দুল্লাহ ৫ হাজার, ফতেপুর গ্রামের ফজর গাজী পুত্র আলগীর গাজী ৫ হাজার, নীলকষ্ঠপুর গ্রামের রসুল গাজীর পুত্র শাহা আলম ৪ হাজার, বন্দকাটি গ্রামের মাদার চন্দ্র রায়ের পুত্র অচিন্ত রায় ১০ হাজার, কদমতলা বাজারের হাবিবুল্লাহ, মোক্তার, ওমর শরীফ, আসাদুল ইসলাম কে ১০ হাজার, রতনপুর মোমিন আলীর পুত্র মশিউর রহমান কে ১০ হাজার, ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯ (৩৮) ও ১৮৬০ সালের ২৬৯ ধারা অনুযায়ী জরিমানা করা হয় বাজার গ্রাম নাজিম উদ্দিনের পুত্র শাহাবুদ্দিন ৩০ হাজার, ও নরহরকাটি আব্দুল কাদেরের পুত্র আজিজুর রহমান ১০ হাজার।