কালিগঞ্জ সংবাদ ॥ ইট ভাটার শ্রমিককে বস্তাবন্দি অবস্থায় হত্যার চেষ্টা : থানায় মামলা


124 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কালিগঞ্জ সংবাদ ॥ ইট ভাটার শ্রমিককে বস্তাবন্দি অবস্থায় হত্যার চেষ্টা : থানায় মামলা
আগস্ট ১৮, ২০১৯ কালিগঞ্জ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

সুকুমার দাশ বাচ্চু ::

কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের কোমরপুর গ্রামের কামরুল ইসলামের পুত্র আনিছুর রহমান ওরফে শিমুল (২৩) ইট ভাটার শ্রমিক কে অন্য শ্রমিকরা মটরসাইকেলের কাগজ, টাকা কেড়ে নিয়ে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করে হত্যার উদ্দেশ্যে বস্তায় বন্দি করে কোমরপুর ভোন্দার বাগান নামক স্থানে ফেলে রাখার অভিযোগে কালিগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৮আগষ্ট রাত আনুমানিক ১১টায়। আহত আনিছুর রহমান কে উদ্ধার করে কালিগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এঘটনায় আনিছের পিতা কামরুল ইসলাম বাদী হয়ে কোমরপুর গ্রামে আক্কাজ আলীর পুত্র আব্দুল্লাহ (২৫) একই গ্রামের বাবর আলীর পুত্র আব্দুর রহিম ও মুকুন্দ মধুসুদনপুর গ্রামের জামাত আলী গাজীর পুত্র সেলিম গাজী (২৪) কে আসামী করে ৩৪২/৩৮৪/৩২৩/৩৭৯/৩০৭ পেনাল কোড ১৮৬০ হত্যার উদ্দেশ্যে অন্যায় ভাবে আটক করে মারধর চুরি ও বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়ের অপরাধে কালিগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে। মামলা নং-১০, তারিখ-১০/০৮/১৯, মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে কালিগঞ্জ উপজেলার বন্দকাটী গ্রামের কামরুল ইসলামের পুত্র আনিছুর রহমান ওরফে শিমুলের সাথে ইট ভাটায় কাজের সুবাদে কোমরপুর গ্রামের বাবর আলীর পুত্র আব্দুর রহিম, আক্কাজের পুত্র আব্দুল্লাহ ও মুকুন্দ মধুসুদনপুর গ্রামের জামায়াত আলীর পুত্র সেলিম গাজীর সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারা পাবনা ইটভাটায় কাজ করার সুবাদে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে ঘটনার ১৫ থেকে ১৬ দিন পূর্বে ইটভাটার শ্রমিক আব্দুল্লাহ আনিছুর রহমান কে বালিয়াডাঙ্গা বাজারে ডেকে নিয়ে ইটভাটার সরদার খলিলুর রহমান ৫০ হাজার টাকা পাওয়ার অভিযোগে বাজাজ পালসার ১৫০ সিসি মটরসাইকেলের কাগজ পত্র জোর পূর্বক আটকিয়ে রাখে। পরবর্তীতে ৮ই আগষ্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় আব্দুল্লাহ আনিছ কে মোবাইলের মাধ্যমে জানায় মটরসাইকেল ফেরত দেওয়ার কথা বলে আসতে বলে। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আনিছের পিতা কামরুল ইসলাম সংবাদ পায় কোমরপুর গ্রামের ভোন্দার বাগান নামক স্থানে তার ছেলেকে অচৈতন করে হাত পা বাঁধা বস্তা বন্দি অবস্থায় ফেলে রেখে গেছে। ঘটনাস্থল থেকে আনিছ কে উদ্ধার করে কালিগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করে। এঘটনায় কামরুল ইসলাম বাদী হয়ে তিন কে আসামী করে কালিগঞ্জ থানায় মামলা করলে আসামীরা বাদী পক্ষকে মামলা তুলে নেওয়ার বিভিন্ন হুমকি দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মামলা হওয়ার পর আসামীরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় বাদী পক্ষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

#

কালিগঞ্জ প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যক্ষ তমিজ উদ্দীন আহম্মদের ৫ম মৃত্যু বার্ষিকী কাল

সুকুমার দাশ বাচ্চু ::

কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা, সর্বজন শ্রদ্ধেয় অধ্যক্ষ তমিজউদ্দীন আহম্মদের ( বাংলা স্যার) এঁর ৫ম মুত্যু বার্ষিকী আগামীকাল। তার মৃত্যুতে বার্ষিকী উপলক্ষ্যে পরিবার কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহন করেছেন।
সমাজে যে সকল সমাজসেবী,রাজনৈতিক ব্যক্তি সফল ভাবে কাজ করতে পারেন তারাই কৃতিত্বের অধিকারি ও প্রশাংসার দাবিদার। জনকল্যান মূলক বিশেষ করে শিক্ষা বিস্তারের জন্য অধ্যক্ষ তমিজউদ্দীনের কাজের দীর্ঘ তালিকা দেখে স্পষ্ট যে, সাধারন মানুষের অনুভূতির প্রয়োজন উপলদ্ধি করেই তিনি শিক্ষা বিস্তারের মনোনিবেশ করেছেন। অধ্যক্ষ তমিজউদ্দীনের সৌম্যকান্তি, মার্জিত আচারন, সদা প্রফুল্ল হাস্যময় মুখশ্রী, বন্ধুসুলভ এখনও কালিগঞ্জ বাসির মনে নাড়া দেয়।
১৯৪৭ সালের ১লা জানুয়ারী শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নের ইসমাইল হোসেন ও মতি বিবির ঔরসে জম্মগ্রহন করেন। ৬ ভাই ও ৩ বোনের মাঝে তিনি “ন”। গ্রামের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তালপাতায় লেখার মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষ্যা শুরু। ৬ ষ্ঠ শ্রেনিতে ন’বেঁকি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ভ্রুলিয়া হইস্কুল থেকে এস,এস,সি পাশ এবং সাতক্ষীরা কলেজ থেকে এইচ,এস,সি পাশ করে উচ্চতর শিক্ষার জন্য তিনটি চিটাগাং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যাল থেকে বাংলায় অনার্স মাষ্টার্স পাশ করে আশাশুনি কলেজে চাকুরিতে যোগদান করেণ। পরবর্তিতে ১৯৭২ সালে কালিগঞ্জ কলেজে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন।
সেই থেকে শুরু সমাজসেবা ও নতুন কিছু সৃষ্টির। অধ্যক্ষ তমিজউদ্দীন মনে করেন প্রাথমিক শিক্ষা সারা জীবনের শিক্ষার ভীত। শিক্ষা পারে দ্রুত সমাজকে বদলে দিতে। তাই তিনি শিশুদের জন্য তৈরি করেন কালিগঞ্জ উপজেলা ক্যাম্পাসে “লিটল ফ্লাওয়ার কিন্ডার গার্টেন” নিজে প্রিন্সিপাল হয়ে কার্য্যক্রম শুরু করেন, পরবর্তিতে স্কুলটি ল্যারেটরী স্কুল নামে পরিচিত লাভ করে। নারি শিক্ষা বিস্তারের জন্য গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক বস্ত্রমন্ত্রী, কালিগঞ্জের কৃতি সন্তান এম মনছুর আলী’র সাথে পরামর্শ করে “রোকেয়া মনছুর মহিলা কলেজ” প্রতিষ্ঠার রূপকার হয়ে অধ্যক্ষ হিসাবে ১৯৯২ সালে কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেন। বর্তমানে রোকেয়া মনছুর মহিলা কলেজ সু-প্রতিষ্ঠিত। মনছুর আলীর সহযোগিতায় তিনি কালিগঞ্জ সদরে হাজী তফিল উদ্দীন মহিলা দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর আইডিয়াল কলেজ, শ্যামনগর উপজেলার ন’বেঁকি আটুলিয়া নিম্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মুন্সিগঞ্জ কলেজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তিনি অগ্রনি ভূমিকা পালন করছেন। একাধারে কালিগঞ্জ দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি, কফিলউদ্দীন মাদ্রাসা ও এতিম খানার সাধারন সম্পাদক, সুশাসনের জন্য নাগরিক( সুজন) এর সভাপতি, মানববাধিকার সংস্থার সভাপতি সহ বহু সমাজ উন্নয়ন সংস্থার সাথে জড়িত ছিলেন তিনি।
কালিগঞ্জ সাংবাদিক জগতের অহংকার সাংবাদিক অধ্যক্ষ তমিজউদ্দীন আহমেদ। সংবাদ পত্র, সাংবাদিকতা কি তিনি মানুষকে শিখিয়েছেন। তিনি শ্যামনগর, আশাশুনি, দেবহাটা ও কালিগঞ্জ থানার সাংবাদিকদের সমন্ময়ে প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্চলিক প্রেসক্লাব। পরবর্তীতে ১৯৮৩ সালে কালিগঞ্জ প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠা করেন এবং তিনিই প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসাবে বলিষ্টভাবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মাসিক ফরিয়াদ ও সাপ্তাহিক মুক্ত আলাপ পত্রিকার সম্পাদক হিসাবে সততা, নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। অধ্যক্ষ তমিজউদ্দীনের জীবদ্দশায় স্বপ্ন ছিলো কালিগঞ্জে একটি বে-সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার, কিন্তুু সেটা অধোরা রয়ে গেলো।সর্বজন শ্রদ্ধেয় তমিজউদ্দীন আহম্মেদ একাধারে শিক্ষক, সাংবাদিক, কবি, কলামিষ্ট ও সমাজ সেবক ছিলেন। নিরহংকার, নির্লোভ, পরোপকারি, সৎ ও নিষ্ঠাবান ব্যাক্তি জানতেন দুনিয়া বেশিদিনের নয়।
মানুষ মরনশীল,একদিন সকলকে ছেড়ে চলে যেতে হবে এ কথা মেনে নিয়েই ২০১৪ সালের ১৯ শে আগষ্ট সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে হৃদযন্ত্র বন্দ হয়ে সকাল সাড়ে ১০ টায় চিরবিদায় নেন। তিনি স্ত্রী, ১ পুত্র, দুই কন্যাসহ অসংখ্য আত্মিয় স্বজন ও গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। সাংবাদিক, লেখক, অধ্যক্ষ তমিজ উদ্দীনের কর্ম ও তৈরি প্রতিষ্ঠান পৃথিবী ধ্বংসের আগ পর্যন্ত মাথাতুলে দাঁড়িয়ে থাকবে। এ মহান ব্যক্তির স্বরনে নতুন প্রজম্ম শ্রদ্ধায় অবয়ব হবে। প্রতিবছরের ন্যায় কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ১৯ আগষ্ট দিনব্যাপি আয়োজন করা হয়েছে কবর যিয়ারত, কুরআন তেলাওয়াত, স্মরণ সভা, মিলাদ মাহফিল ও দোয়া মোনাজাত।

#