কালিগঞ্জ সংবাদ ॥ সরকারী কলেজের অধ্যক্ষের অপসারনের দাবিতে মানববন্ধন


194 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কালিগঞ্জ সংবাদ ॥ সরকারী কলেজের অধ্যক্ষের অপসারনের দাবিতে মানববন্ধন
জুলাই ৭, ২০১৯ কালিগঞ্জ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

সুকুমার দাশ বাচ্চু,কালিগঞ্জ ::

কালিগঞ্জ সরকারী কলেজে অধ্যক্ষ জি এম রফিকুল ইসলামের অনিয়ম ও দূর্নীতির প্রতিবাদ এবং অধ্যক্ষের অপসারনের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কালিগঞ্জ সরকারী কলেজের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে রবিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় কলেজের সামনে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন। প্রতিবাদ সমাবেশে কালিগঞ্জ সরকারী কলেজের ডিগ্রী ১ম বর্ষের ছাত্র রাশেদুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ডিগ্রী ১ম বর্ষের ছাত্র তুহিন জাহাঙ্গীর, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্র শুভ ঘোষ, ডিগ্রী ১ম বর্ষের ছাত্র আরিজুল ইসলাম, এইচ এস সি ২য় বর্ষের ছাত্র শফিকুল ইসলাম, ১ম বর্ষের ছাত্র ফরিদুল ইসলাম, ডিগ্রীর ছাত্র মিজানুর রহমান প্রমুখ। বক্তারা কলেজের শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দূর্নীতিবাজ অধ্যক্ষের পদত্যাগ সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উদ্ধোতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

#

কালিগঞ্জে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ১০ লক্ষাধীক টাকার ক্ষয়ক্ষতি

সুকুমার দাশ বাচ্চু,কালিগঞ্জ ::

কালিগঞ্জে ব্যাটারী চালিত ভ্যানের চার্জরত ব্যাটারী বিষ্ফোরণের কারণে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে। কালিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মী বাহিনীসহ আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে স্থানীয়রা। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার (৭ জুলাই) রাত আনুঃ ১ টা ৩০ মিনিটে উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের শ্রীধরকাঠি গ্রামের মৃত শেখ হাজির উদ্দীনের পুত্র শেখ আলাউদ্দীনের বাড়িতে। জানাগেছে, শ্রীধরকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ আলাউদ্দীনের বাড়ির প্রাচীনের মধ্যে মটরচালিত ভ্যান চার্জ দেন আছিয়া লুতফর প্রিপারেটরী স্কুলের ভ্যান চালক শেখ শাহাজান হোসেন। ঘটনার সুত্রপাত হয় ঐ ভ্যানের ব্যাটারী বিষ্ফোরণের মাধ্যমে। এঘটনায় শেখ আলাউদ্দীন ও তার ভাই শেখ সালাহউদ্দিন ও শেখ আক্তার হোসেনের গোলা ভর্তি ধান, কাঠঘর, মেশিনঘর, পৃথক ৩টি ধানের গোলা সহ গৃহস্থলির প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র পুড়ে ভষ্মিভূত হয়ে যায়। ঘনবসতিপুর্ণ এলাকায় অগ্নিকান্ডের ঘটনা খুব দ্রুত প্রচার হয়ে যায় গ্রামে। স্থানীয়রা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা খুব দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয়। সে কারণেই শেখ আলাউদ্দীনের বসতঘর, প্রাচীরের পাশেই শেখ আব্দুর রহিম, শেখ এনায়েত হোসেন, শেখ শাহাজান হোসেন, শেখ জাহাঙ্গীর আলম সহ অনেকের বসতবাড়ি বড় ধরনের দূর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায়। সংবাদ পেয়ে কালিগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। রবিবার সকালে বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ রিয়াজ উদ্দীন ঘটনাস্থ পরিদর্শন করেছেন।

#

লোনা টেংরার পোনা উৎপাদন, নাসিং ও চাষ পদ্ধতি বিষয়ে চাষীদের উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত

সুকুমার দাশ বাচ্চু,কালিগঞ্জ ::

বে-সরকারি উন্নয়ন সাংস্থা সুশীলনের নির্বাহী পরিচালক মোস্তফা নুরুজ্জামানের উদ্যেগে টেংরা মাছের পোনা উৎপাদন ও বিপনন বিষয়ে এলাকার মৎস্য চাষীদের উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৭ জুলাই) সকাল ১০ টায় সুশীলনের টাইগার পয়েন্টে সুশীলনের সাইদুর রহমান মিন্টুর সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক ছিলেন সুশীলনের নির্বাহী পরিচালক মোস্তফা নুরুজ্জামান। তিনি মৎস্য চাষীদের উদ্দ্যেশে বলেন সাতক্ষীরা জেলার মুন্সিগঞ্জে ১শ বিঘা জমির উপর ২০০৯ সাল থেকে মৎস্য চাষ শুরু হয়। ২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশ মৎস্য গবেশনা ইন্সিটিটিউট লোনা পানি কেন্দ্র পাইকগাছা এর সার্বিক পরামর্শে উক্ত প্রজেক্টি পাইলট প্রকল্প হিসাবে টেংরা মাছের চাষ শুরু করি। পরবর্তিতে টেংরা পোনা উৎপাদনের মাধ্যমে আমি দক্ষিন পশ্চিম অঞ্চলের অবহেলিত জনপদের মানুষদের টেংরা মাছ চাষে উদ্বুদ্ধ করতে নিজ উদ্যোগে হ্যাচারী ও টেংরা মাছের চাষ করছি। এ চাষে ঝুঁকি কম, লাভ বেশি। সুতারং ছোট বড় ঘের ব্যবসায়ীরা সুলভ মুল্যে টেংরা মাছের পোনা এ প্রকল্প থেকে সংগ্রহ করতে পারবে। তিনি আরও বলেন ইতিপুর্বে এ অঞ্চলের মৎস্য চাষীরা বাগদা চিংড়ি চাষের পাশাপাশি তেলাপিয়া, মনোসেক্স, পাঙাশ, ভেটকি, কাঁকড়ার চাষে ঝুঁকে পড়লেও তেমন সফলতা পায়নি। তবে লোনা পানির টেংরা মাছ চাষে চাষীরা উপকৃত হবে। ডিমওয়ারা ও পুরুষ টেংরা মাছকে হরমন ইনজেকশনের মাধ্যমে পোনা উৎপাদন করা হচ্ছে এ প্রকল্পে। উদ্বুদ্ধকরণ এ সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষনা ইন্সিটিটিউটের পাইকগাছা লোনা পানি কেন্দ্রের ক্ষেত্র সহকারী খন্দকার শাকির হোসেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ সাইফুল বারী সফু, সাধারণ সম্পাদক সুকুমার দাশ বাচ্চু, সাংগঠনিক সম্পাদক এম হাফিজুর রহমান শিমুল, সাংবাদিক হাজী মুরাদ, সুশীলনের রিয়াজুল ইসলাম প্রমুখ। সভায় অংশগ্রহন করেন সুফলভোগী ৭৫ জন চাষী। উদ্বুদ্ধকরণ সভার পরে টেংরা চাষ প্রকল্পের পোনা উৎপাদন, প্রজেক্ট পুকুর পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনকালে ক্ষেত্র সহকারী খন্দকার শাকির হোসেন বলেন ডিমওয়ালা টেংরা মাছ থেকে হ্যাচারীতে প্রথম পর্যায়ে পোনা ফুটিয়ে এক সপ্তাহ রাখা হয়, এরপরে প্রজেক্ট পুকুরে ২১ দিন রাখা হয়। মাছের খাদ্য হিসাবে আয়ারল্যান্ডের ৪২% প্রোটিন খাদ্য সমৃদ্ধ খাবার সরবারহ করা হয়। এই প্রজেক্টে ৮ টি পুকুরে বর্তমান ১০ লক্ষ মাছের চাষ চলছে। আগামীতে এই প্রজেক্টের মাধ্যমে ৫০ লক্ষ মাছের তার্কেট রয়েছে। ১৫ দিনের ১ শত টেংরা পোনা ১ হাজার ৫ শত টাকা , ২১ দিনের ১ টেংরা মাছ ৮০ টাকা, যার হাজার ৮ শত টাকা এবং ৩০ দিনের টেংরা মাছ ১ শত ১ শত টাকা। ১ হাজার মাছের দাম ১ হাজার টাকা। তিনি আরও জানান, ১৫ টি মাছ ১ কেজি হলে তার দাম ৫ শ টাকা বাজারে বিক্রি হবে। ১ কেজি মাছ উৎপাদন খরচ হয় ২শ ৪০ টাকা। সবমিলে টেংরা মাছ চাষে ঝুঁকি কম। মাছের প্রদর্শনী পুকুর ও উৎপাদন কার্যক্রম দেখে উপস্থিত মৎস্য চাষি ও খামারিরা সন্তষ ও টেংরা মাছ চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

#