কালীগঞ্জে জমি জবরদখলে রাখতে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা !


780 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কালীগঞ্জে জমি জবরদখলে রাখতে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা !
এপ্রিল ১৮, ২০১৭ কালিগঞ্জ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

 

স্টাফ রিপোর্টার  ::
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে গায়ের জোরে জমি জবরদখলে রাখার জন্য এক হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্য আনন্দ কর্মকর নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। নিশানা ব্যর্থ হওয়ায় নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রেহাই পেয়েছেন ওই যুবক। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার নলতা হাসপাতালের পিছনে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ সন্ত্রাসীসহ তার ব্যবহৃত বন্দুকসহ আটক করেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় জনতা মীর আলমগীর হোসেনকে অস্ত্রসহ আটক করে পুলিশে দিয়েছে।
কালীগঞ্জ উপজেলার নলতা গ্রামের রবিন কর্মকার জানান, নলতা মৌজায় নলতা হাসপাতালের পিছনে এসএ ৮৯০ খতিয়ান, এসএ ৫৩১ দাগ ও হাল ৮১০ দাগের সাড়ে ছয় শতক জমি নলতা ইউনিয়নের কাশিবাটি গ্রামের সারাকাত মীরের ছেলে আলমগীর মীর ও তার ভাই বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর মীর নলতা গ্রামের অদ্বৈত কর্মকারের ছেলে নিরঞ্জন কর্মকার, প্রাণনাথ কর্মকার, ষষ্ঠী কর্মকার ও নিমাই কর্মকারের কাছ থেকে ১৯৮৩ সালে রেজিষ্ট্রি কোবালা মূলে কেনেন। এ ছাড়া কানাই কর্মকার ১৯৬৫ সালে ভারতে চলে গেছে মর্মে উল্লেখ করে ভিপি সম্পক্তি হিসেবে জালিয়াতির মাধ্যমে, বিয়ের আগে ১৯৭৪ সালে মারা যাওয়া কামদেব কর্মকারের সোয়া সাত শতক জমি ১৯৮৩ সালে জালিয়াতির মাধ্যমে তার ভাইপো প্রাননাথ কর্মকারের মাধ্যমে ও নিঃসস্তান যতীন কর্মকারের সম্পত্তি অদ্বৈত্য কর্মকারের ছেলেদের মালিক সাজিয়ে সাড়ে ৩৬ শতক জমির মালিক হয়ে আরো সাড়ে ১৩ শতক জমি গায়ের জোরে দখল করে আসছিল মীর আলমগীর হোসেন ও তার ভাই জাহাঙ্গীর মীর। জমির স্বত্ব বজায় রাখতে মীর আলমগীর হোসেন ২০১২ সালে দেওয়ানী আদালতে একটি মামলা দাখিল করেন। বিবাদী হিসেবে তারাসহ (রবিন) শরীকগন জবাব দেওয়ায় তড়িঘড়ি করে মামলা তুলে নেন মীর আলমগীর হোসেন। একপর্যায়ে সাতক্ষীরার অর্পিত সম্পত্তি ট্রাইব্যুনালে তারা বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন। ২০১৬ সালের আগষ্ট মাসে রায় মীর আলমগীর হোসেনের বিপক্ষে গেলে তারা (রবিন ও আনন্দসহ) ওই জমি দখলে যান।
রবিন কর্মকার আরো জানান, আদালতের রায় পাওয়ার পর ওই জমিতে নির্মিত ঘর সংস্কারের জন্য উদ্যোগ নিলে মীর আলমগীর হোসেন ও তার ভাই মীর জাহাঙ্গীর সন্ত্রাসীদের নিয়ে কয়েক বার বাধা দেন। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করে দেওয়ার কথা বললেও মীর আলমগীর পরে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
আদালতের রায় অনুযায়ি তাদের দখলে থাকা বাড়িঘর ও পানির হাউজ মঙ্গলবার সকালে তারা সংস্কার শুরু করেন। এ সময় সংস্কার কাজের দায়িত্বে থাকা পশ্চিম নলতার রাজমিস্ত্রী আলাউদ্দিন, সাইফুল ইসলাম ও আনছার আলীকে বাধা দেন মীর আলমগীর। বিষয়টি তারাসহ তাদের পরিবারের স্বজনরা জানতে পারায় ঘটনাস্থলে ছুঁটে এলে  মীর আলমগীর তাদেরকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। একপর্যায়ে সকাল সাড়ে আটটার দিকে নিজেদের বাড়ির দোতলা থেকে  দোনলা বন্দুক নিয়ে এসে তাকে (আনন্দ) লক্ষ্য করে গুলি করতে যায় আলমগীর। এ সময় স্ত্রী লিপি খাতুন বাধা দেওয়ায় ওই গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে তার(আনন্দ) মাথার উপর দিয়ে চলে যায়। এতে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যান তিনি। খবর পেয়ে স্থানীয়রা ছুঁটে এসে মীর আলমগীরকে বন্দুকসহ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আটককৃত মীর আলমগীর হোসেন জানান, তাদের জমিতে জোর করে পাকা ঘর নির্মাণ করতে গেলে স্থানীয় লোকজন ওইসব হিন্দুদের পক্ষে অবস্থান নেয়। বাধ্য হয়ে তিনি লাইসেন্সকৃত বন্দুক থেকে শূন্যে এক রাউন্ড গুলি ছোঁড়েন।
কালিগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক নিয়াজ মোহাম্মদ খাঁন জানান, আনন্দ কর্মকারসহ যারা নির্মান কাজ চালাচ্ছিল তাদেরকে বাধা দিতে মীর আলমগীর হোসেন তার লাইসেন্সকৃত ডবল বোরের বন্দুক থেকে(লাইসেন্স নং-১১৮) শূন্যে এক রাউন্ড গুলি ছোঁড়েন। এ ঘটনায় তাকে ওই বন্দুকসহ আটক করা হয়েছে। আনন্দ কুমার কর্মকার বাদি হয়ে মঙ্গলবার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
###