কুলিয়া লাবণ্যবতী নদীর কাঠের ব্রীজ পাকা করার দাবি এলাকাবাসীর


92 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কুলিয়া লাবণ্যবতী নদীর কাঠের ব্রীজ পাকা করার দাবি এলাকাবাসীর
জুন ১৭, ২০১৯ দেবহাটা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল আলম মুন্না ::

ভারত-বাংলাদেশকে বিভক্ত করেছে সীমান্তবর্তী ইছামতি নদী। আর ইছামতি নদীর একটি শাখা নদী লাবণ্যবতী। প্রবাহমান এই ছোট নদী যেটা সাতক্ষীরা সদর এবং দেবহাটা উপজেলাকে বিভক্ত করেছে। আর সাতক্ষীরা শহর হতে এর দুরত্ব ১২ কিলোমিটার। দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া নামক এলাকায় সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ মহাসড়কের নিজ দিয়ে একটি মাত্র পাকা ব্রীজ/ কার্লভাট রয়েছে যার উপর দিয়ে হাজার হাজার যানবহন চলাচল করে প্রতিদিন।
তার পাশেই হাফ কিঃ মিঃ পশ্চিমে শ্রীরামপুর বাজারের সাথেই কাঠ ও লোহা মিশ্রিত তৈরি একটি ব্রীজ রয়েছে। যেখান দিয়ে প্রতিদিন শতশত ছাত্র-ছাত্রীসহ নানা বয়সের লোকজন এপার ওপার আসা যাওয়া করে। অতি প্রয়োজনীয় এই ব্রীজটি কোন রকমে নড়বড়ে অবস্থায় টিকে রয়েছে। যেকোন সময় এই ব্রীজটি ভেঙ্গে পড়তে পারে বলে এলাকাবাসী জানান। শ্রীরামপুর বাজারে চায়ের দোকানে বসে থাকা সদরের বহেরা এলাকার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুর রাজ্জাক (৭০) সহ স্থানীয় কয়েকজন প্রবীন ব্যক্তি ও স্থানীয় কয়েকজন যুবক দুঃখ প্রকাশ করে বলেন আমরা বহুবছর ধরে দেখছি এই লাবন্যবতী নদীর উপর কাঠ আর লোহার তৈরি ব্রীজ কিন্তু আজও এর কোন পরিবর্তন দেখলাম না। বর্তমানে এই ব্রীজের অবস্থা এমন হযেছে যে কোন সময় এটি ভেঙ্গে পড়তে পারে। তারা বলেন আমাদের একটাই দাবি আমরা আধাকাচা আধাপাকা এই ব্রীজের পরিবর্তন চাই। আমরা এখানে পাকা ব্রীজ চাই। তানা হলে অনেক কষ্ট করে আমাদের সকলকে প্রায় ১ কিঃ মিঃ ঘুরে কুলিয়া হয়ে বাজারে আসা-যাওয়া করতে হয়। তারা বলেন এই বাজারের পাশেই শ্রীরামপুর ইউনাইটেড মডেল নামে একটি কলেজ রয়েছে এবং ওপারে কুলিয়ায় রয়েছে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। যার ফলে এপার এবং ওপারের অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রীরা পড়া-লেখা করতে আশা-যাওয়া করেত হয় প্রতিদিন। কিন্তু কাঠের এই ব্রীজটি ভাঙ্গা চোরা ও নড়বড়ে হওয়ায় নানাবিধ সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীসহ সকল বয়সের লোকজন। এলাকাবাসী আরও অভিযোগ করে বলেন স্থানীয় আ.লীগ ও বিএনপি নেতাদের গড়িমশি ও গাফিলতির কারনে এই ব্রীজের কোন উন্নয়ন হচ্ছে না। তারা বলেন এলাকার আ.লীগ-বিএনপি রেষা রেশির ফলে আমাদের এলাকা উন্নয়নে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। কেউ বলেন এটা দেবহাটা উপজেলা করবে, কেউ বলেন এটা সদর উপজেলা করবে এর থেকে আমরা মুক্তি চাই। অনতিবিলম্বে এখানে একটা পাকা ব্রীজের তৈরি হলে এলাকার সকল বয়সের বাসিন্দারা সহজেই পারপার হতে পারতো এবং এর সুফল বোগ করতে পারতো। তারা বলেন বর্তমানে যে ব্রীজটি রয়েছে তার উপর দিয়ে কেউ হেটে ছাড়া সাইকেল-মোটরসাইকেল বা ভ্যানগাড়ী নিয়ে আসতে পারে না, চলাচলে তাদের ভীষন সমস্যায় পড়তে হয়। মোঃ আঃ আজিজ গাজী নামের সাবেক ইউপি সদস্য (৭০) বলেন এই নদীতে আগে লঞ্চ চলাচল করতো। একটা পারাপারের ঘাটও ছিলো নৌকায় করে আমরা পার হতাম। পাকিস্থান আমলে এখানে একটি ষ্টীল ব্রীজ ছিলো যেটা ভেঙ্গে নিয়ে আশাশুনির কোন একটি খালে লাগিয়েছে। আমরা এলাকার অবহেলিত বাসিন্দা যারা ছোট এই ব্যীজটি পাকা দেখতে পারলামনা। কাঠের ব্রীজ হবার পর আমাদের তেমন কোন উপকার আসেনি। কারন এই ব্রীজের অধিকাংশ কাঠ ও লোহা জং ধরে মরিচা পড়ে খসে পড়ে নড়বড়ে অবস্থায় পরিনত হয়েছে। যার ফলে বৃদ্ধ নারী-পুরুষসহ সকল লোকজনের চলাচল করতে খুব অসুবিধা হচ্ছে। তাছাড়া এই ব্রীজ দিয়ে পার হতে যেয়ে অনেক ছাত্র-ছাত্রীরা নিচে পড়ে মারাত্মক আহত হয়েছে। ভাঙ্গা এই কাঠের ব্রীজের উপর দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার সাধারন লোকজন হাট বাজারে আসে যায়। এছাড়া স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা সবাই আতংকে চলাচল করে। কখন জানি ব্রীজটি ভেঙ্গে পড়ে। নড়বড়ে এই ব্রীজটি অতিসত্তর পাকা ব্রীজে পরিনত করতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন এলাকাবাসী।

#