কুয়েট শিক্ষকের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তদন্ত কমিটি, আগের কমিটি বাতিল


157 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কুয়েট শিক্ষকের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তদন্ত কমিটি, আগের কমিটি বাতিল
ডিসেম্বর ৪, ২০২১ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক মো. সেলিম হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় পাঁচ সদস্যের নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার রাতে এই কমিটি গঠন করা হয়। একই সঙ্গে গত ৩০ নভেম্বর গঠিত প্রথম তদন্ত কমিটি বাতিল করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. আনিছুর রহমান ভূঞা হোসেন বলেন, কুয়েটের জরুরি সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অধ্যাপক মো. সেলিম হোসেনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্র জানায়, নতুন তদন্ত কমিটিতে ইইই বিভাগের অধ্যাপক মহিউদ্দিন আহমাদকে সভাপতি ও গণিত বিভাগের অধ্যাপক মো. আলহাজ উদ্দীনকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। কমিটিতে কুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং (সিই) বিভাগের অধ্যাপক খন্দকার মাহবুব হাসান, খুলনা জেলা প্রশাসকের একজন প্রতিনিধি (ন্যূনতম নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পদমর্যাদার) ও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কমিশনারের একজন প্রতিনিধিকে (ন্যূনতম সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার) সদস্য করা হয়েছে।

অধ্যাপক মো. সেলিম হোসেনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এ কমিটির সভাপতি ছিলেন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. আরিফুল ইসলাম। কমিটির অপর দুইজন সদস্য ছিলেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক আতাউর রহমান ও ইইই বিভাগের অধ্যাপক কল্যাণ কুমার হালদার। তাদের মধ্যে কল্যাণ কুমার হালদার লিখিতভাবে এবং মো. আরিফুল ইসলাম মৌখিকভাবে তদন্ত করতে অপারগতা জানিয়েছিলেন। পরে বৃহস্পতিবার বিকেল চারটায় জরুরি সিন্ডিকেট সভার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই ওই জরুরি সভা মুলতবি করা হয়।

শুক্রবার সকালে মো. সেলিম হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় দ্বিতীয় দিনের মতো সিন্ডিকেট বৈঠক শুরু হয়। সভায় ৩ থেকে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে শুক্রবার বিকেল চারটার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার ইইই বিভাগের অধ্যাপক ও লালন শাহ হলের প্রাধ্যক্ষ সেলিম হোসেন (৩৮) ক্যাম্পাসের পাশের ভাড়া বাসায় মারা যান। ছাত্রলীগের কিছু নেতা-কর্মীর মানসিক নিপীড়নের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি এবং অধ্যাপক সেলিমের পরিবার এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করেছে।

একটি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বাসায় ফেরার পথে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অধ্যাপক সেলিমকে বিভাগে তার কক্ষে নিয়ে গিয়ে তার ওপর মানসিক নিপীড়ন চালায়।